,

মিয়ানমারের পিঁয়াজ ট্রলারেই পঁচে যাচ্ছে

নুরুল করিম রাসেল/আমান উল্লাহ কবির, টেকনাফ :

টেকনাফ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় মিয়ানমার থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজ খালাসের আগেই ট্রলারে পঁচে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার পেঁয়াজ আমদানীকে সর্বোত্ত গুরুত্ব দিলেও টেকনাফ স্থল বন্দরে পচনশীল এই পণ্য পেঁয়াজ ট্রলার থেকে খালাসে যে ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকা প্রয়োজন তার কোনটিই নেই। পর্যাপ্ত জেটি ও শ্রমিকের অভাবে মূলত ট্রলার থেকে পেঁয়াজ খালাস করতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে বন্দরে নোঙ্গর করার দুই-তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ট্রলার থেকে পেঁয়াজ খালাস করা যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার টেকনাফ স্থল বন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পঁচা পেঁয়াজের গন্ধে বন্দরের বাতাস ভারী হয়ে গেছে। এছাড়া খালাসের অপেক্ষায় বন্দরে ৮টি পেঁয়াজবাহী ট্রলার নোঙ্গর করা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মাসের শেষের দিকে হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় দেশীয় বাজারে সংকটের সৃষ্টি হয়। এর ফলে পেঁয়াজের দর দ্রুত বাড়তে থাকে। এসময়ে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা শুরু করে ব্যবসায়ীরা। প্রথম দিকে পেঁয়াজের চালান দ্রুত দেশের আভ্যন্তরীন বাজারে সরবরাহ করা হলেও এখন শ্রমিক সংকট ও দুইটি মাত্র জেটি দিয়ে আমদানি-রপ্তানির মালামাল লোড-আপলোডের কারনে দীর্ঘ সূত্রিতায় শত শত বস্তা পেঁয়াজ ট্রলারেই পঁচে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। ফলে ব্যবসায়ীদের কাছে পেঁয়াজ আমদানিতে অনাগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে।

আমদানীকারক এএফ এজেন্সেীর স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম জানান, খালাস করতে দেরী হওয়ার কারনে মঙ্গলবার তাঁর ট্রলারের আমদানীকৃত ৮০০ বস্তা পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সেসব পেঁয়াজ থেকে ভালো পেঁয়াজ বাছাই করে কোনরকমে লোকসান কমানোর চেষ্টায় আছেন। একি ভাবে অন্যান্য প্রায় ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে খালাসে দেরী হওয়ার কারনে।

আবার এই দীর্ঘসূত্রীতার পেছনে স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের অসৎ উদ্দেশ্যও রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী। সময়ক্ষেপন করে ট্রাকে লোড করা পন্য বিকাল ৫টার পর স্কেলে তোলা গেলে একেকটি ট্রাক থেকে নাইট চার্জ হিসাবে বন্দরের অতিরিক্ত আয় হয় সাড়ে ৫ হাজার টাকার মতো। আবার রাতের শ্রমিকদের দিতে হয় অতিরিক্ত চার্জ। এটাও দীর্ঘসূত্রীতার অন্যতম কারন বলে জানিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী।

টেকনাফ স্থল বন্দরের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন জেটি ও শ্রমিক সংকটের কথা অস্বীকার করে জানান, বন্দরে কোন ধরনের শ্রমিক সংকট নেই। দু’টি জেটি দিয়ে দ্রুত সময়ে পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে। মূলত মিয়ানমার থেকেই পঁচা পেঁয়াজ আসছে বলে দাবী করেন তিনি। তিন-চারদিন পর্যন্ত ট্রলার নোঙ্গর করে থাকলে কেন খালাস হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি জানান, আমদানী ঘোষনা পত্র(আইজিএম) সহ অন্যান্য ডকুমেন্ট দেরীতে জমা দিতে না পারায় দেরী হচ্ছে। এমনকি পেঁয়াজ খালাসের জন্য রাতে অতিরিক্ত শ্রমিক এনেও ব্যবসায়ীরা আনলোড করতে রাজী না হওয়ায় সেসব শ্রমিকদের ফেরত পাঠিয়েছেন বলে জানান তিনি।

টেকনাফ স্থল বন্দর সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক এহেতেশামুল হক দাবী করেছেন জাহাজ বন্দরে নোঙ্গর করার সাথে সাথেই আইজিএম জমা দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, কাঁচা পন্য হিসাবে যত দ্রুত পেঁয়াজ খালাস করার কথা, বন্দর কর্তৃপক্ষ শত চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তাদের সেই সামর্থ্য না থাকায় আসলে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। ফলে পেঁয়াজের মতো বাজার অস্থিতিশীল করা পণ্য পঁচে যাচ্ছে ট্রলারেই। এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে গত ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৭ হাজার ৫৭৯.৩৩৯ মেট্রিক টন পিঁয়াজ মিয়ানমার থেকে আমদানি হয়েছে। ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার ৫০০ মেট্রিকটনের মতো পেঁয়াজ খালাস হয়েছে। তবে এদিন মিয়ানমার থেকে কোন পেঁয়াজের ট্রলার আসে নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*