,

জন্মনিবন্ধনের প্রত‍্যয়নে হয়রানির অভিযোগ

মহেশখালী প্রতিনিধি:
মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক এবং ৩,৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী শারাবান তাহুরার বিরুদ্ধে অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের জন‍্য প্রত‍্যায়নপত্রে স্বাক্ষরে টাকা দাবী ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক এবং ৩,৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের সাস্থ্য সহকারী, ইউনিউয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা মনজুরুল আলমের কন্যা শারাবান তাহুরা অনলাইন জন্মনিবন্ধনের জন‍্য প্রত‍্যায়নে সাক্ষর বাবদ টাকা দাবী করছেন। প্রতিটি প্রত‍্যায়নে সাক্ষর বাবদ নিচ্ছেন ১০০, ২০০ অথবা ৫০০ টাকা। তাও আবার অযথা সময় বিলম্ব কিংবা দীর্ঘ কয়েকদিন হয়রানির পর।

এমনই অভিযোগ করেছেন ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলী প্রকাশ কালা বদ (পিতা- জোনাফ আলী )।

তিনি বলেন, আমি প্রত‍্যায়নে সাক্ষরের জন‍্য সাস্থ্য সহকারী শারাবান তাহুরার কাছে গেলে বিনা কারণে দীর্ঘক্ষণ বিলম্ব করেন। এরপর প্রত‍্যায়নে সাক্ষর দিতে রাজি হলেও টাকা ছাড়া সাক্ষর দিতে অসম্মতি প্রকাশ এবং আমার সাথে খারাপ ব‍্যাবহার করেন। পরেশেষে ৫০০ টাকা দেওয়ার পর প্রত‍্যায়নে সাক্ষর করেন।

একই ওয়ার্ডের লবণ চাষী আব্দু সালামের পুত্র গিয়াস উদ্দীনের একই অভিযোগ।

তিনি বলেন, আমি তার কাছে প্রত‍্যায়নে সাক্ষরের জন‍্য গেলে আমাকে কয়েকদিন সময় ক্ষেপণ করার পর প্রথমে ১০০ টাকা দিয়ে একটি প্রত‍্যায়নে সাক্ষর করলেও দ্বিতীয় প্রত‍্যায়নে সাক্ষর বাবদ আরো ১০০ টাকা দাবী করেন। অবশেষে আমি বাড়ি গিয়ে ১০০ টাকা এনে দ্বিতীয় প্রত‍্যায়নে সাক্ষর নিই।

ওই স্বাস্থ্য সহকারীর বিরুদ্ধে আরো অনেকের একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে একিই ধরনের হয়রানি তথা সাক্ষর বাণিজ্য!

মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, যাদের ২০০০ সালের আগে জন্ম এবং কোনো বোর্ড পরীক্ষার সনদ এর ফটোকপি/ পাসপোর্টের ফটোকপি/আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং এলাকার জনপ্রতিনিধী যেমন-ওয়ার্ড কমিশনার/ ইউনিয়ন পরিষদ/ পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক নাগরিকত্ব সনদ এর ফটোকপি নেই কিংবা যাদের বয়স ৫ বছরের বেশি- অনলাইনে তাদের জন্ম নিবন্ধনের জন‍্য স্থানীয় সাস্থ্য কর্মীর প্রত‍্যায়ন পত্রের প্রয়োজন। বাকিদের টিকা কার্ড থাকলেই হবে। প্রত‍্যায়ন পত্রে সাক্ষর বাবদ কোনো ধরনের টাকা পয়সা নেওয়ার নিয়ম নেই। সাস্থ্যকর্মী শারাবান তাহুরার বিষয়ে আনিত অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে ব‍্যাবস্থা নেওয়া হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত ৩ বছর যাবত কক্সবাজার জেলার ৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৪টি পৌরসভায় জন্মমৃত্যু নিবন্ধন সনদ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হলেও বিভিন্ন ভোগান্তির শিকার জনগন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*