,

টেকনাফ পৌরসভার রূপকার অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী; স্বপ্নটা আমার-জাবেদ ইকবাল চৌধুরী

zabed-scaled.jpg

জাবেদ ইকবাল চৌধুরী :

টেকনাফ পৌরসভা। ছোট্ট এই শহরটি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছিলাম আমি । তখন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী স্যার সদ্য এমপি নির্বাচিত হলেন। খুব সম্ভবত ১৯৯৭ সালের দিকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এ নির্বাচন নিয়ে টেনশন ছিল টেকনাফ আওয়ামী লীগে। কে হবেন বৃহত্তর টেকনাফ ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী। ওই সময়ে চেয়ারম্যান ছিলেন এজাহার মিয়া কোং। ওনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী স্যারের জন্য কাজ করেন। অন্য দিকে আগের ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, বৃহত্তর টেকনাফ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ শফি মেম্বার। দু জনই এমপি সাহেবের আনুকূল্য চায়। কিন্ত অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী স্যার কোন দিকে যাবেন। তখনই আমি সুযোগটি কাজে লাগানোর জন্য মো: আলী স্যারকে জানালাম। টেকনাফের একটি অংশকে পৌর সভা ঘোষণা করে এর সহজ সমাধান করা যায়। কিন্ত তিনি কেন জানি ওই সময় সেই উদ্যোগ নেন নি। যথারীতি নির্বাচন হলো। মোঃ আলী স্যার আওয়ামী লীগের সভাপতি শফি মেম্বারের পক্ষে অবস্থান নিলেন। কিন্ত নির্বাচনে এজাহার কোং বিজয় হলো। এরপর সরকারি সফরে আসা বিভিন্ন মন্ত্রী ও দায়িত্ব শীলদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে টেকনাফকে পৌর সভা ঘোষণা করার জন্য স্মারক লিপি দেওয়া অব্যাহত রাখলাম। ওই সময়ের কক্সবাজার জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী, চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান মুক্তিযোদ্ধা ইন্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাহেব টেকনাফ সফরে আসলে ওনাকেও স্বারক লিপি দিলাম। সবকিছুই মো: আলী স্যারকে জানিয়ে রাখতাম। ওনার মৌন সম্মতি আমার সব কাজে অবারিত ছিল। ২০০০ সালের জুন মাসে একদিন সত্যি পৌর সভা ঘোষণা করে সরকার। এর আগে ওই সময়কার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বসুকে সাথে নিয়ে মোঃ আলী স্যার নিজের সাদা মাইক্রোটি নিয়ে আমিসহ পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ড এবং সীমানা চিহ্নিত করার কাজ তদারকি করতে দেখলাম। টেকনাফ পৌরসভার স্বপ্ন আমি দেখছিলাম। সেটি এমপি মোহাম্মদ আলী স্যার বাস্তবায়ন করলেন। আমার খুশির সীমা নেই। স্বপ্ন বাস্তব হয়। তা অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী স্যারই দেখিয়ে দিলেন। স্যার গত ১৩ নভেম্বর আমাদের কাছ থেকে শারীরিকভাবে হারিয়ে গেলেন। কিন্তু মানসিক ভাবে আমাদের হৃদয়ে গেঁথে রইলেন।হে আল্লাহ। মোহাম্মদ আলী স্যারকে জান্নাতুন ফেরদৌস দান করুন। টেকনাফ পৌরসভা বাস্তবায়ন করায় জননেত্রী শেখ হাসিনা আপার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে ২০ বছর ধরে পৌরসভার নিজস্ব ঠিকানা মানে নিজস্ব কার্যালয় বাস্তবায়ন করতে পারে নি। পৌরসভার সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ যথাযথ সেবা পাবে সেই প্রত্যাশা আমার। পেয়ে থাকলে শুকরিয়া। আর না পেয়ে থাকলে দুঃখিত। কারন সরকার আমাদের। সরকার আওয়ামী লীগের। জয় বাংলা।

-জাবেদ ইকবাল চৌধুরী
সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*