,

হার এড়াতে পারলো না বাংলাদেশ : জয় পেল আফগানিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক ::

চট্টগ্রাম টেস্ট বাঁচাতে ১৮.৩ ওভার টিকে থাকতে হতো বাংলাদেশকে। হাতে ছিল ৪ উইকেট। কিন্তু পারলো না সাকিব আল হাসানের দল। ৩.২ ওভার বাকি থাকতে ১৭৩ রানে অলআউট টাইগাররা। তাতে ২২৪ রানের বড় জয় পেল আফগানিস্তান। টেস্টে মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলা আফগানদের এটি দ্বিতীয় জয়। এর আগে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছিল তারা।

নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট আগে আজ শুরু হওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনের খেলা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টিতে ভেসে যায় প্রথম সেশন। দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ২.১ ওভার খেলা হওয়ার পর আবার বৃষ্টি। এই সেশনে আর খেলা হয়নি। শেষ সেশনের পুরোটাও পাওয়া যায়নি। বৃষ্টির পর ১৮.৩ ওভার খেলার সুযোগ হয়। খেলা শুরু হতেই আউট হয়ে ফেরেন সাকিব আল হাসান (৪৪)। জহির খানের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি। অথচ এই বলটা ছেড়ে দিলেও পারতেন সাকিব। এরপর ১৬৬ রানে মিরাজ রশিদ খানের বলে এলবি হয়ে ফেরেন। আর নষ্ট করে যান রিভিউটা। ৬ বল খেলে আউট তাইজুলও। তিনিও এলবির ফাঁদে পড়েন রশিদের বলে। কিন্তু বলটা ব্যাটে লেগেছিল। রিভিউ নেয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ সেটা আগেই নষ্ট করে ফেলেন মিরাজ। শেষ ব্যাটসম্যান নাঈম হাসানকে নিয়ে চেষ্টা করেছিলেন সৌম্য। কিন্তু তিনি ম্যাচটা বাঁচাতে পারেননি। রশিদের বলে ইব্রাহিম জাদরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বাংলাদেশকে উপহার দিয়ে যান লজ্জার হার। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়া রশিদ দ্বিতীয় ইনিংসে নিলেন ৬ উইকেট। সতীর্থদের নিয়ে গর্বে বুক ফুলিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

আফগানিস্তানের দেয়া রেকর্ড ৩৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৩৬/৬ তোলে চতুর্থ দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। সাকিব ৩৯ ও সৌম্য সরকার শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। তৃতীয় দিনের ২৩৭ রানের সঙ্গে আরও ২৩ রান যোগ করে চতুর্থ দিন সকালের সেশনেই অলআউট হয় আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে ১৩৭ রানের লিড থাকায় বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৯৮ রানের। এরপর বৃষ্টির বাগড়ায় দ্বিতীয় সেশনের খেলা ১টা ৪০-এর বদলে শুরু সোয়া দুইটায় শুরু হয়। আর শুরুতেই উইকেট খোয়ায় বাংলাদেশ। সাদমান ইসলামের সঙ্গে ওপেন করা লিটন দাস আউট ৯ রানে। এরপর দলীয় ৫২ রানে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকেও (১২) ফেরান জহির খান। দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছিলেন মুশফিকুর রহীম। চার বাউন্ডারিতে ২৩ রান করার পর রশিদ খানের বলে এলবির ফাঁদে পড়লেন তিনি। দলীয় ৮২ রানে মুমিমুনল হককেও (৩) এলবির ফাঁদে ফেলেন রশিদ। এরপর দলীয় ১০৬ রানে সাদামান (৪১) ও ১২৫ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (৭)। এরপর বৃষ্টির কারণে একটু আগেভাগেই শেষ হয়ে যায় চতুর্থ দিনের খেলা।

আফগানিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৪২ রান। জবাবে ২০৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তান সংগ্রহ করে ২৬০।

মতামত...