,

“হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা”

“হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা”

“ত্রিংশ পদি কবিতা”

মোঃ আদিল মাহমুদ

আমি পথিক হাঁটিতেছি নদীর তট ঘেষিয়া,

যদি পাই হারাঁইয়া যাওয়া হিয়া।

মনে জাগে না একবারও আমি যে ছাঁয়া,

এটা অপরাধ অন্য নারীতে চোখ দেয়া।

আমি পাপী খোদার সৃষ্টি হইয়া,

কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায় তাই যাই ভুলিয়া।

মনের ভিতর না আনিয়া,

চ্ক্ষু কপালে তুলিয়া এদিক সেদিক তাকাই ছুটিয়া।

ভাবাতেই মনে আসে এই কহিয়া,

যদি হয় গোসলকারিনী আমারই সুমিয়া।

হাঁটি, চোখ উপরে লইয়া,

দেখিতে পাই রমনী ধুইতেছে গাত্র মন প্রাণ দিয়া।

কঠিন দৃষ্টি অর্ধপাগলের উপর যায় পড়িয়া,

মনে ভাবে এতো খারাপ ছোঁয়া।

হতচকিত ভাসিনী নিজের সম্ভ্রম বাঁচাইয়া,

ছেড়ে দিল নিজের সকল মায়া।

চক্ষু লজ্জার ভয়ে ইজ্জত লইয়া,

ঝাপ দিল যথায় গভীর গাঙ যায় বহিয়া।

বিপদ দেখিয়া সুপ্ত মন উঠিল জাগিয়া,

অজান্তে সিদ্ধান্ত নিলাম এই ভাবিয়া।

যদি হয় এই অঙ্গনা যে ঝুঁকি নিয়া,

যাকে খুঁজি, পাপী মনেও বেশি ভালবাসিয়া।

ভয় কিঞ্চিত মাথায় না রাখিয়া,

নিজেই ঝাঁপ দিলাম নিজের জান বাজি রাখিয়া।

অবসন্ন দেহে তীরে উঠিলাম কষ্ট সহিয়া,

অভাগীনি সুন্দরী মহিলাকে নিয়া।

প্রান আছে কিনা দেখি এই ভাবিয়া,

কিন্তু অবাক হই দেখি সে-ই আমার দুনিয়া।

চেষ্টার পর এক চোখ খুলিয়া,

রমনী দেখে আমি অধম তার প্রিয় সেই কায়া।

অবাক চিত্তে তাকায় এই বলিয়া,

ওহে পান্থ যদি জানতাম তুমিই মোর হিয়া।

ঝাঁপ নহে, আনিতাম তোমায় টানিয়া,

স্নান করিতে হইবে আমার সাথে থাকিয়া।

প্রিয়াকে পাইয়া ধরিয়াছি হাত চাপিয়া,

পাপ নাহি আর যদি থাকে এই দরিয়া।

আটাশ বছর পর ফিরিয়া পাইয়া,

জানিতে চাহিলাম কেন রহিলা লুকাইয়া,

বলিয়াছি, কেন রাখিয়া ছিলে ঝুলাইয়া,

ভয় কিছুই নাই বল আমায় খুলিয়া,

ছিলাম নিষ্পাপ পরে পাপী তাকে না পাইয়া,

বলো- নয় হবে বিস্ময় এই দুনিয়া,

কি এমন ঘটনা ভালোবাসা দিলে ছাড়িয়া,

মানুষ হলে কি করেই যায় ভুলিয়া,

ইতিতে জানিলাম সব হারাইয়া,

বাবা-মা দিবে না তাকে আমার সাথে মিলাইয়া।

তা না হইলে তার প্রিয় বাবা-মা তাকে ফেলিয়া,

এই অবনী থেকে যাইবে চলিয়া।

হতভাগিনী পা রাখিয়া ছিল ভাঙ্গা তরীতে না বুঝিয়া,

ভালোবাসা ছিল লুক্কাইয়া,

মনে ছিল রাগ ও ক্ষোভ গান গাওয়া সুমিয়া,

কেন না বলিয়া রহিয়াছে সহিয়া,

ফোন ছিল না, নেট ছিল না, চিঠি না পাইয়া,

যে পত্র নিত সে ভয়ে গেছে পালাইয়া,

আমি পলাতক ছিলাম ঠিকানা পাল্টাইয়া,

তাই খুজিয়াছে অনেকদিন ধরিয়া,

বাবা-মা যে অতি আপন তা না মানিয়া,

আমি যাই চিরদিনের জন্য ত্যাগ করিয়া।

তাইতো সুমিয়াকে ভুল বুঝিয়া,

অভিমানে শহর ছেড়ে একেবারে যাই চলিয়া।

লেখক –

পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত)

পরশুরাম মডেল থানা, ফেনী জেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*