,

সেন্টমাটিন ব্লু-মেরিন সোলার বিদ্যুতের অনিয়মের অভিযোগ

সেন্টমার্টিন প্রতিনিধি:

সরকারের অগ্রাধিকার উদ্যোগ বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে দেশব্যাপী বিদ্যুৎ খাতের উত্তরণ এখন দৃশ্যত। লোডশেডিং, যান্ত্রিকত্রুটি, সিস্টেমলস, মিটারচুরি, সংযোগ ভোগান্তি ইত্যাদি নামের সমস্যাগুলির স্থান এখন যাদুঘরে। অথচ নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, গলাকাটা বাণিজ্য, অব্যবস্থাপনা সরকারের বদনাম করতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই যথেষ্ট। দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমাটিন ব্লু-মেরিন সোলার বিদ্যুৎ মিনি গ্রিড পাওয়ার স্টেশনকে ভাল চোখে দেখছেন না দ্বীপবাসী। এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের প্রতি অতিষ্ট হয়ে অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে দ্বীপের বাসিন্দা আবুল কালাম প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে- সেন্টমার্টিনের আবহাওয়া কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ৪ দশমিক ৫ বিঘা জমিতে ২ লাখ ৫০ হাজার ওয়াট ক্ষমতার ৯২৫টি সৌর প্যানেল (প্রতিটি ২৭০ওয়াট) নিয়ে একটি সাবস্টেশনও তৈরি করা হয়। এসব সোলার প্যানেল থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ইউনিট ব্যবহার উপযোগী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। শুরুতে এই প্রকল্পের অধীনে ৫৪৮ জন গ্রাহককে বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এ সৌরবিদ্যুতের মিনি গ্রিড প্রকল্পটির নকশা করা হয়। এদের মধ্যে ৩৩৬টি আবাসিক বাড়িঘর, ২২টি আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট, ১৫৭টি দোকান ও খাবারের হোটেল, ১০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ১৫টি ইজিবাইক চার্জিং, ৬টি সেচ পাম্প, ১টি বরফকল এবং ১টি ওয়ার্কশপ রয়েছে।
দ্বীপের বাসিন্দা আবুল কালাম অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন- দ্বীপবাসীর সরলতার সুযোগে বিভিন্ন কলাকৌশলে ব্লু-মেরিন সোলার বিদ্যুৎ এনার্জি লিঃ কর্র্তৃপক্ষ প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে শোষণ করে চলছে এবং স্থাপিত হওয়ার আগে দ্বীপবাসীর কাছে যে শর্ত বা ওয়াদা দেয়া হয়েছিল, তা কোন ক্রমে মানা হচ্ছে না। বর্তমানে সংযোগ নেওয়ার সময় মিটার ক্রয় বাবদ (যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে) ৫০০০ হাজার থেকে ১০০০০০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে, আবাসিক মিটার থেকে ইউনিট প্রতি ৩২ টাকা, দোকান বা প্রতিষ্ঠান থেকে ইউনিট প্রতি ৪২ টাকা বিল নেয়া হয়। এছাড়া প্রতিমাসে আবাসিক মিটার থেকে ১০০ টাকা, দোকানে বা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০০ টাকা (মিটার ভাড়া) নেয়া হয় এবং ১০০০টাকা রিচার্জ করলে ৪৬ টাকা এবং ৫০০ টাকা রিচার্জ করলে ১৯ টাকা সরকারী ভ্যাট নেয়া হয়।
দ্বীপবাসীর কাছে দেয়া শর্ত না মেনে মিটারভাড়া ১০০ টাকা নেয়ার কথা থাকলেও যতবার টাকা রিচার্জ করা হয়, ততবার ১০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। যেমনটি কোন গ্রাহক ৪ বার রিচার্জ করলে ৪ বার টাকা কেটে নেয়া হয়। এছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া সরকারী ভ্যাটের কোন কাগজপত্র প্রমাণের জন্য গ্রাহককে তারা দেন না। এতে এক ধরণের অনিয়ম ও দূর্নীতি করা হয় বলে অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেছেন।
দ্বীপের বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন জানান- কিছুদিন আগেও কেরোসিনের কুপিবাতি ও জেনারেটর চালিয়ে অনেক ভাল ছিলাম এবং আমাদের বাড়ির ছাউনীতে নিজস্ব সৌরবিদ্যুতের আলোতে অনেক কাজ করা যেত, তেমন টাকা পয়সা খরচ হতো না, বিলও দিতে হতো না। বেসরকারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান পর্যটক মৌসুমের অসময়ে আমাদের শোষণ করে খাচ্ছে। এব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।
ছাত্রনেতা মোঃ ইসমাইল বলেন- আমার মতে ব্লু-মেরিন কর্তৃপক্ষ সরকারী নিয়ম মানে না, তারা এখানে বিভিন্ন অনিয়ম করছে। বিল রিচার্জে মোবাইলে ম্যাসেজে তারা অনিয়ম করে যেমন ইচ্ছা তেমন কেটে নেয়া হয়। বিল রিচার্জ করলেও বিদ্যুৎ ইউনিট বলতে কিছু বুঝা যায় না। প্রকল্পের সাথে জড়িত এরাও এগুলো কিছুই জানে না।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, এই সৌর প্রকল্পটি দ্বীপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দ্বীপের মানুষ কিছুটা হলে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুতের বিল অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে, সেটা নিয়ে দ্বীপবাসীর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে ব্লু-মেরিন সোলারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা শাওন – অভিযোগ স্বীকার করে,  হেড অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

উল্লেখ্য- এ সৌর প্রকল্পের উদ্যোক্তা হলেন-ব্লু মেরিন রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারী।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) অর্থায়নে এক্সিলন বাংলাদেশ লিমিটেড ও এসকিউব টেকনোলজিস লিমিটেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*