,

উন্নত জীবনের স্বপ্নে ৩০ হাজার টাকায় মালয়েশিয়ায় যাচ্ছিল তারা

নিজস্ব সংবাদদাতা:

ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন কোস্টগার্ড
উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে মাত্র ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া নিয়ে যাচ্ছিলেন দালালরা। যাওয়ার পথে ভোরে ছেড়াদ্বীপের অদূরে তাদের বহনকারী ট্রলারটি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।
জানা যায়, সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। একদল দালাল তাদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য রাজি করান। এ জন্য দালালরা জন প্রতি মাত্র ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তাদের প্রলোভনে পড়ে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৩৮ জনের একটি দল মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রলারে করে সমুদ্র পাড়ি দেন। তবে, বাংলাদেশের ছেড়াদ্বীপের অদূরে ট্রলারটি ডুবে যায়।
এ ঘটনায় ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন রোহিঙ্গা নারী এবং তিনটি মরদেহ শিশুদের। অন্যদিকে, ৭৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ, ৪৬ জন নারী ও তিনটি শিশু। আর এ ঘটনায় এখনো ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছে।
বিষয়টি কোস্টগার্ডের মুখপাত্র সহকারী পরিচালক লে. কমান্ডার এম হামিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার দালালকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। তারা হলেন- ফয়েজ আহম্মদ (৪৮), সৈয়দ আলম (২৭), আজিম (৩০) ও ওসমান (১৭)। তাদের সবার বাড়ি টেকনাফ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।
এ ব্যাপারে আজ সন্ধ্যায় কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. সোহেল রানা জানান, ‘আটক দালালরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তারা মাত্র ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাচ্ছিল। সেই লক্ষ্যে টেকনাফের বাহরছাড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী এলাকা থেকে ১৩৮ জন রোহিঙ্গা নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
এদিকে, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানব পাচারকারীরা এবার পাচারের জন্য রোহিঙ্গাদের বেছে নিয়েছে। তারা বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এসব পাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গাদেরই একটি দালাল চক্র।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে টেকনাফ উপকূল দিয়ে সাগরপথে মানব পাচার শুরু হয়। এরপর ২০১২ সালের পর থেকে পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে কয়েক লাখ বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের নাগরিক মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়া অনেকেই ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় মারা যান। আবার সে সময় থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উপকূলে অসংখ্য গণকবর আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তীতে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় গণকবরের সন্ধানের পর আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। তখন সাগরপথে মানবপাচার বন্ধে ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠে প্রশাসন। ওই সময় টেকনাফে পুলিশ ও মানব পাচারকারীর মধ্যে বন্ধুকযুদ্ধে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের ধুলু হোসেন, সাবরাং কাটাবনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম ও হারিয়াখালীর জাফর আলম নিহত হয়েছিলেন। এরপর থেকে মানব পাচারকারীদের টনক নড়ে। পরবর্তীতে চিহ্নিত মানব পাচারকারীরা চলে যায় আত্মগোপনে। কমে আসে উপকূল দিয়ে মানব পাচার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*