,

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘর বণ্টনে টাকা আদায়: টেকনাফে নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ষ্টাফ রিপোর্টার্স:
টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে নির্মাণ করা ঘর বণ্টনে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এক মৎস্যজীবী নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সিফাত বিন রহমান বাদী হয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে এজাহারভুক্ত আসামি করে প্রতারণার অভিযোগে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৭০। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সাব ইন্সপেক্টর মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আসামীকে দ্রুত তাকে আটক করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যে কোন মুল্যে তাকে আটক করা হবে।
জাহাঙ্গীর বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির হ্নীলা মৌলভীবাজার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি এবং হ্নীলার মৌলভীবাজারের আজিজুল হকের ছেলে।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সরকারি এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিকু । আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে ।’
এর আগে, ১৬ জানুয়ারি হ্নীলার সংবাদকর্মী মোঃ শেখ রাসেল নামে একজনের ফেইসবুক পেইজের স্ট্যাটাস “মুজিববর্ষ উপলক্ষে গরীব মানুষকে দেওয়া ঘরগুলো দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজারের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে”
ও এর পর বিভিন্ন সংবাদ ও সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ‘টাকা ছাড়া মিলছে না ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার নির্মাণ করা ঘর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে পরের দিন ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। তদন্ত শেষে সোমবার চার পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন উপজেলা প্রশাসনকে জমা দেয় কমিটির আহ্বায়ক হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, প্রধানমন্ত্রী উপহারের ঘরে দুর্নীতির ঘটনাটি আমরা খুবই স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করেছি। নিউজে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা পেয়েছি আমরা। তাছাড়া প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষকে জমা দেওয়া হয়েছে।’
টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ‘মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর’-এ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনা তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সংবাদের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরই সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পটি আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এখানে কেউ অনিয়ম দুর্নীতি করলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*