,

করোনায় কর্মহীনদের পাশে বিশিষ্ট লেখক, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

করোনায় কর্মহীনদের পাশে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

ডেস্ক নিউজ :
লেখক, প্রকাশক, সংগঠক ও ব্যবসায়ী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নিজে সড়ক-দুর্ঘটনাজনিত অসুস্থতায় গত কয়েক মাস ধরে শয্যাশায়ী। ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারেন না এখনো। এদিকে তার পায়ের অপারেশন করা অত্যন্ত জরুরি। এই জটিল অবস্থায়ও নিজেকে নিয়ে না ভেবে করোনায় সৃষ্ট দূর্যোগকালীন এই সময়ে প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের পক্ষ থেকে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার কাছ থেকে জাকাতসহ অন্যান্য অনুদান সংগ্রহ করে তা যাচনাবিমুখ আলেম ও সাধারণ মানুষের মাঝে প্রায় প্রতিদিনই পাঠাচ্ছেন।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জানান, এই পর্যন্ত তাঁর মাধ্যমে প্রায় এক হাজার পরিবারকে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার করে নগদ অর্থসহায়তা করা হয়েছে। এই কার্যক্রম এখনও অব্যাহত আছে।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, জাকাত গরিবের প্রতি করুণা নয়; বরং ধনীর প্রতি গরিবের করুণা। কারণ, জাকাত আদায় করা ধনীর দায়িত্ব; আর গরিবের তা অধিকার। গরিব যদি আপনার জাকাত না নেয়, সে বিপদে পড়ুক বা না পড়ুক আপনি নিজেই বিপদে। কারণ, এগুলো আপনার হক নয়; গরিবের হক। আর জাকাতের সেই সম্পদ ভোগ করার অধিকার আপনার তথা ধনীর নেই।
তিনি বলেন, সুতরাং জাকাতদাতাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আপনারা আপনাদের হক আদায় করুন। কীভাবে আদায় করবেন সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু গরিব-দুঃখী মানুষকে অপমান করা, হেয় করা, জনসম্মুখে লজ্জিত করার অধিকার আপনার নেই। আপনি কেন ভেড়ার পালের মতো গরিব মানুষদের জড়ো করবেন? আপনি কি তাদের দয়া করছেন? মোটেই না। তাহলে গরিব মানুষদের সম্মান দিয়ে তাদের হক বুঝিয়ে দেন। প্লিজ। আমরা চাই না আপনার ১৫০ টাকার জাকাতের শাড়ি নিতে এসে কয়েকজন বৃদ্ধা পদদলিত হয়ে মারা গেছেন-এরকম নিউজ।তিনি আরও বলেন, জাকাতের টাকা বা মাল প্রদর্শনী করে দেওয়ার মতো কিছু নেই। কিন্তু আমরা দেখছি আমাদের দেশে সেটা হচ্ছে। দোকানে গিয়ে জাকাতের কাপড় কেনা হয়। দোকানীরাও জাকাতের আলাদা কাপড় বিক্রি করেন। এটা তো স্পষ্ট অমানিক কাজ। লজ্জা লাগে আমাদের ধনীদের এসব মানসিকতা দেখে। তাই আসুন, আমরা সচেতন হই। নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি। গরিবের হক তার ঘরে পৌঁছে দিই। নিজেদের সম্পদ পবিত্র করি। আর এর মাধ্যমেই গড়ে উঠবে একটা কল্যাণ সমাজ।

কওমী কন্ঠ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*