,

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে শঙ্কিত স্থানীয় ও আশ্রিতরা

বিশেষ প্রতিবেদক:
টেকনাফ উপজেলার সেই শান্ত পরিবেশ এখন নেই। নিত্যদিন মাদক, চোরাচালান, অপহরন, হত্যা ও ধর্ষণ বেড়েই চলছে। চলছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। নেপথ্যে চলছে ইয়াবার ভাগভাটোয়ারা ও আধিপত্য বিস্তার। এসবের সাথে জড়িত সিংহভাগ স্বস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ। তারা স্থানীয়দের অপকর্মে ভাড়ায় প্রতিপক্ষের সাথে মোকাবেলা করতে যায়। টাকার লোভে মানুষ হত্যা করতেই দ্বিধাবোধ করে না ওরা। ফলে টাকার বিনিময়ে নিত্য মানুষ হত্য করা রোহিঙ্গাদের নেশা। তাদের দেখা দেখি স্থানীয়রাও দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এভাবে চললে অদূর ভবিষ্যতে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ হয়ে উঠবে ইসরাইল, ফিলিস্তিনের মত নৈরজ্যকর পরিস্থিতি। রোহিঙ্গাদের হাতে এত অস্ত্র ও ইয়াবা কি ভাবে আসে ! প্রশ্ন সচেতন মহলের। ২০১৮ সালের আগষ্টে মিয়ানমার সরকারের সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের অভিযোগ এনে লাখ লাখ রোহিঙ্গা ওপার হতে এপারে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে চলে আসলে মানবতার খাতিরে তাদের আশ্রয় দিলেও, রোহিঙ্গারা সেই মানবতার প্রতিদানের বদলে এদেশে নিয়মিত দাঙ্গামা হাঙ্গামা, ইয়াবা, মানপাচার ও অস্ত্রের মুখে সাধারন জনগণকে ঝিম্মি করে গহীন পাহাড়ে অপহরন পূর্বক আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। রেহাই পাইনি জনপ্রতিনিধি, রাঝনৈতিক নেতা কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ লোকজন। রোহিঙ্গাদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে অসংখ্য নিরহ লোকদের। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে গেল বছরের আগষ্ট মাসে টেকনাফ হ্নীলা জাদিমুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুককে (৩০), ছলতি বছরের ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে মিনাবাজার শামসু হ্যাডম্যানের ঘোনা থেকে ৬ জন কৃষক ধানক্ষেতে কাজ করা অবস্থায় সশস্ত্র একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী তাদের অপহরনের শিকার হয়। পরে ১ মে হোয়াইক্যং মিনাবাজারের মৌলভী আবুল কাছিমের ছেলে আক্তারুল্লাহ (২৪), ২৪ মে ঝিমংখালী এলাকার মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে মোহাম্মদ শাহেদ (২৫) ও এর কয়েক দির পর কাটাখালী পূর্ব পাড়ার মিয়া হোছনের ছেলে আবদুর রশিদ ওরফে সাদেক (২৮) কে অপহরণের পর গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।
এছাড়া গত ২০১৬ সালের ১৩ মে ভোররাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়ার মুচনী এলাকার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এতে নিহত হন আনসার ক্যাম্পের কমান্ডার মো. আলী হোসেন। এ সময় ১১টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি লুট করা হয়। এ ঘটনায় রোহিঙ্গারা জড়িত বলে মনে করে র‌্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র‌্যাব ও বিজিবি’র তথ্যমতে, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ৩৪ টি রোহিঙ্গা ক্যম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পসহ রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে চলতি বছরের বিগত ৯ মাসে প্রায় শতাধিক দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ২১১টি গোলাবারুদ পাওয়া গেছে। অস্ত্রের মধ্যে ছিল ৫৩টি দেশীয় বন্দুক, নাইন এমএম ২টি পিস্তল, ৬টি রিভলবার, ২টি থ্রিকোয়ার্টার গান, ৪টি এলজি, ৯টি এসবিবিএল, ১টি রাইফেল। এসব আগ্নেয়াস্ত্রসহ অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। এর আগের বছর এসব ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১৩৮টি গোলাবারুদ উদ্ধার করেছিল র‌্যাব।
ক্যাম্পের দায়িত্বে নিয়োজিত এপিবিএন পুলিশ বলছে, উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বে নেওয়ার পর থেকে গত তিন মাসে এলজিসহ ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও শতাধিক গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। বেশিরভাগই টেকনাফের নয়াপাড়া, উনছিপ্রাং ও শালবন এবং উখিয়ার লম্বাশিয়া, কুতুপালং, জামতলী ও মধুরছড়া ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শরণার্থী ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা কক্সবাজারের ১৬ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে ক্যাম্পে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে, তা বিভিন্নভাবে শুনেছি। অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধারে আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ###

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*