,

‘পাকিস্তানে আগে টি-টোয়েন্টি খেলি, তারপর টেস্ট নিয়ে সিদ্ধান্ত’

ক্রীড়া ডেস্ক ::

আগেই জানা, পুরো সিরিজ খেলতে কুড়ি-পঁচিশ দিনের জন্য নয়, বাংলাদেশ পাকিস্তান সফরে যেতে চায় অল্প কয়েক দিনের জন্য এবং সেটা শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। সঙ্গে টেস্ট খেলতে নয়। বরং পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিয়ে অন্য কোন দেশে টেস্ট সিরিজ আয়োজনের জন্য পিসিবিকে (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি।

কিন্তু পাকিস্তান সেটা মানছে না। পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি রীতিমত হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর মানেই পাকিস্তানে সব ম্যাচ খেলতে হবে। অর্থাৎ টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটের সিরিজই খেলতে হবে পাকিস্তানে। অন্য কোন দেশে নয়।’

পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানির এমন কড়া বক্তব্যের পর পাকিস্তান সফর হয়ে গেছে আরও প্রশ্নবিদ্ধ। যে দেশে সন্ত্রাসী, উগ্র-জঙ্গীদের হামলা ও বোমাবাজিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত, যেখানে স্বয়ং পাকিস্তানীদেরই জীবনের নিরাপত্তা খুব কম। আজ করাচিতে তো কাল লাহোরে, পরশু কোয়েটায়, তারপরদিন মুলতান-পেশোয়ারে প্রাণসংহারি বোমা ও সন্ত্রাসী হামলায় অকাতরে জীবন নাশ ঘটছে- সেই দেশে জাতীয় ক্রিকেট দল পাঠানো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিসিবি অবশ্য এখনো পাকিস্তান সফর বাতিলের ঘোষণা দেয়নি। কিংবা কঠোর ভাষায় কোন প্রতিবাদও করেনি। এই যখন অবস্থা দেশে, ঠিক তখন পাকিস্তান সফরে যাওয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে বিসিবি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন যে, ‘পাকিস্তান কায়মনোবাক্যে চাচ্ছে, সে দেশে যাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আবার ফেরে এবং সেটা যেন হয় পূর্ণাঙ্গ বা পুরোদস্তুর সিরিজ।’

কিন্তু বিসিবি সিইও তা মানতে নারাজ। তার কথা, ‘পাকিস্তানে আসলে বেশি সময় অবস্থান করার চেয়ে অল্প সময়ে ট্যুর শেষ করে আসাটাই যৌক্তিক এবং সব মিলিয়ে যুক্তিযুক্ত। আমরা আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজটা খেলে নিতে চাই। সেটা যে শুধু অল্প কদিনে শেষ হয়ে যাবে, ঝুঁকি কম থাকবে- তা নয়। সবচেয়ে বড় কথা ওই অল্প কয়েকদিন টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে গিয়ে আমরা জানতে পারবো, বোঝা হবে এবং দেখতে পারবো আসলে, পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থা কেমন এবং নিরাপত্তা আসলে কতটা।’

বিসিবি সিইও পাকিস্তানের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়ে বলেন, ‘সাধারণত দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরে এসেছে। সেখানে সম্পূর্ণভাবে তারা সিরিজ আয়োজন করতেও এখন সক্ষম হচ্ছে। এ কারণেই তারা বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার জন্য এভাবে বলে যাচ্ছে।’

নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন এরপর বলেন, ‘কিন্তু আপনারা সবাই জানেন ম্যাচ পরিবেশ বলে একটা কথা আছে। একই সঙ্গে আমাদের খেলোয়াড় আছে, টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই বিদেশি। তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার বিষয় রয়েছে। কারণ, পাকিস্তানে (পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে হলে) লম্বা সময় অবস্থান করতে হবে। এ কারণেই আমাদের সিদ্ধান্তটা নিতে তাদের সঙ্গে আলাপের প্রয়োজন আছে।’

এ কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের পরিস্থিতি যাচাই করতে চায় বিসিবি। সিইও বলেন, ‘এ কারণেই আমরা তাদেরকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার প্রস্তাব দিয়েছি। কারণ, স্বল্প সময়ের জন্য খেলতে গেলে সেখানকার পরিবেশ, পরিস্থিতি আমরা বুঝতে পারবো। খেলোয়াড়-টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই সেখানকার অবস্থা পর্যালোচনা করতে পারবে। আমরা এ বিষয়টা চিন্তা করেই তাদেরকে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ব্যাপারে একটা প্রস্তাব দিয়েছি।’

শুধু তাই নয়, তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ একটি ভেন্যুতে আয়োজনেরও প্রস্তাব পিসিবিকে দিয়েছে বিসিবি। সুজন বলেন, ‘আমরা তাদেরকে এক ভেন্যু নির্দিষ্ট করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। কারণ ম্যুভমেন্ট এবং সময়- এগুলো বিবেচনা করেই আমরা এক ভেন্যুতে খেলার ব্যাপারে তাদেরকে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*