,

খালেদার মুক্তি দাবিতে কর্মসূচি আসছে: ফখরুল

আলো নিউজ২৪ ডটকম :

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

শনিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “এই সভায় অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য চলমান আন্দোলনকে আরও বেগবান করার জন্য এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

কবে নাগাদ আন্দোলনের কর্মসূচি আসবে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যেই এই কর্মসূচিগুলো আসবে।”

খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন বেগবান করতে বিএনপি বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মসূচি দেবে বলে গত ২২ জুন সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকালে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ড, ছাত্রদলের চলমান সংকটসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। লন্ডন থেকে স্কাইপেতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।

বৈঠকে মির্জা ফখরুল ছাড়াও খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ছিলেন।

‘ছাত্রদলের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরাই বলবেন’

ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার দাবিতে নেতা-কর্মীদের আন্দোলনে সৃষ্ট সংকট সমাধানে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল বিএনপি মহাসচিবের কাছে।

জবাবে তিনি বলেন, “এগুলোর বিষয়ে যাদের দায়িত্ব রয়েছে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। ছাত্রদলের ব্যাপারে যাদের দায়িত্ব আছে তারাই পরবর্তিতে আপনাদের জানাবেন।”

‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “উনি এই ধরনের কথা প্রায়ই বলেন, এই ধরনের কথা আগেও বলেছেন। আমরা মনে করি যে, তাদের যে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা এসব তারই বহিঃপ্রকাশ।

“আমি মনে করি, এই ধরনের চিন্তা করাও রাজনৈতিক কোনো চিন্তা বলে মনে হয় না।”

‘সরকারের ব্যর্থতা ও উদাসীনতায় রিফাত হত্যা’

বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সাম্প্রতিককালে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকারের ব্যর্থতা ও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে বলে সভা মনে করে।

“যেহেতু এই সরকার জনগণের নির্বাচিত নয়, ফলে কোনো জবাবদিহি নেই। সেজন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে বিগত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সন্ত্রাস ও অস্ত্রের মুখে জনগণের অধিকার হরণ করেছে সেহেতু রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে এবং একটা চরম অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সমাজিক সংকট বিরাজ করছে দেশে।”

খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে নির্বাচনই এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারে বলে মনে করছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি।

মতামত...