,

সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর কমেছে ‘ক্রসফায়ার’!

ডেস্ক নিউজ ::

চলতি বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৫ জনের। ৩১শে জুলাই সেই তালিকায় যুক্ত হয় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের নাম। তবে  পুলিশের গুলিতে মেজর সিনহার নিহতের ঘটনার পর বাংলাদেশে গত আগস্ট মাসে ‘ক্রসফায়ার-বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা কমেছে। গত মাসে একটি  বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমলেও আগস্টে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়,  বাংলাদেশে চলতি বছর প্রথম ৭ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২০৮ জন। আগষ্ট মাসে মাত্র একজনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২রা আগষ্ট রাতে সিলেটের জকিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আব্দুল মান্নান ওরফে মুন্না আহমদ নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। সংস্থাটি বলছে, গত মাসের হিসেব পুরোপুরি জানা না গেলেও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা হঠাৎ করেই কমে গেছে।

মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, দেশজুড়ে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশে পুলিশের পেশাদারিত্বে প্রশ্ন উঠছে। হঠাৎ করে মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের পর জনগণের ভেতর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কৌশল কিনা এবং ভবিষ্যতে কী হয় সেটা নিয়ে এখনো সংশয় দেখছেন কেউ কেউ।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)  আগস্ট মাসের প্রতিবেদনে জানায়, জুলাই মাসের চেয়ে আগস্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কমেছে। জুলাইয়ে ছিল ৪৫ জন এবং আগস্টে হয়েছেন ১ জন। এছাড়া আগস্ট মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে দুজনের মৃত্যু, একজনকে নির্যাতন ও সাতজনকে হয়রানি করার ঘটনা ঘটেছে। জুলাই মাসে থানাহাজতে একজনের মৃত্যুসহ আটটি ঘটনা ঘটেছিল।   মহামারির সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যে দায়িত্ব পালন করছেন তা প্রশংসনীয়। কিন্তু ‘বন্দুকযুদ্ধে’র নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে জবাবদিহি অত্যাবশ্যক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*