,

“লকডাউন” দীর্ঘ হওয়ায় বিপূল ক্ষতির মুখে টেকনাফের পান চাষীরা!

সামী জাবেদ: টেকনাফ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে টেকনাফ সহ কক্সবাজার জেলায় করোনা সংক্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে বাইরে যাতায়াত করা পান ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করা হয়। বাইর থেকে বাজারে গিয়ে পান কিনতে বহু মানুষের সংস্পর্শে আসে পান ব্যবসায়ীরা।

তাই করোনা সংক্রমণ আরো ছড়ানোর প্রধান উপলক্ষ হিসেবে পান বাজারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে পান পচনশীল পণ্য হওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখা যাবে না!

বিশ্বজুড়ে করোনার দাপট অব্যাহত। অঘোষিত লকডাউনের জেরে আরো ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন টেকনাফের পান চাষীরা।পান বিক্রির বাজার নেই। তাই গাছের পান গাছেই থেকে যাচ্ছে। আর প্রখর রোদে পানের পাতা ঝলসে গিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পান। বহু কষ্টে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী থেকে লোন নিয়ে পান চাষ করেছিলেন চাষীরা। এখন তাঁদের মাথায় হাত কিভাবে শোধ করবেন তাঁরা এই লোন।টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ডেইলপাড়ার পান চাষী জনাব সুলতান আহমেদ এর সাথে কথা বলে জানা যায়। একেকটি পানের বরজ করতে সিজনের শুরুর দিকে তাদের খরচ হয়েছিল ১৮০০০০ থেকে ২০০০০০ টাকা । প্রথমদিকে পানের ভালো দাম পাওয়ায় সামান্য কিছু আশা জাগলেও এখন পানের একেবারে দাম নাই বললেই চলে। ১০০ বিরা পান উত্তোলন করতে মজুরি খরচ আসে ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা । এসব পান বাজারে এনে পরিবহন সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না যার কারনে পানের মজুরি খরচ টুকু ও উঠছে না। আবার এলাকায় পানের দোকান গুলো অঘোষিত লকডাউনের ফলে বন্ধ থাকায় খুচরো মার্কেটেও তা বিক্রি হচ্ছে না। ফলে বরজে বরজে জমতে শুরু করেছে বিপুল সংখ্যক পান। পেকে হলুদ হয়ে নস্ট হচ্ছে সেই সমস্ত পান। প্রতিদিন বিভিন্ন বরজে উৎপন্ন হয় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের পান যা তুলে না ফেললে পেকে হলুদ হয়ে নষ্ট হচ্ছে।

এইভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে তাদের পথে বসতে হবে এবং আগামী সিজনে অনেক পানচাষিরা নতুনভাবে পানের বরজ করতে পারবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*