,

সেন্টমার্টিন জেটির বেহাল দশা, হুমকির মুখে পর্যটন ব্যবসা, নতুন জেটির দাবি

এম, জুবাইর হোছাইন, সেন্টমাটিন থেকে :

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন জেটির বেহাল দশায় ও ভাঙ্গনে আসন্ন ভরা পর্টযক মৌসুমে লোকসান গুনতে হবে দ্বীপ বাসী ও ব্যাবসায়ীদের। ফলে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন দ্বীপে বসবাসকারী জনসাধারণ ।

ইতিমধ্যে সেন্টমাটিন জেটিরপুর্ব পাশের পার্কিংয়ের তিন দিকের গাইড ভিম, স্প্রিং ভিম ভেঙ্গে সাগেরে পানিতে ডুবে গেছে এবং জেটির নিচের অংশের আস্তর খসে পড়ে যাচ্ছে। রডগুলো একাকার হয়ে যাওয়ায় যে কোন মুহুর্তে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। জেটির ভয়াবহ ভাঙ্গন ও বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরায় বোট ও পর্ষটকবাহী জাহাজ ভীড়াতে সাহস পাচ্ছেন্না চালকরা।

ফলে হুমকির ও লোকসানের  মুখে পড়তে পারে আসন্ন পর্ষটক মৌসুম। এরফলে কোটি কোটি টাকা লোকসান পোহাতে হবে দ্বীপ বাসী সহ সর্বস্তরের ব্যাবসায়ীদেরকে।
সেন্টমাটিনে প্রায় ১০ হাজার লোক স্হায়ী ভাবে বসবাস করে থাকেন । দ্বীপবাসীর জীবিকা নির্বাহের প্রধান পেশা হয়ে দাড়িয়েছে ট্যুরিজম ব্যবসা। পর্ষটক আসলে কেউ মাছ, ডাব, কেউ চা, পান, কেউ ভ্যান চালক, বিস্কুটসহ ইত্যাদি বিক্রি করে কেউ খালি হাতে বাড়িতে ফিরেনা। সবাই টাকা আয় করতে পারে। ট্যুরিজমের ৫ মাস আয় নিয়ে পুরো বৎসর স্বাভাবিক জীবন ঝাপন করতে পারে বলে জানান ব্যাবসায়ী ও দ্বীপবাসী।
প্রত্যেক বছর সেপ্টেম্বর মাসে পর্ষটক সেন্টমাটিনে আসতে শুরু করলেও কিন্তু চলতি বছরে ভিন্ন চিএ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সকলেই প্রস্তুত হয়ে আছেন পর্ষটকদের নতুন ভাবে বরন করে নেওয়ার জন্য। কিন্তু জাহাজ চলাচলের অনুমতি না পাওয়া ও জেটির পার্কিংয়ের গাইড ভিমের ভাঙ্গনে কোটি কোটি টাকা আয়কে আটকে দিয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে পর্ষটক ব্যাবসা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ পর্ষটক মৌসুম শুরুর আগে প্রত্যেক বছর জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ অস্হায়ী ভাবে কাঠ দিয়ে জাহাজ ভিড়ার জন্য কাজ করেন। নারিকেল গাছ ও নিম্নমানের গাছ ব্যাবহারে সহসা গাছ গুলো নষ্ট হয়ে যায়।ফলে প্রত্যেক বছর নতুন করে কাজ করতে হচ্ছে। সেহেতু চলতি বছর হলেও ভাল কাঠ দিয়ে নির্মানের দাবি সকলের। এবং জেলা পরিষদের সু দৃষ্টি কামনা করেছে।

জানা যায়, ২০০৪ সালে সিএমএম কনসোঠিয়াম মালিকের ঠিকাদারিতে ২ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেন্টমার্টিনের একমাত্র আধুনিক জেটি। দ্বীর্ঘদিন ধরে জেটির রেলিং,পূর্ব পাশের পার্কিং ও গাইড ভিম, স্প্রিং ভিম সাগরের বুকে চলে যায়। জেটির নিচে বেশির ভাগই আস্তর ভেঙ্গে রট গুলো দেখা যাচ্ছে। যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি বয়ে যাওয়া ফনী, কোমেন ও টর্নেডোর প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে জেটির ভয়াবহ ভাঙ্গন ও ফাটল তীব্র হয়েছে। বিগত ২০০৫ সালের ১৫ জুন  আনুষ্ঠানিক ভাবে সেন্টমাটিন জেটির যাত্রা শুরু হয়। সেন্টমাটিন জেটির সংলগ্ন পান ও ডাব বিক্রেতা মন্জুর, হামিদ, হাফেজ আহমদ,
মনির উল্লাহ জানান, পর্টযক আসলে পান, চা, সিগারেট, ডাব, বিক্রী করে নির্বিঘ্নে সংসার চালাতে পারি এবং সেই দোকানের আয় দিয়ে সন্তান দের লেখা পড়া সহ যাবতীয় পারিবারিক কাজ সম্পাদন করি। কিন্তু অনুমতি ও জেটির ভাঙ্গনে পর্টযক বাহী জাহাজ না আসায় আমরা খুচরা ব্যাবসায়ীরা সেই আয় থেকে বঞ্চিত। প্রত্যেক বছর সেপ্টেম্বর  মাসে পর্ষটকদের দেখা মিললেও চলতি বছরে ভিন্ন চিএ।

এক জরিপে জানা যায়, সেন্টমার্টিনে ছোট, বড় ১শত ৫০টি আবাসিক হোটেল, বাড়ি-কটেজ, রেস্টুরেন্ট, ২ শত দোকান ১ শত১৪ টি ভ্যান ও রিক্সা, ২৫ টি সার্ভিস বোট, দ্বীপে স্হায়ী বসবাসরত ১০ হাজার মানুষ সহ সকলের পরিবার পর্ষটক মৌসুমে আয় করার জন্য অপেক্ষামান হয়ে থাকে। কখন পর্ষটক আসবে।

জেটির স্পিং ভিম ভাঙ্গনে সেন্টমার্টিনের সার্ভিস বোট ভীড়তে না পেরে বর্ষাকালে সাগরের মাঝখানে নোঙ্গর দিয়ে গভীর সাগরের লবনাক্ত পানিতে যাত্রী নামানো হচ্ছে।
বিগত পর্যটক মৌসুমে প্রবল ঢেউ, বাতাসের কারনে পর্ষটক বাহী জাহাজের ধাক্কায়ও জেটির পার্কিংয়ের কিছুটা ফাটল দেখা যায়। বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে জেটির পুর্বের পাশের পার্কিংয়ের গাইড ভিম বিলীন হয়ে সাগরের পানিতে ডুবে গেছে। ফলে সহসা পর্ষটক বাহী জাহাজ ও সার্ভিস বোট যাত্রীসহ ঝুকিতে উঠা নামা করছে।
এমন কি গত বছর পহেলা সেপ্টোম্বর সেন্টমাটিন মোঃ ইউনুছ মালিকানাধীন এস,বি সাদেক বোটে উঠার সময় মালিকের সহোদর বোন সাগরে পড়ে যায়।
আসন্ন পর্ষটক মৌসুমের আগে জেটিতে সংস্কার ও পুণঃ নির্মান না করলে কোটি কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হবে দ্বীপবাসী।

সেন্টমাটিন সার্ভিস বোট মালিক সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আলম জানান, জেটির ভয়াবহ ভাঙ্গনে গাইড ভিম না থাকায় সার্ভিস বোট সেখানে ভিড়তে পারেনা। পর্ষটক বাহী ১ টি জাহাজ ভিড়লে অন্য জাহাজ ভীড়তে না পেরে বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে নোঙ্গর করে অপেক্ষা করতে হয়। এবং বিকল্প ব্যাবস্হায় যাত্রী উঠানামা করেন।
ঝুকিপূর্ন জেটির দ্রুত সংস্কাকারের দাবি জানাচ্ছি।

সেন্টমাটিন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান খান জানান, জেটির ভয়াবহ ভাঙ্গনে পর্ষটকবাহী জাহাজ সেন্টমাটিন দ্বীপে আসলেও ভিড়তে সময় লাগে। তাই দ্রুত সংস্কার করে পর্ষটক উঠা নামার যথাযথ ব্যাবস্হা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্কের সহযোগিতা কামনা করছি।
টেকনাফ কেয়ারী সিন্দাবাদ জাহাজের ইন্চার্জ মোঃ শাহ আলম জানান, জেটির ভাঙ্গনে সেন্টমাটিনে আগত পর্ষটকদের নির্বিঘ্নে উঠানামা করতে নতুন জেটির বিকল্প নেই। বর্তমানে পর্ষটকদের চাপ অত্যধিক চলতি মাসে সেন্টমাটিনে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই জেটির প্রত্যক বছর ন্যায় ভাল কাঠ দিয়ে দ্রুত সংস্কার করে পর্ষটকবাহী জাহাজ ভিড়তে উপযুক্ত করে দিতে জেলা পরিষদের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
হোটেল মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মাওঃ এম,এ রহিম জিহাদী জানান, সেন্টমার্টিনে ১০৪ টি আবাসিক হোটেল আছে। সবার আয় পর্ষটক ব্যাবসার উপর নির্ভরশীল। জেটির ভাঙ্গনে পুনঃ নির্মাণ না হওয়া আমরা হতাশ। জেটির পুর্ব পাশে সাগরে পড়ে যাওয়া স্প্রীংভিম গাইডগুলো বড় তার দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পার্কিংয়ের চতুর্দিকে পরিমানের চাইতে বেশি টায়ার বাঁধলে সাময়িক জাহাজ জেটিতে ভীড়তে পারবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

সেন্টমাটিন আওয়ামীলীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, জেটির ভাঙ্গনে পর্ষটকবাহী জাহাজ ভিড়তে না পারলে কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে দ্বীপ বাসীও ব্যাবসায়ী।
তাই ঝুকিপূর্ন জেটি পুণঃ নির্মাণের জন্য সংসদ সদস্য শাহিনা আক্তারের সু দৃষ্টি কামনা করছি।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ বলেন, গত বছর ৫ লাখ টাকায় জেটির রেলিং সংস্কার করা হয়েছে।বর্ষাকালে প্রবল ঢেউওয়ের আঘাতে জেটিতে আবার ফাটল দেখা দেয়। বিদ্যমান জেটির দক্ষিণ পাশে নতুন জেটি নির্মানে জরুরি পদক্ষেপ নিতে সরকারের সু দৃষ্টি কামনা করি।
তিনি আরো জানান, প্রত্যেক বছর নিম্ন মানের নারিকেল গাছ ও নিম্ন মানের কাঠ দিয়ে গাইড ভিম তৈরি করে। ফলে মৌসুম শেষ হওয়ার আগে উক্ত গাইড ভিম নষ্ট হয়ে যায়। প্রচুর পরিমান টায়ার বেধে দিলে উঠানামাতে সমস্যা হবেনা মনে করছি।
পর্ষটকদের নিরাপত্তা বিবেচনা করে নতুন জেটি নির্মান হওয়া পর্ষন্ত পর্ষটক বাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন জেটিতে ভিড়তে সকল প্রকারের উদ্দেগ করা হবে এবং পর্ষটকগন সহসা উঠানামা করতে পারবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেন্টমাটিন জেটির পুর্ব পাশের পার্কিংয়ের গাইড ভিম ও স্প্রিংভিমও পিলার সাগরে পড়ে গেছে।এবং হেলে পড়া ভিম ও পিলার কারনে জোয়ারের সময় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে মনে করেন সচেতন মহল।জেটির পুর্ব দিকের স্প্রিংওগাইড ভিম সাগেরে পড়ে গেছে।জেটির বিভিন্ন অংশে ফাটলও জেটির বেশিরভাগই পলেস্তারা ভেঙ্গে রট দেখা যাচ্ছে।

সেন্টমার্টিনের হোটেল ব্যাবসায়ীসহ দ্বীপের সকল ব্যাবসায়ীদের জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করে দিতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*