,

সেন্টমাটিনে হাসপাতাল আছে, চিকিৎসা নেই, ডাক্তার নেই,

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

টেকনাফ উপজেলার বিচ্ছিন্নদ্বীপ ও ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। দ্বীপটিতে ১০ শয্যার একটি তিন তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন থাকলেও হাসপাতালে নিয়মিত ডাক্তার না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা পাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিত্সাসেবা। এদিকে বিভিন্ন সময়ে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সভায় হাসপাতালটির অচলাবস্থার কথা বলেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান দ্বীপ ইউনিয়নটির ইউপি চেয়ারম্যান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বীপে পদায়নকৃত ডাক্তাররা না আসায় বছরের পর বছর এখানকার মানুষ চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দেশের করোনা পরিস্থিতিতে ও ডাক্তার এবং কোনো ধরনের নার্স না থাকায় জটিল এবং সাধারণ রোগীদের সেবা নিতে সাগর পথ পাড়ি দিয়ে টেকনাফ উপজেলা সদরে আসতে হয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার সাগর পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময় রোগী মারা যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। বর্ষা এবং দুর্যোগের সময় সেবা না পেয়ে অনেক রোগী অকালে মৃত্যুবরণও করছেন।

স্থানীয়রা জানায়, দ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এছাড়া সারা বছর পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী এবং ট্যুরিষ্ট পুলিশ দ্বীপে অবস্থান করেন। পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন তিন/চার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে। স্থানীয় জনসাধারণসহ এসব লোকের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার মতো কোনো ডাক্তার নেই। তৌহিদা আক্তার নামের স্থানীয় এক গৃহবধূ জানান, এখানে হঠাত্ হঠাত্ ডাক্তার আসেন। এই গৃহবধূ আরো জানান, ডাক্তার এবং নার্স না থাকায় গর্ভবতী মায়েরা কোনো ধরনের সেবা পাচ্ছেন না। গর্ভবতী মায়েদের টেকনাফ গিয়েই চিকিত্সা নিতে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান খান জানান, সেন্টমার্টিনের মানুষ মৌলিক অধিকার তথা চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জটিল এবং কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সার জন্য টেকনাফ নিয়ে আসা হয়। সাগর পথে আসার সময় রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি দ্বীপের মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে একজন এমবিবিএস ডাক্তার, নার্সসহ প্রয়োজন সংখ্যক জনবল নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি তার ফেইসবুকে লিখেছেন -মনের অনেক বড় দু:খ থেকে বলছি আমাদের কোন চিকিৎসা সেবা নেই,দ্বীপে নামে হাসপাতালে থাকলেও নেই কোন এমবিবিএস ডাক্তার, হাসপাতালে বেড-বিছানা । সময়ের আলোচিত গোটা পৃথিবী বিচ্ছিন্নকারী মহামারী করোনা ভাইরাস যেভাবে পৃথিবীতে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে আমরা দ্বীপবাসী কঠিন টেনশনে আছি কারন একটাই আমাদের এই রিমোট আইল্যন্ডে কোন ডাক্তার কিংবা চিকিৎসা সেবা নাই বললেই চলে।অন্যান্য এলাকায় কিংবা অন্যান্য দেশে মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়ে মরতে ও বাঁচতে পারে আর আমরা দুইশ বছর ধরে ডাক্তার নাই নাই করে বিনা চিকিৎসায় মরে যাব তাই হতে পারেনা হে আল্লাহ এখন তুমাই আমাদের একমাত্র ডাক্তার তুমিই আমাদের একমাত্র অভিভাবক তুমিই আমাদের একমাত্র দয়াকারী। হে আল্লাহ আমাদের বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক প্রোগ্রামে বলতে শুনেছি ডাক্তারদের উদ্দেশ্য বলেছিলেন যদি গ্রামে গিয়ে জনগণের চিকিৎসা সেবা দিতে না পারলে চাকরী ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চলে যেতে হবে কিন্তুু সেন্টমার্টিন দ্বীপে পোস্টিং থাকা সত্বেও যারা আসেনা তাদের কারো চাকরি গেছে এরকম কোন খবর এপর্যন্ত শুনা যাইনি ।মনে হচ্ছে ডাক্তারদের ক্ষমতা অনেক বেশি কিন্তুু আল্লাহ চাকরি নেয়ার সময় ঠিকই শপথ করে মফস্বল গ্রামে গিয়েও চিকিৎসা সেবা দিবে যখনই চাকরি মিলে গেল তা আর মনে থাকেনা আল্লাহ বলেন তাদের কি বলা যায় ও আল্লাহ আমরা কি মানুষ না আমাদের কি চিকিৎসা সেবা দরকার নেই আমাদের দ্বীপের মানুষগুলো নেহায়েত গরীব টেকনাফ কক্সবাজার কিংবা ঢাকায় গিয়ে কয়জনের সামর্থ আছে চিকিৎসা নেয়ার হে আল্লাহ তুমি যদি মনে করো আমরা এই মহামারীর কবলে পড়লে তোমার রহমতের চিকিৎসা পাইব তাহলে দিও অন্যতাই তুমি আমাদের উপর এই মহামারী দিয়না হে মহান।আল্লাহ তুমি আমাদের ক্ষমা করো আর আমাদের ইমান তাকওয়া পরহেজগারী দান করো।আর আমাদের চিকিৎসা সেবার জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্হা করে দাও।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, ডাক্তার এবং কোনো ধরনের নার্স না থাকায় দ্বীপবাসী এবং পর্যটকরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। তিনি সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের সেবা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল জানান, আগস্ট থেকে ডাক্তারের পোস্টিং নেই। একজন এমএলএসএস এবং আরেক সেকমো (উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার) দিয়ে হাসপাতালটি কোনোমতে চলে আসছে। ডাক্তার সমস্যার বিষয়টি পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল।

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের জনসাধারণ এবং পর্যটকদের চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*