,

ক্যাপিটল হিলে হামলা চেষ্টা, নিহত ২

ডেস্ক নিউজ :

আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ‘সহিংস এ হামলার খবর জানতে পেরে হৃদয় ভেঙে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি নিহত পুলিশ অফিসারের পরিবারের সদস্য ও তার মৃত্যুতে যারা বেদনাহত তাদের সবার প্রতি হৃদয় নিঙরানো শোক জানিয়েছেন। একই রকম মন্তব্য করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ডেমোক্রেট ন্যান্সি পেলোসি। তিনি নিহত পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘গণতন্ত্রের জন্য শহীদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

শোক প্রকাশ করেছেন ডেমোক্রেটিক সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা চাক শুমার ও রিপাবলিকান সিনেট সংখ্যালঘু নেতা মিশ ম্যাককনেল। পুলিশ বলেছে, তাদের নিরাপত্তা বেষ্টনি অতিক্রম করে একটি গাড়ি ভিতরে প্রবেশ করে। এর আগে ওই গাড়ির চালক ছুরিকাঘাত করে পুলিশ অফিসারদের। ফলে পুলিশ কর্মকর্তারা সরাসরি তার দিকে গুলি ছোড়েন। এতে ওই হামলাকারী নিহত হয়েছে। ৬ই জানুয়ারি ভয়াবহ হামলার তিন মাস পরে এ হামলা হলো। তবে দৃশ্যত এ হামলার সঙ্গে সন্ত্রাস সম্পর্কিত কোনো যোগসূত্র নেই বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার পর পরই আবার ক্যাপিটল হিল ভবন লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। হামলার পর ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তা রবার্ট কোন্টি বলেছেন, হামলাকারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য যার ওপরই হামলা করুক না কেন, আমরা তার শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে চাই এবং তা করবো। এটা আমাদের দায়িত্ব। ক্যাপিটল পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান যোগেন্দ পিটম্যান বলেছেন, আমাদের একজন অফিসার আহত হয়ে মারা গেছেন। এ কথা বলতে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। পরে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম উইলিয়াম বিলি ইভান্স বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ১৮ বছর ধরে তিনি ক্যাপিটল পুলিশে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি এই বিভাগের প্রথম রেসপন্ডেন্ট ইউনিটের অংশ ছিলেন।  তদন্তের সঙ্গে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুটি সূত্র বলেছেন, হামলাকারী ২৫ বছর বয়সী একজন যুবক। তার নাম নোয়া গ্রিন। তার বসতি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায়। তার সম্পর্কে পুলিশের কাছে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওদিকে মধ্য মার্চে বর্তমানে ফেসবুকে বিলুপ্ত এক পেইজে নোয়া গ্রিন লিখেছিল, সম্প্রতি চাকরি ছেড়েছে সে। মানসিক পরিতাপে সে এ কাজ করেছে। একই সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার সন্ধানের জন্য এটা করেছে বলে জানিয়েছে। আরো লিখেছে, অজ্ঞাত কিছু ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগছিল গ্রিন। এ ছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ধর্মীয় সংগঠন নেশন অব ইসলামের প্রতি তার খুব আগ্রহ আছে বলে লিখেছিল।  ওদিকে বিলুপ্ত ওই পেইজটি নোয়া গ্রিনের ছিল বলে নিশ্চিত করেছে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র।
এ হামলার পর ক্যাপিটল হিল ভবনকে ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে এ ঘটনা ঘটেছে তার চারপাশকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে কংগ্রেসে চলছে অবকাশকালীন ছুটি। ফলে হামলার সময় এর ভিতরে খুব বেশি রাজনীতিক উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় সময় দুপুর একটায় ক্যাপিটাল পুলিশের এলার্ট সিস্টেম আইনপ্রণেতা এবং তাদের স্টাফদের কাছে একটি ইমেইল পাঠায়। তাদেরকে বাইরের দিকের জানালা এবং দরজা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। ভবনের বাইরে কেউ থাকলে তাকে বা তাদেরকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়। তখনই একটি নীল রঙের সিডান গাড়ি গালিয়ে নর্থ ব্যারিকেডে দ-ায়মান দু’জন পুলিশ অফিসারের দিকে যায় হামলাকারী। গাড়ি থেকে নেমে পড়ে সে। পুলিশ সদস্যদের পিছু পিছু দৌড়াতে থাকে। এ সময় তাদের একজন অস্ত্র বের করেন এবং হামলাকারীকে গুলি করেন। এর আগেই সে ছুরিকাঘাত করে পুলিশ অফিসারদের। তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়। একজনকে একটি এম্বুলেন্সে, অন্যজনকে পুলিশ ক্রুজারে করে নেয়া হয়। ঘটনাস্থলের ফুটেজে দেখা যায়, মাথার ওপর দিয়ে এ সময় একটি হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছে। এক পর্যায়ে দেখানো হয় দু’জন মানুষকে স্ট্রেচারে করে এম্বুলেন্সে উঠানো হচ্ছে।  প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে সঙ্গে এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়। পুলিশ বলেছে, হামলাকারী তার ক্ষতের কারণে বেলা দেড়টার সময় মারা গেছে। পুলিশ প্রধান কোন্টি বলেছেন, হামলাকারী একাই এই হামলা চালিয়েছিল বলে মনে হচ্ছে। এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস বলেছে, তারা ক্যাপিটল পুলিশকে সার্বিক সাপোর্ট দিচ্ছে তারা।
উল্লেখ, তিন মাসের বেশি সময় ধরে ক্যাপিটল হিলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ৬ই জানুয়ারি সেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা নৃশংস হামলা চালানোর পর এমন অবস্থা বিরাজ করছে। কমপ্লেক্সের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। ধাতব বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। তার মধ্যে কিভাবে এমন হামলা করার সাহস পেয়েছে হামলাকারী তা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*