,

ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না টেকনাফের লবণ চাষীরা

মোহাম্মদ হোসাইন আমিরী:

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ,মহেষখালী ও কুতুবদিয়ার ৮০% মানুষের আয়ের উৎস হচ্ছে লবণ, অথচ কতিপয় সিন্ডিকেটের কারণে আজ সেই লবণ শিল্প ধ্বংসের পথে।

টেকনাফসহ উপকুলীয় বিভিন্ন উপজেলায় লবণের মোকামে লবণ থাকার পর ও বিদেশ থেকে লবণ আমদানীসহ নানা কারণে দিন দিন মূল্য কমে যাচ্ছে লবণের। ধ্বস নেমেছে লবন বিক্রিতে। এতে করে সংকটে পড়েছে প্রান্তিক লবণ চাষীরা।

কক্সবাজারের টেকনাফ সাগর উপকূল। যেখানে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে চলছে লবণ চাষ। কেউ মাঠ তৈরীর কাজে ব্যস্ত আবার কেউ সমুদ্রের লবনাক্ত পানি জমিয়ে লাগাচ্ছেন সূর্যের তাপ। যে তাপে পানি শুকিয়ে তৈরী হয় লবণ।

তবে নানা প্রক্রিয়া আর ঘামঝড়ানো শ্রমে যে লবণ উৎপাদন হচ্ছে তার দাম নিয়ে এখন চরম হতাশ লবণচাষীরা।এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের ৫৫ হাজার চাষীসহ ৫ লাখ মানুষ। যারা দেশের মানুষের লবণের চাহিদা মিটিয়ে জীবন-যাপন করে থাকে।

প্রায় ৬২ হাজার একর এলাকাজুড়ে অবস্থিত এই শিল্প কক্সবাজারের টেকনাফসহ উপকূলীয় উপজেলায় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ভাল নেই লবণ শিল্পের সাথে জড়িতরা। লাগামহীনভাবে লবণের দাম কমে যাওয়ায় খুবই ক্ষতিগ্রস্থ লবণচাষীরা।

চাষিদের প্রতি কেজি লবণ উৎপাদনে খরচ হয় ৬-৭ টাকা। আর তা মিল মালিকদের কাছে বিক্রি করতে হয় ৪ টাকা কেজি করে। আবার একই লবণ সিন্ডিকেটের হাত বদলে, আয়োডিনযুক্ত প্যাকেটজাত হয়ে, ব্রান্ড লাগিয়ে বাজারে বিক্রি হয় ৪০ টাকা কেজি।এতে লাভ’ত দুরের কথা গুনতে হয়েছে লোকসান। এ ক্ষতি’র জন্য চাষীরা দায়ী করছেন অসাধু মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ও চাহিদা পূর্ণ থাকার পরেও বিদেশ থেকে লবণ আমদানিকে। এ অবস্থায় প্রান্তিক লবণ চাষী ও মালিকদের দাবী লবণের মূল্য আগের মতই রাখা হউক। যাতে করে লবণ শিল্প বেঁচে থাকে আর এই শিল্পের সাথে জড়িতরা রক্ষা পায়।

গত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে মণ প্রতি লবণের দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪’শ থেকে ৪’শ ৫০ টাকায়। ২০১৮-২০১৯ সালে অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা থেকে ১৯০ টাকায়। ২০১৯-২০২০ সালে অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮০ টাকা থেকে ১৭০ টাকায়।

২০২০-২০২১ সালে অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায়। কিন্তু মাঠে মণ প্রতি লবণ উৎপাদনে খরচ পড়ছে ৩’শ টাকা।

টেকনাফের প্রান্তিক লবণ চাষীরা জানান, মণ প্রতি ৫’শ টাকা থাকা লবণ ১৬০ টাকায় নেমে যাওয়ায় আমরা খুব কষ্টে আছি। আমি ঋণ নিয়ে এ চাষ শুরু করছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঋণ শোধ করতে পারিনি। অসাধু মি’ল মালিকরা সিন্ডকেট করে লবণের দাম কমিয়ে ফেলেছে। আর চাহিদা পূর্ণ থাকার পরেও বেশি লাভের আশায় বিদেশ থেকে তারা লবণ আমদানি করে দেশি লবণের সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।

কক্সবাজারের ৭ উপজেলা টেকনাফ,কক্সবাজার সদর, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ ৫৫ হাজার লবণ চাষীর পাশপাশি এ শিল্পের সাথে ৫ লাখ মানুষ‌ জড়িত। তাদের একমাত্র আয়ের উৎস লবণ চাষ। তাই লবণ চাষী ও মালিকদের ন্যায্যমূল্য প্রদানের মাধ্যমে বাচিঁয়ে রাখতে তারা দ্রুত সময়ে লবণের নায্য মুল্য নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*