,

শাহপরীরদ্বীপে এতিম পরিবারের দোকান ঘর ভাঙ্গলো পুলিশ

শাহপরীরদ্বীপে এতিম পরিবারের দোকান ঘর ভাঙ্গলো পুলিশ

 

টেকনাফ প্রতিনিধি :

পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত ভোগ দখলীয় জমিতে নির্মিত পলিথিন ও বাশেঁর বেড়ার দোকান ঘর ভেঙ্গে দিলো পুলিশ । কারো কোন লিখিত অভিযোগ নেই। শুধু মাত্র এক চাচার বন্ধু ডিআইজি মর্যাদার কর্মকর্তা। সেই কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে এতিম পরিবারের সদস্যদের উপর এমন অত্যাচার এলাকায় বেশ আলোচিত হচ্ছে। ঘটনাটি ৩ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পরপরই ঘটেছে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ পুরাতন বাজার মো: আমিন মাকের্টের জমিতে।

সংশ্লিষ্ঠদের সাথে কথা বলে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপের মরহুম নজির আহমদ চেয়ারম্যান হতে শাহপরীরদ্বীপ মৌজার বিএস ১০৬৯ খতিয়ানের সাড়ে ৬ শকত জমি ১৯৯৬ সালের ২১ এপ্রিল রেজি: কবলা মূলে প্রাপ্ত হয় বড় ছেলে হাজী মো: আমিন। পরবর্তী সময়ে হাজী মোহাম্মদ আমিনের মৃত্যুতে স্ত্রী, তিন ছেলে ও চার মেয়ের নামে উক্ত জমি বিএস ১৩২৪ খতিয়ান সৃজিত হয়। উক্ত জমির একটি অংশে দোতলা মার্কেট রয়েছে। যা মো: আমিনের ওয়ারিশগণ ভোগ দখলে রয়েছে। সম্প্্রতি উক্ত জমিতে বাশেঁর সীমানা ঘেড়া দেয় জমির মালিক রবিউল হাসান। এ সময় প্রথম দিকে কয়েকজন চাচা মোবাইল ফোনে তাকে সীমানা ঘেড়া না দিতে নিষেধ করে। পরে সার্ভেয়ার ্এনে সীমানা চিহ্নিত করার কথা বলে বেশ কয়েকজন চাচা। সার্ভেয়ার এনে সীমানা নির্ধারণ করার সময়ও কোন চাচা সামনে আসেনি। শত শত লোকের সামনে সীমানা নির্ধারন করে বাশেঁর খুটি দিয়ে ঘেড়া দেওয়া হয় গত বুধবার। বৃহস্পতিবার সকাল হতে শাহপরীরদ্বীপ পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ দীপক বিশ্বাস উক্ত জমির ঘেড়াবেড়া উঠিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে রবিউল হাসানকে। কারো কোন লিখিত অভিযোগ ছাড়া বা কোন বিচার শালিস না বসে কেনো আমার নিজস্ব জমির ঘেড়াবেড়া উঠিয়ে নেবো এমন প্রশ্ন করা হলে ফাড়িঁ ইনচার্জ উপরের নির্দেশ বলে জানিয়ে রবিউলকে চাচা মো: ইলিয়াছের সাথে কথা বলতে বলেন। জমির মালিক রবিউল হাসান বলেন, আমার চাচা ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) কর্মরত রয়েছেন। এলাকায় কম আসেন। তিনি প্রায় সময় উনার পুলিশের বড় কর্মকর্তা বন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় অন্যান্য চাচাদের দমানোর চেষ্টা করেন। এভাবে আমার নিজস্ব জমিতে নির্মিত দোকান ঘর, ঘেড়াবেড়া উঠিয়ে ফেলতে বলেন না হয় পুলিশ দিয়ে ভেঙ্গে ফেরার হুমকি দেন। অবশেষে তাই হলো। শুক্রবার জুমার নামাজের পর পুলিশ আমার দোকান ঘর, ঘেড়াবেড়া সব ভেঙ্গে দিলো।

রবিউল হাসান আরো বলেন, ‘আমার চাচা মো : ইলিয়াছের এক বন্ধু ঢাকা এসবিতে ডিআইজি পদমর্যাদায় দায়িত্বরত রয়েছেন। বন্ধুকে ভূল বুঝিয়ে বা নাম ভাঙ্গিয়ে আমার মত এতিমের হক নষ্ট করেছেন। করেছেন ক্ষমতার অপব্যবহার । কারো কোন অভিযোগ থাকলে যে কেউ সামনা সামনি বা কারো মধ্যস্থতায় জমির কাগজপত্র নিয়ে সমাধান করা যায়। কিন্তু সামান্য বাশঁ পলিথিনের ঘেড়াবেড়া বা দোকান ঘর ভেঙ্গে আমার চাচা কি মজা পেয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। এখন কোন লিখিত অভিযোগ ছাড়া আমার এতিম পরিবারকে কেনো পুলিশের মুখোমুখি করা হচ্ছে। আমরা যাবো কোথায়, কার কাছে বিচার দেবো ?

এ বিষয়ে মো: ইলিয়াস বলেন, এভাবে ঘেড়াবেড়া দেওয়া আমাদের ইজ্জতের প্রশ্ন। তাই বড় ভাইয়ের ছেলেকে দোকান ঘর ও সীমানা উঠিয়ে ফেলতে বলেছি। তবে এরপর কি হয়েছে তা জানি না।

এ বিষয়ে শাহপরীরদ্বীপ পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ দীপক বিশ্বাস বলেন, ওসি স্যার জমিতে ডিস্পোট আছে মর্মে সংবাদ দেওয়ায় এ ব্যবস্থা সেওয়া হয়েছে। অপর এক প্রশ্নে অন্য জনের নিজস্ব জমির দোকান ঘর, ঘেড়া বেড়া কি পুলিশ এভাবে ভাংতে পারে এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান।

 

সূত্র টেকনাফ ভিশন ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*