,

মায়ের সাথে প্রভাবশালী পুত্রের কান্ড !

নিজস্ব  প্রতিনিধি:
টেকনাফে অবাধ্য ছেলের অত্যাচারে ঘর ছাড়া গর্ভধারিনী মা ও ছোট ভাইবোন। সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মিঠাপানির ছড়া এলাকায় নির্মম এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মিঠাপানির ছড়া এলাকার মৃত রশিদ আহমদ (মিস্ত্রী) কয়েক বছর পূর্বে মৃত্যু বরণ করেন। তার মৃত্যুর সময় রেখে যাওয়া ভোগদখলীয় সম্পত্তি শরিয়াহ মোতাবেক অলি ওয়ারিশগণের মধ্যে ভাগবন্টন করা হলেও তা মানতে রাজী নই মৃত রশিদ মিস্ত্রীর বড় পুত্র ছেবর মিয়া (৪৪)। ছেবর মিয়া অন্যান্য অলি ওয়ারিশ গণের তুলনায় আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও তার সন্তানরা মাদক কারবারী হওয়ায় একক আধিপত্যে সকলের প্রাপ্য সম্পত্তি আত্মসাৎ করার কুমানসে মা-সহ অন্যান্য ওয়ারিশকে প্রায় সময় শারিরীক ও মানষিকভাবে নির্যাতন করে থাকে। এক পর্যায়ে তার গর্ভধারিনী মা ও স্কুল, মাদরাসায় পড়–য়া শিক্ষার্থীর প্রাপ্য পৈতিৃক বসত বাড়ীর অংশ দখলে নিতে মারধর করে জোরপূর্বক বের করে দেয়। ছেবর মিয়ার সন্তানরা সন্ত্রাস ও মস্তান প্রকৃতির হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সহজেই এলাকার কেউ মুখ খুলতে পারেনা। ২৬ জুন বিকালে তার মা সুফিয়া খাতুন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামী মৃত রশিদ আহমদ মৃতের সময় ৮ছেলে ৪কন্যা রেখে যান। রশিদ আহমদ জীবদ্দশায় ছেবর কে আলাদা বাড়ীও করে দেন। এরপরও আমার অন্যান্য সন্তানদের সম্পত্তি আত্বসাৎ করিতে বড় পুত্র ছেবর এর নেতৃত্বে তার পুত্র হেলাল, বেলাল, সালাহ উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন তাদেরকে মারধর করে বসতবাড়ী হতে বের করে দেয়। বর্তমানে তারা ছেবর ও তার সন্তানদের নির্যাতন হতে রক্ষা পেতে বসত বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘ভাবতে কষ্ট লাগে, নিজের ছেলে মারধর করে বাড়ি থেকে আমাদেরকে তাড়িয়ে দিল। খুব কষ্টে আছি। আমি পুত্রের নির্যাতন ও সম্পত্তি রক্ষায় আইনশৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান সুফিয়া খাতুন।
মাদরাসার ছাত্র মোঃ ইব্রাহীম ও লম্বরী মলকাবানু উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মোঃ ফারুক বলেন, তার বাবা ৩ বছর আগে ইন্তেকাল করেন। এর পর হতে তার বড় ভাই ছেবর তাদেরকে জায়গা ও বসত বাড়ী তাকে ছেড়ে দিতে বলে। তারা বসত বাড়ী ও পিতার ভোগদখলীয় সম্পত্রি প্রাপ্য অংশ ছেড়ে না দেওয়ায় তাদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তার পুত্র হেলাল, বেলাল, সালাহ উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন তার মাসহ অন্যান্যদের মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। স্থানীয় মুরব্বী কাসেম বলেন, রশিদ মৃত্যু আগেই সন্তানদের মাঝে সম্পত্তি বন্টন করে দিয়ে ছেবরকে আলাদা বসত বাড়ী করে দেয়। কিন্তু সে মা ও অন্যান্য ভাই বোনের সম্পত্তি অবৈধ দখল করতে তাদেরকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। এ বিষয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। স্থানীয় মেম্বার ওমর হাকিম জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মৃত রশিদ মিস্ত্রীর স্ত্রী ছুফিয়া খাতুন আমাকে অভিযোগ করলে, সমস্যাটি সমাধানের জন্য ছেবরকে একাধিকবার মোবাইল ও লোক মারফত ডাকা হলেও সে হাজির হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*