,

শাহপরীর দ্বীপের মাওঃ আমান এর জনাযা ও দাফন সম্পন্ন, বিভিন্ন মহলের শোক


মুহাম্মদ জুবাইর, টেকনাফ:
টেকনাফ উপজেলার সাবরাংয়ের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার প্রবীন আলেম, শাহপরীর দ্বীপ দারুশ শরীয়াহ আল ইসলামিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা আমান উল্লাহ সাঈদ এর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ২: ২০ মিনিটে শাহপরীর দ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হাজার হাজার মুসল্লীর উপস্থিতিতে নামাজে জানাযা সম্পন্ন হয়েছে। মরহুমের ছেলে মাওলানা উসমান আমানের ইমামতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পুরাতন বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মাওঃ আমান উল্লাহ সাঈদ ১৯৮৫ সালে নাফনদীর তীরে, বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন দারুশ শরীয়াহ আল্ ইসলামিয়া মাদরাসাও এতিম খানা প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকে ওই মাদরাসারা প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ( মুহতামিম) এর দায়িত্ব পালন করে আসছিল। গতকয়েক বছরধরে প্যারালাইসিস ও ডাইবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধিন ছিলেন। মৃত্যু কালে স্ত্রী,৭পুত্র, ৫মেয়ে ছাত্র/ছাত্রীসহ অসংখ্য ভক্ত ও গুনগ্রাহী রেখে যান। মাওলানা আমান উল্লাহ সাঈদ ছিলেন সম্প্রতি সময়ের শাহপরীরদ্বীপের বাতিলের বিরোদ্দে আপোষহীন এক অন্যন্য রাহবার। ছিলেন সুন্নতে নববীর উপর অটল। তাকে জীবদ্দশায় যখনি দেখা গেছে কখনো মাতায় পাগড়ি, হাতে মসবিহ ও পকেটে মেসওয়াক ছাড়া দেখা যাইনি। তার প্রতিষ্ঠানে আর যা কিছু থাকুক বা না থাকুক সুন্নাতে নববির আমল থাকতো। আজ তিনি সেই সৃতিগুলো রেখে পরপারে চলে গেছেন। রেখে গেলেন হাজারো দ্বীনি আমলী সৃতি। সবকিছু আগামী প্রজনেম্র জন্য রেখে তিনি হয়ে গেলেন জন্নাতের যাত্রী । মাদরাসার গন্ডির বাহিরে তিনি সর্বদা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টেকনাফ উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন স্থরের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলাম বিরোধী যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে তাকে প্রথম কাতারে দেখা যেত। তাঁর ইন্তেকালের খবর মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়ায় শেষ বারের মত এক নজর দেখতে বাড়ীতে ছাত্র, ভক্তরা ভিড় করেন। শাহপরীর দ্বীপ খেলার মাঠে সম্প্রতি সময়ে এত বিশাল জনাযা ও মুসল্লির উপস্থিতি স্বরনীয় হয়ে থাকবে। তাঁর ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতি সংগঠন।
আল্ আমানাহ্ সোসাইটির শোক..
আল্ আমানাহ সোসাইটি’র সভাপতি সাংবাদিক মুহাম্মদ জুবাইর, সহ-সভাপতি ক্বারী মো.আয়ুব, হাফেজ মো. শাকের, সাধারন সম্পাদক মাওঃ নুরুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ ইউছুফ, অর্থ সম্পাদক জিয়াউল হক,যুগ্ম অর্থ সম্পাদক খাইরুল হাছান, দপ্তর সম্পাদক মাওঃ হাবিব উল্লাহ, ক্রীড়া সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মাওঃ ছলিম উদ্দীন, প্রচার সম্পাদক মু. ছিদ্দিক, কার্য্যকরী সদস্য, হাফেজ শামসুল ইসলাম, মাওঃ মো. তাহের, মাওঃ নুর মোহাম্মদ, মাওঃ আজিজুল হক, হাফেজ মো. হোছাইন, হাফেজ ক্বারী মো. উসমান, হাফেজ সালাহ উদ্দীন প্রমুখ।

জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর শোক প্রকাশ..

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের টেকনাফ উপজেলার সাবেক সহ-সভাপতি ও শাহপরীর দ্বীপ দারুশ্শরীয়া মাদ্রাসার স্বনামধন্য মুহতামিমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ আলী, জেলা সেক্রেটারি জননেতা মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ আনোয়ার।


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টেকনাফ উপজেলা শাখা..
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওঃ মো. তৈয়ব আরমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওঃ আবদুল খালেক নেজামী, সাধারন সম্পাদক মাওঃ ইসমাইল কাসেমী প্রমুখ।


ইসলামী যুব আন্দোলন টেকনাফ উপজেলা শাখা..
ইসলামী যুব আন্দোলন টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ এনামুল হক মঞ্জুর, সহ-সভাপতি মুহাম্মদ জুবাইর, সাধারন সম্পাদক ইয়াহিয়া কলিম, সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব মুহাম্মদ ইসমাইল প্রমুখ।

এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন মরহুম ছিলেন দেশ, সমাজ ও সময় সচেতন একজন চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব। দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদানকে কক্সবাজারবাসী আন্তরিকতার সাথে স্মরণ করবে। তিনি ছিলেন একাধারে মাদ্রাসার পরিচালক, ইসলামী রাজনীতিবিদ ও দেশের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে সদা চিন্তিত এক সাদা মনের মানুষ। আমরা তাকে হারিয়ে আজ গভীরভাবে শোকাহত। এ শোক কোনোভাবেই সইবার নয়। তাকে হারিয়ে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে আমরা রবের কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন তাঁর কুদরতি হাতে এই ক্ষতি পুষিয়ে দেন।
পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি মরহুম কে যেন জান্নাতের উচ্চ মাকাম উপহার দেন এবং মরহুমের সুযোগ্য সন্তান – সন্ততি বিশেষ করে মাওলানা হাফেজ উসামা বিন আমান ও ওসমান বিন আমানসহ সকলকে এই শোক সহ্য করার তৌফিক এনায়েত করেন।

মাওঃ আমান উল্লাহ’র জনাযার একাংশ

মতামত...