,

“হুমায়ূন আহমেদ” মোঃ আদিল মাহমুদ   

“হুমায়ূন আহমেদ”

মোঃ আদিল মাহমুদ

ভালোবাসি, ভালোবাসি তোমায়, আমার হে প্রিয় কবি ও ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ। তুমি এ বিশ্বে মহাসমুদ্র। বিস্তীর্ণ জ্ঞানী হুমায়ূন, বাঙলার লেখার উৎসাহের মণি। তোমার বেদনা আমায় দিয়েছে প্রেরণা। বিধুর লেখা মহাসাগরে, আমি ছোট্ট একটা তরণীতে ভেসে বেড়াচ্ছি। জ্ঞানবানের লেখার পুলিন পাচ্ছি না, গূঢ়ার্থ বুঝিনা, তাইতো যাতনা!

লক্ষ কলম ভেঙ্গে যাবে, হাজার দিস্তা কাগজ শেষ হবে কিন্তু পন্ডিতের লেখার ধার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আমি যে সরোবর, তোমাকে বুঝার সাধ্য যে শুধু সায়রের! যাদের আছে কিছুটা সাধনা, তারাও আজ অনেকটা ব্যস্ত! তাই সালাম জানাই, শশী কথা-সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে, যেনও চন্দ্রমার জলধিতে অন্তত একটা ডুব দিতে পারি!

বাংলাদেশের একমাত্র জনপ্রিয় কথা-সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক বলতে হুমায়ূন আহমেদকেই বুঝানো হয়ে থাকে। ১৯১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘর, কবি ও ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের সকল প্রকাশিত গ্রন্থ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে।
মূলত এ মহাকবি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর রচিত উপন্যাস, ভ্রমন কাহিনী, গল্প, গোয়েন্দা কাহিনী, সায়েন্স ফিকশন, অনুবাদ, কবিতা, চিত্রকর্ম, নাটক, চলচ্চিত্র নির্মান বাংলা ভাষায় এনে দিয়েছে আধুনিকতার ছাপ। তাইতো আজকের তরুণ সমাজ অনেক বেশি উজ্জীবিত তাঁর কলমের ধারণায়।

এ মহা কথা-সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিকের প্রশংসা বা তাঁর লেখা সাহিত্য চেতনা আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের ভাঙ্গা কলমে প্রকাশ করা কোন কালেই সম্ভব হয়ে ওঠবে না! তুবুও ওনার কিছু লেখা অচল কলমে তুলে ধরছিঃ-
১। নন্দিত নরকে,
২। বহুব্রীহি,
৩। এই সব দিনরাত্রি,
৪। শঙ্খনীল কারাগার,
৫। কোথাও কেউ নেই,
৬। কবি,
৭। মেঘ বলেছে যাব যাব,
৮। বৃষ্টি বিলাস,
৯। অচিনপুর,
১০। আজ চিত্রার বিয়ে,
১১। আগুনের পরশ মনি,
১২। জোছনা ও জননীর গল্প,
১৩। বাদশাহ নামদার,
১৪। হিমু,
১৫।হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম,
১৬। দরজার ওপাশে,
১৭। ময়ুরাক্ষী,
১৮। আজ হিমুর বিয়ে,
১৯। হিমুর দ্বিতীয় প্রহর,
২০। আই এস,বি,এন,
২১। দেবী,
২২। হিমু রিমান্ডে,
২৩। শুভ্র,
২৪।রুপালী দ্বীপ,
২৫। মেঘের ছায়া,
২৬। দারু চিনি দ্বীপ,
২৭। বাঘ বন্দির মিসির আলী,
২৮। আমিই মিসির আলী,
২৯। বৃহন্নলা,
৩০। নিশীথিনী,
৩১। শুভ্র গেছে বনে,
৩২। এই শুভ্র।
নাটক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে কবি হুমায়ূন আহমেদ পুষ্প ঋক্ষ। এ কথা-সাহিত্যিকের অভাব, বাঙালি জাতি হাজার বছরেও পূরণ করতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে! তাঁর মৃত্যুতে ধরণী, ভরণী, নিশাকর, প্রভাকর বিচলিত হয়েছিল। মানুষের কথা বাদই দিলাম। লেখার ভাষা, ভালোবাসা ও ভালোকথা কি এবং কাকে বলে তা শুধুমাত্র হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করলেই জানা যাবে।

মেহের আফরোজ শাওন ছিলেন এ মহান অদৃশ্য দার্শনিকের একমাত্র উদ্দীপনার দীপ। তাইতো, কবি পেরেছিলেন পরিশ্রান্ত অবয়বেও দীপ্তি ছড়িয়ে দিতে। আর কিছু কাল যদি হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকতেন, তবে অন্যান্য ভাষা বিজ্ঞানীরাও পুরো ধরা’য় বাংলা ভাষার দ্রুত প্রচলন সর্বাগ্রে আনয়ন করতেন।
আমার জীবনে একটাই দুঃখ, এ মহান বিদ্বান মানুষটাকে আমার জীবনে, স্বীয় কলেবরে একবারও দেখার সুযোগ হয়নি! কর্ম-জীবন অনেক কঠিন! তাইতো, ঈপ্সা থাকা সত্ত্বেও ওনার সান্নিধ্য পাইনি। দর্শন পাইনি পুরোপুরি বলা ঠিক হবে না! কারণ, আমি ওনাকে অন্তঃকরণে গেঁথে রেখেছি, ওনার লেখনী ও মেহের আফরোজ শাওনের গানের অবগুন্ঠনে।

মনুজের ভালোবাসা খুবই অদ্ভুত যোজনা। অনুরাগের পুরোপুরি আত্মপ্রকাশ ঘটে, প্রীতি হারিয়ে যাওয়ার পরে। ফলে, আজ এই নিশীথ যামিনীতে ওনাকে বেশি মনে পড়ছে। সাধ্য নেই, সামর্থ্য নেই, সুযোগ নেই! না হয় এ রজনীতেই ওনার নুহাশপল্লীতে রওনা হতাম। কিছু করতে না পারি অন্তত: কিছু ফুল ছড়িয়ে দিয়ে আসতাম। অতএব, আজকের আঁধারে ভাস্করের মননে আমার লেখা চতুর্দশপদী কবিতা উৎসর্গ করলাম।

“ভাষার মর্ম”

চতুর্দশপদী কবিতা।

হুমায়ূন আহমেদ,কথা-সাহিত্যিক,

বাঙলার অলঙ্কার, গানের পথিক।

কবিতার সারমর্ম, মনের আতিক,

উপন্যাস বাসুদেব,প্রাণের গতিক।

ছোটগল্প দৃশ্যমান, মানবের প্রাণ,

অর্থপূর্ণ কলমে’র ধার, নৃ-র মান।

কল্প-কাহিনীতে কবি,ভরপুর দান,

অধিবাস্তব কাহিনী,পৃতে সুমহান।

অন্তরের অন্তস্হলে,লেখকের গান,

তারুণ্য মন লেখায়,তিনি দৃশ্যমান।

বানী চিরন্তনী দৃশ্য, দিয়েছে সম্মান,

নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, মহান।

গীতিকার,সাহিত্যের সম্রাট, অম্লান,

শিক্ষক রচিত উক্তি,মানুষের জান।

পরিশেষে, আবেগ তাড়িত লেখনীতে বলতে চাই, মহানুভব প্রতীতিরাই ধরা’য় দ্রুত হারিয়ে যায়। কিন্তু যারা, হারিয়ে যাওয়া জ্ঞানীদের লেখনী ও ভাবনা আঁকড়ে ধরে থাকে ও চর্চা করে, কেবলমাত্র তাঁরাই সমাজে ভালোবাসা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে এবং এটাই সত্তাযুক্ত ও চিরসত্য।

লেখক: পুলিশ ইন্সপেক্টর ( তদন্ত )

পরশুরাম মডেল থানা ফেনী জেলা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*