,

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি : ২৮ ঘন্টা  পর জীবিত উদ্ধার-১

বিশেষ  প্রতিনিধি :
প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের কাছে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় গুরুতর অবস্থায় আবদুল্লাহ নামে আরও এক রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন কোস্টগার্ডের সদস্যরা। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫১ জন।
বুধবার ভোরে সেন্টমার্টিনের গভীর সমুদ্র থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার ট্রলারডুবির এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৫জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭২ জনকে, এখনো নিখোঁজ ৫১ জন। সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. নাঈম-উল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ছেঁড়াদ্বীপের কাছে মঙ্গলবার ভোরে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রলারটিতে প্রায় ১৩৮ যাত্রী ছিল। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু, ১২ নারী।
উদ্ধারকৃত জীবিতদের মধ্যে ২৮ পুরুষ, বাকিরা নারী ও তিন শিশু। হতাহতদের সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় টেকনাফ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পাচারের সঙ্গে জড়িত তিন দালালকে আটক করেছে।
লে. নাঈম-উল হক বলেন, ট্রলারডুবিতে মৃত ও জীবিত সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক। এরা সবাই উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাস করে। ওই এলাকার কিছু রোহিঙ্গা দালালের হাত ধরে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করে।
মঙ্গলবার ভোরে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য তারা ট্রলারে সাগরপথে যাত্রা শুরু করে। ট্রলারটি ছেঁড়াদ্বীপের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। ভোর পৌনে ৬টার দিকে ট্রলারটি সাগরে ডুবতে শুরু করলে কোস্টগার্ডকে খবর দেয়া হয়।
তিনটি স্টেশন থেকে কোস্টগার্ড সদস্যরা গিয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তাদের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজ।
লে. নাঈম আরও বলেন, উদ্ধার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা বেশ কিছু দালালের বিষয়ে জানতে পেরেছি। তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। জীবিতদের সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দেয়া হয়েছে। সব মৃতদেহ টেকনাফে নিয়ে আসা হয়।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মতে তাদের দাফন করা হবে। পাশাপাশি যাচাই-বাছাই শেষে জীবিত উদ্ধারকৃতদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।
ট্রলারের যাত্রী ছিলেন আবদুল নামের একজন। তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সোমবার রাতে ১৩৮ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া গ্রাম থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে বড় একটি ট্রলারে নিয়ে যায় দালালরা।
ভোরের দিকে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ দিকে ছেঁড়াদ্বীপের কাছে পৌঁছলে ট্রলারটি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে তলা ফেটে ট্রলারটিতে পানি ঢুকতে থাকে। এ সময় দালাল ও মাঝিমাল্লারা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে যায়। আবদুল জানান, প্রথমে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বাঁচার আকুতি জানান। সেখান থেকে কোস্টগার্ডের নম্বর দেয়া হয়। সেখানে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানান তিনি।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম বলেন, প্রতিবছর শীতকাল এলেই মানব পাচার বেড়ে যায়। দালালরা শীত মৌসুমের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানব পাচার শুরু করে। তবে সম্প্রতি যারা এই কাজে পা দিয়েছে, তাদের সিংহভাগই রোহিঙ্গা। মূলত স্থানীয় ও কিছু রোহিঙ্গা দালাল নানা প্রলোভন দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাচার করছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারি পাচারের সময় যেসব রোহিঙ্গা ট্রলারডুবিতে মারা গেছে, তাদের টেকনাফের বাহারছড়া ও উখিয়া-টেকনাফের মাঝামাঝি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বোটে তোলা হয়েছিল। এই পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে তিন দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হল টেকনাফের বাহারছড়ার আইয়ুব, রফিক ও সাদ্দাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*