,

বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে টেকনাফ ব্লাড ডোনার’স সোসাইটি’র রক্তদাতা ভাই বোনদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

আজ ১৪ ই জুন। বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে টেকনাফ ব্লাড ডোনার’স সোসাইটি পক্ষ থেকে সকল রক্তদাতা ভাই বোনদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হ’ল স্বেচ্ছায় এবং বিনামূল্যে রক্তদান করে যারা লক্ষ লক্ষ জীবন রক্ষা করছেন তাদের সহ সাধারণ মানুষকে রক্তদান করতে উৎসাহিত করা আসুন মুমুর্ষ রোগীর জীবনের আহ্বানে এগিয়ে যায় স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে বাঁচাতে নিজে রক্ত দিই। অন্যকে রক্ত দানে উৎসাহিত করি। রক্ত দিন! বাঁচান একটি প্রাণ! এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে শুধু একটি নয় ক্ষেত্র বিশেষে চারটি প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। কেননা এক ব্যাগ রক্তকে এর উপাদান হিসেবে চারটি ভাগে ভাগ করে চারজনের দেহে সঞ্চালন করা সম্ভব। উপাদান গুলো হলোঃ Red Blood Cells, Platelets, Plasma and Cryoprecipitate । এক একজনের জন্য এক একটি উপাদান প্রয়োজন হয়। তাই আপনার এক ব্যাগ রক্ত বাঁচাতে সহযোগিতা করবে চারটি প্রাণ। রক্ত দিন! বাঁচান একটি প্রাণ! জীবনের জন্য প্রয়োজন রক্তের । রক্তের সংকট সাধারণত যারা ভোগেন তারা আমাদেরই স্বজন, ভাই বোন। অপারেশন ছাড়াও বিভিন্ন কারণে শরীরে রক্তের ঘাটতি হতে পারে। এসময় প্রয়োজন বিশুদ্ধ রক্ত। একসময় বেশিরভাগ রক্তই আসতো পেশাদার রক্ত বিক্রেতা ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে। আর পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের অধিকাংশই সিফিলিস, ম্যালেরিয়া, হেপাটাইটিস-বি বা এইডসে আক্রান্ত। ফলে এই দূষিত রক্ত পরিসঞ্চালিত হয়ে রক্তগ্রহীতা আক্রান্ত হন দুরারোগ্য ব্যাধিতে। প্রয়োজন সচেতন মানুষের স্বেচ্ছা রক্তদানঃ প্রয়োজনের সময়ে রক্ত পাওয়া এবং দূষিত রক্তের অভিশাপ থেকে মুমূর্ষু মানুষকে রক্ষা করার জন্যেই প্রয়োজন নিরাপদ ও সুস্থ রক্তের। এর জন্য প্রয়োজন সচেতন তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসা। কারণ স্বেচ্ছা রক্তদানের মাধ্যমে যেকোনো সুস্থ মানুষ নিজের কেনো ক্ষতি না করেই একজন মুমূর্ষু মানুষকে বাঁচাতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রতিবছর রক্তের চাহিদা রয়েছে ১০ থেকে ১২ লাখ ব্যাগ। এর মধ্যে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ব্যাগ রক্ত পাওয়া যায়। সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ ব্যাগ সংগৃহীত হয় আত্মীয়স্বজন ও নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে। বাকি রক্তের চাহিদা ঘাটতি হিসেবেই পরিলক্ষিত হয়। সূত্র জানায়, ছোট-বড় নানা ধরনের অস্ত্রোপচার, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহতদের, গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন সময়ে, বিভিন্ন রক্তরোগে আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে প্রতিদিনই হাজার হাজার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু কৃত্রিম উপায় রক্ত তৈরি করা যায় না। অন্য কোনো প্রাণীর রক্ত মানুষের শরীরে সঞ্চালন করা যায় না। একজন মানুষের প্রয়োজনে আরেকজন মানুষ রক্ত না দিলে রক্ত পাওয়ার জন্য কোনো বিকল্প নেই। রক্তদানের উপকারিতাঃ মানসিক তৃপ্তি : একবার অন্তত ভাবুন, আপনার রক্তে বেঁচে উঠছে একটি অসহায় শিশু, একজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ। সে মুহূর্তে আপনার যে মানসিক তৃপ্তি তাকে কখনোই অন্য কোনোকিছুর সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব নয়। শারীরিক দিক থেকেঃ রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্যে অত্যন্ত উপকারী। রক্তদান করার সাথে সাথে আমাদের শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্যে উদ্দীপ্ত হয়। দান করার ২ সপ্তাহের মধ্যেই নতুন রক্ত কণিকা জন্ম হয়ে এই ঘাটতি পূরণ করে। আর প্রাকৃতিক নিয়মেই যেহেতু প্রতি ৪ মাস পর পর আমাদের শরীরের রেড সেল বদলায়, তাই বছরে ৩ বার রক্ত দিলে শরীরের লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা আরো বেড়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে : ইংল্যান্ডে মেডিকেল পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতারা দুরারোগ্য রোগ-ব্যাধি থেকে প্রায়ই মুক্ত থাকেন। রক্তদাতার হৃদরোগ ও হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকিও অনেক কম। ধর্মীয় দৃষ্টিতেঃ রক্তদান ধর্মীয় দিক থেকেও অত্যন্ত পুণ্য বা সওয়াবের কাজ। এটি এমন একটি দান যার তাৎপর্য সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘একজন মানুষের জীবন রক্ষা করা সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করার মতো মহান কাজ।’ আসলে সব ধর্মেই রক্তদানকে উৎসাহিত করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় ইবাদত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*