,

হামলার নাটক সাজিয়ে সাবরাংয়ে বাদীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্ঠা !

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টেকনাফ উপজেলার সাবরাং সিকদার পাড়া এলাকায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে দু‘পক্ষের সংঘর্ষে মামলা দায়ের কে কেন্দ্র করে বাদী পক্ষকে হয়রানী করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে বিবাদী পক্ষ অভিযোগ বাদীর। এরই মাঝে বিবাদী ওমর ফারুককে হামলার নাটক সাজিয়ে বাদী পক্ষের লোকজনকে মিথ্যা মামলায় আসামী করে পূর্বেও ঘটনাকে ভিন্নদিকে রুপ দেওয়ার চেষ্ঠা করছে বলেও জানায় তারা। এনিয়ে চলছে এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা।
সুত্র মতে, ৪ ফেব্রয়ারী সকালে সাবরাং সিকদার পাড়া এলাকায় মাও: আবদুল গফুর এর মালিকানাধীন জমি একই এলাকার মো: সিরাজ ও ওমর ফারুক এর নেতৃত্বে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে জমির মালিক মাও: আবদুল গফুর, পুত্র হেলাল উদ্দিন, মো: ফয়েজ গুরুতর আহত হয়। এঘটনায় একই এলাকার মৃত জহির আহমদেও পুত্র নাজির(৩৫), নুরুল আমিন(৪০), জাফর (৩৭), জাহেদ হোসন (৪৫), নবী হোসনের পুত্র সিরাজ(৩২), হোসনের পুত্র ফারুক(২৮), নাজির হোসেনের পুত্র এহসান (১৮), নুরুল আমিনের পুত্র রবিউল (২০), আমিরের পুত্র জামাল (২৪), নাজির হোসেনের পুত্র মুসন(৪০) সহ অজ্ঞাত ৪জনের বিরুদ্ধে হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দয়ের করা হয়। মামলা নং- ১১, তারিখ-: ০৫/০২/২০২১ইং। মামলার দায়েরের পর টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মৃত জহির আহমদের পুত্র নাজির(৩৫) আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। এর পর থেকে আসামীরা বাদী পক্ষকে মামলা প্রত্যাহার ও জমির দখল ছাড়িয়া দিতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদর্শন করিয়া প্রানে হত্যা করিবে বলে হাঁকাবকা করার অভিযোগ করছে বাদী। আসামীদের বাঁধা ও প্রানে হত্যার ভয়ে বাদীর লিয়ার মুরগীর ফার্মে খাদ্যসরবাহ ও পরিচর্চা করিতে না পারায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকা মুল্যের প্রায় একহাজার লিয়ার মুরগী মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পূর্বের ঘটনায় দায়েরকৃত মামার ১নং আসামী নাজির জামিনে মুক্ত হয়ে ২৩/০২/২০২১ ইং তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাদীর বসত বাড়ীতে দেশীয় ভারী অস্ত্র, দা-কিরিচ, লোহার রড নিয়া অতর্কিত বাড়ীতে অনাধিকার প্রবেশ করিয়া হামলা ও বাড়ীর দরজা, জানালার কাঁচ ভাংচুর চালিয়ে লুটপাট করিয়াছে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার। হেলাল উদ্দিনের মাতা লায়লা বেগম জানান, ওইদিন সন্ধ্যা তার স্বামী মাও: আবদুল গফুর চিকিসা শেষে বাড়ীতে আসার খবর পেয়ে তার বিবাহিত মেয়ে শ্বশুর বাড়ী হতে পিতাকে দেখতে আসে, এসময় নাজিরগং বসতবাড়ীতে প্রবেশ করিয়া তার ব্যবহৃত ৫ভরি ওজনের স্বর্ণলংকার চিনিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। ভুক্তভোগী মাও: আবদুল গফুর জানান, নাজিরগংয়ের সাথে একটি জমিকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার শালিস বৈঠক হয়। শালিসে তার পক্ষে রায় হলেও নাজিরগং স্থানীয় শালিসকে অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চলায়। ৪ ফেব্রুয়ারী সকালে তারা অস্ত্র নিয়ে জমি দখল করতে আসলে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। তিনি চিকি‘সা শেষে বাড়ীতে আসিলে আসামীরা আবারও তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ীতে রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে, ভাংচুর, ও লুটপাট করে তার মেয়ের ৫ভরি ওজনের স্বর্ণলংকার জোরপূর্বক চিনিয়ে নিয়ে ঠেনে হেঁচড়ে, দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে, লাথি, কিল ঘুষি মেরে বাড়ীতে থাকা লোকজনদের বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দখলে নিয়ে নেয়। তিনি দুংখের সাথে বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারী বিকালে মৌলভী পাড়া এলাকায় বিবাদী ওমর ফারুককে হামলার নাটক সাজিয়ে পূর্বের দায়েরকরা মামলা ভিন্নদিখে নেওয়ার অপচেষ্ঠা করছে। এবং তার বাড়ী ও বাগানের গাছপালা কেটে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করছে বলে দাবী করেন। একপর্যায়ে তিনি কন্নাজড়িত কন্ঠে বলেন আসামীরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড়ীতে থাকা সদস্যদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দখলে নিয়ে নেয়। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গৃহিণী লায়লা বেগম বলেন, ২৩ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেশীয় ভারী অস্ত্র, দা-কিরিচ, লোহার রড নিয়া নাজিরগং অতর্কিত ভাবে আমার বাড়ীতে অনাধিকার প্রবেশ করিয়া হামলা ও বাড়ীতে ভাংচুর চালিয়ে লুটপাট চালাই। এসময় শ্বশুর বাড়ী হতে আহত পিতার খোঁজ নিতে আসা আমার মেয়ের গলায় থাকা ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণে গলার হার, ১ভরি ওজনের কানের দূল ও ৮ আনা ওজনের ২টি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেই এবং বাড়ীর বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর করিয়া লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি করিয়া আমাদেরকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হত্যার ভয় দেখিয়ে বাড়ী হতে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। বর্তমানে তাহারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় রয়েছে বলে জানা যায়। তিনি আরো বলেন আসামীদের অব্যাহত হুমকি দমকিতে আমি ও আমার পরিবার পরিজন মারাত্মক উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছি। এব্যাপরে আইনশৃংখলা বাহিনী ও স্থানীয় চেয়ারম্যনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে আসামি  মাহসিন এর দাবী মাওলানা আবদুল গফুর এর সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন।

এনিয়ে উভয়ের মধ্যে আরো বড় ধরনের সংঘর্ষ হওয়ার আশংকা করছে স্থানীয় সচেতন মহল।  তারা আইন শৃংখলা বাহিনীর ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*