,

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমান উল্লাহ কবির :
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে শিকার উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি।
আজ বুধবার (২৪ মার্চ) হেলিকপ্টারে করে তিনি বালুখালীতে পৌঁছেন। এরপর পুড়ে যাওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
সোমবার (২২) মার্চ বিকাল ৪টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডেরর সূত্রপাত হয়। এতে নিঃস্ব হয়েছে ৯ হাজার ৩০০ পরিবারের প্রায় ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা।
একশত ছত্রিশটি লার্নিং সেন্টার এবং দুইটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অগ্নিকাণ্ডে ১১ জনের প্রাণহানির খবর প্রাথমিকভাবে পাওয়া গিয়েছে।
এ ঘটনায় প্রায় সাড়ে পাঁচশ আহত হয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছে আইএসসিজি।
ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গাদের যাতে অন্ন ও বাসস্থান নিয়ে কোন প্রকার সমস্যার সৃষ্টি না হয় সে লক্ষে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান, এমপি রোহিঙ্গা ক্যাম্পসূহ পরিদর্শন করেছেন। উক্ত পরিদর্শনে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহ অবলোকন করেন এবং কক্সবাজার র‌্যাব-১৫
এর উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গাদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেছেন। এসময় সাইমুম সরোয়ার কমল এমপি, সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়কসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে কি কারণে এমন দুর্ঘটা ঘটলো তা তদন্তে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বর্তমানে এদের অধিকাংশই তাঁবু খাটিয়ে এবং অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩৮০০ রোহিঙ্গা পরিবারকে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও রেডক্রিসেন্টসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ২৩ মার্চ দুপুর থেকে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে আট সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করে দিয়েছে। তিন দিনের মধ্যেই তারা রিপোর্ট জমা দেবে। ত্রাণ মন্ত্রণালয় জরুরি সহায়তা হিসেবে ১০ লাখ টাকা ও ৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সারা বিশ্ব মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মায়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক সৃষ্ট বিশাল এক মানবিক সংকট প্রত্যক্ষ করে। সহিংস হামলায় মায়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বাড়িঘড় পুড়িয়ে দেয় এবং হত্যা, ধর্ষনসহ অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। সহিংস হামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে পাড়ি জমায়। ঐ সময় নজিরবিহীন এক রোহিঙ্গা ঢলে আট লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের অনেক প্রশংসাও কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। ঐ সময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ সিভিল প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগীতা এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*