,

সীমান্তে সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ড প্রতিহত করতে বিজিবি-বিজিপি যৌথ টহল জোরদার করবে

আমান উল্লাহ কবির, টেকনাফ  ॥

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১ টা হতে বৈঠক টেকনাফে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন সেন্ট্রাল রিসোর্ট এর সম্মেলন কক্ষে দু’দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের সূ-সম্পর্ক, ইয়াবা মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস, স্থল-মাইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুই দেশের সীমান্তের বিভিন্ন সমস্যা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ইয়াবা মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে মিয়ানমার বিজিপি সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেছেন। সীমান্তে গুলি বর্ষন বিষয়ে যথাযত তথ্য প্রদান ও সহযোগীতা করার প্রত্যয় করেন। সীমান্তে সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ড প্রতিহত করতে এবং যে কোন বিশৃংখলা এড়াতে উভয় দেশের বিজিবি ও বিজিপি যৌথ টহল দল পরিচালনা জোরদার করবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মিয়ানমার জানিয়েছে তারা সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখেনি। তবে অপসারনের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। ইয়াবা চোরাচালান বিষয়টি মিয়ানমার বুঝতে পেরেছে এবং বাংলাদেশকে এবিষয়ে আশ্বস্থ করেছে। বিশেষ করে তাদের দেশের সন্ত্রাসীরা এ ইয়াবার আয় দিয়ে অস্ত্র ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক ব্যবহার করে। ইয়াবা বিষয়ে তারা অত্যন্ত কার্যকর ভুমিকা রাখছেন এবং বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যাদি দিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন।
নাফ নদে জেলেদের মাছ শিকারের বিষয়ে জানান, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরিন বিষয়। মাছ ধরার আড়ালে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা চোরাচালান যাতে আসতে না পারে সে জন্য এ সিদ্ধান্ত। তবে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বরাবরে অভিহিত করা হবে।
এদিকে বৈঠকে অংশ নিতে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী ১ নম্বর বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিন্থ সোয়ে এর নেতৃত্বে সে দেশের ১৪ প্রতিনিধি দল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাটে পৌঁছেন। সেখানে থেকে সেন্ট্রাল রিসোর্টে বৈঠকে যোগ দেয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে ১৩ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজেদুর রহমান। এছাড়া বৈঠকে টেকনাফের ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সাল হাসান খান, কক্সবাজারের ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহামেদ, রামু সেক্টর ৩০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদুর রহমান ও টেকনাফ ২ বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক মেজর রোবায়েৎ কবীরসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরে ২১ জানুয়ারি সর্বশেষ মিয়ানমারের মংডু শহরে এ ধরনের রিজিয়ন পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আইনুল মোর্শেদ খান পাঠানের নেতৃত্বে ১০ সদস্য বিশিষ্ট বিজিবি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষা কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ ঘুরে গেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ সাফিনুল ইসলাম। মূলত সীমান্তের সুরক্ষা ও চোরচালান রোধে সরকার নতুন করে দ্বীপে বিজিবির একটি চৌকি স্থাপনার উদ্যোগ নেয়। এই চৌকিকে ঘিরে প্রথমবারের মতো পরিদর্শনে এসেছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*