,

টেকনাফে প্রেমের সম্পর্কের জের : প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত-৪ নরনারী

নিজস্ব প্রতিনিধি : টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের হাতিয়ার ঘোনা এলাকায় পূর্ব শক্রুতার জেরধরে প্রতিপক্ষের হামলায় গৃহবধূ রক্তাক্ত হয়ে গুরুতর জখমী করার অভিযোগ উঠেছে। উক্ত ঘটনায় একই এলাকার আবদুর রহমান এর লোকজন প্রতিবেশী ফজল আহমদ ও তার স্ত্রী গুরতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে- গত রবিবার (১১ জুলাই ) সকাল ১০ টার উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাতিয়ার ঘোনা এলাকার আবদুর রহমান ও তার সহযোগিরা ফজল আহমদ এর স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় অশ্লীল গালিগালাজ ও প্রান নাশের হুমকি দিতে থাকে।  এসময় ফজল আহমদ এর বয়োবৃদ্ধ স্ত্রী মাহমুদা অহেতুক গালিগালাজ না করিতে অনুরোধ করলে আবদুর রহমান এর লোকজন তার হুকুমে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাদের হাতে থাকা রামদা, লোহার রড, ছুলফি, লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে ফজল আহমদ এর বসত ভিটায় প্রবেশ করিয়া মাহমুদা  বেগম কে এলোপাতাড়ি মারধর করিয়া রক্তাক্ত জখম করে এবং একপর্যায়ে মাহমুদা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সে মারা গিয়েছে এমন সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফজল আহমদ ও তার সন্তানরা এগিয়ে আসলে আবদুর রহমান,  তার স্ত্রী ফাতেমা সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হতে থাকে এতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়।

এবিষয়ে ফজল আহমদ জানান, কয়েক বছর পূর্বে তার মেয়ের সাথে আবদুর রহমান এর পুত্র ছৈয়দ নুরের প্রেমের সম্পর্ক হয়। যা স্থানীয় লোকজন অবগত আছে তাদের সম্পর্কের পর ফজল আহমদ সঠিক প্রতিকার চেয়ে টেকনাফ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করে।  পরে ছৈয়দ নূর একজন নারী লোভী, লম্পট ও মাদকাসক্ত চিহ্নিত হওয়ায় ফজল আহমদ এর কন্যা তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক প্রত্যাখান করে এবং তাকে বিয়ে করতে রাজী হয় নি। তখন থেকে  আবদুর রহমান এর পরিবার স্থানীয় ভাবে তুলনামূলক প্রভাবশালী ও সুচতুর হওয়ায় ফজল আহমদের পরিবার কে অহেতুক হয়রানি করতে থাকে। ১১ জুলাই (রবিবার)  ও ওই ঘটনার জের ধরে ঘটনা ঘটিয়েছে তার স্ত্রী মাহমুদা কে মারধর করে মাথা ফেটে দেয় এবং অন্যান্যদের গুরুতর আহত করে তারা এমনটাই দাবী ফজলের। ফজল আহমদ আরও জানান তার পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আবদুর রহমান বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ পরিবেশন করে মূল ঘটনা আড়ালের পাঁয়তারা করছে।

আবদুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান

ফজল আহমদ এর এক কন্যাকে তার কিশোর পুত্র ছৈয়দ নূরকে বিবাহের প্রস্তাব করে। তারা মাদক কারবারি ও ছেলে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। তখন থেকে গেল কয়েক বছর উভয় পরিবারের মাঝে মনোমালিন্য চলে আসছিলো। এক সময় বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একাধিক বার শালিস বৈঠক ও হয়। তার ছেলে অন্যত্রে বিয়ে করায় তারা নতুন ভাবে ষড়যন্ত্র করে তাদের হয়রানি করছে এবং তার পরিবারে হামলা চালিয়ে স্ত্রী ফাতেমা কে গুরুতর আহত করেছে মর্মে অভিযোগ তুলেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক মুরব্বি জানান, ফজল আহমদ এর অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের সাথে আবদুর রহমান এর ছেলে ছৈয়দ নূরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং দুইজনই বিয়ে করার প্রস্তুতি নেয়। ছৈয়দ নুরের পরিবার গরীবের মেয়ে বলে প্রেমিকাকে পুত্রবধূ হিসাবে মেনে না নিয়ে প্রতিবেশী গ্রামের এক মেয়ে কে গোপনে বিয়ে করে। ফজল আহমদ এর মেয়েকে কলংকিত করে উল্টো তাকে হয়রানি করে আসছে আবদুর রহমান এর পরিবার। এরই জের ধরে প্রায় সময় উভয় পরিবারে ঝগড়া লেগে থাকে।  ওইদিন ওই ঘটনার ইতি টেনে তর্কাতর্কি করে উভয় পক্ষে লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষ করে এতে ৪/৫ জন গুরুতর আহত হয়েছে।

ফজল আহমদ উক্ত ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায়।

এ ব্যাপারে টেকনাফ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান  জানান, হামলাকারী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*