,

এগোচ্ছে ইসলামী আন্দোলন পেছাচ্ছে জাপা ও বাম দল


ডেক্স নিউজ:

সংগঠন শক্তিশালী করা নয়, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাকে বড় সংগ্রাম বলে মনে করেন কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাজশাহীর নেতারা। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিরও (জাপা) দিনে দিনে ক্ষয় হচ্ছে। এগোচ্ছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। দলটির শক্তিশালী হয়ে উঠার পেছনে প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে জামায়াতে ইসলামীর ছিটকে পড়াকে কারণ মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা।

রাজশাহী জেলায় সিপিবির রয়েছে ১৪টি শাখা। তবে সব উপজেলায় কমিটি নেই। রাজশাহী সদর ছাড়া চার উপজেলায় কমিটি আছে। পৌরসভাগুলোতে নেই কার্যক্রম। দলটি টিকে আছে প্রবীণ নেতা ও নবীন শিক্ষার্থীর ওপর ভর করে। গত বছরের জুলাইয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গণসংহতি আন্দোলনের মুরাদ মোর্শেদকে সমর্থন দেয় সিপিবি। প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে তারা ইসলামী আন্দোলনের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। মুরাদ মোর্শেদ পেয়েছিলেন এক হাজার ৫১ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম পান তিন হাজার ২৩ ভোট। ভোটের প্রচারেও এগিয়ে ছিল ইসলামী আন্দোলন।

৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে বাম গণতান্ত্রিক জোট বাসদের আলফাজ হোসেন যুবরাজকে রাজশাহী-১ আসনে এবং রাজশাহী-২ আসনে সিপিবির জেলা সভাপতি এনামুল হককে প্রার্থী করে। যুবরাজ তিনশ’ এবং এনামুল হক সাড়ে চারশ’ ভোট পান। তবে এনামুল হকের দাবি, ভোটে কারচুপির কারণে এ ফল। নির্বাচনে অনিয়মের কারণে তিনি ভোট বর্জন করেন। নয়ত ভোটসংখ্যা আরও বাড়ত।

প্রবীণ নেতা এনামুল হক বলেন, ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক দর্শনের কারণে তারা এগোতে পারছেন না। এটাকে পেছানো বলে না। সুবিধা নেওয়ার এই যুগে টিকে থাকা কঠিন। কারণ তাদের দলে ভোগের কিছু নেই। সবটুকুই ত্যাগ করতে হয়।

১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া ইসলামী আন্দোলনের কার্যক্রম বছর দশেক আগে শুরু হয় রাজশাহীতে। জেলার ৯টি উপজেলাতেই দলটির কমিটি আছে। আছে অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রমও। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার ৬টি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরেই ছিল ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান। ভোটের হিসাবে জাপার চেয়েও এগিয়ে ছিল তারা।

ইসলামী আন্দোলনের রাজশাহী জেলা সহসভাপতি ফয়সাল হোসেন বলেন, ইসলাম যা সমর্থন করে, তারা তাই সমর্থন করেন। বড় দুটি দলের বলয়ের বাইরে থেকে তারা এককভাবে কাজ করছেন। তা করছেন ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠায়। কোনো জোটে না থাকায় তৃতীয় ধারার সন্ধানে থাকা মানুষ তাদের দিকে ঝুঁকছে। দিন দিন তাদের সমর্থন বাড়ছে।

জামায়াতের শূন্যস্থান ইসলামী আন্দোলন পূরণ করছে কি-না- এ প্রশ্নে ফয়সাল হোসেন বলেন, জামায়াতের ভোট তাদের প্রতীকে আসে না।

ইসলামী আন্দোলন বাড়ন্ত হলেও পড়তির দিকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাপা। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাপার লাঙ্গল রাজশাহী-৩ আসনে জয় পায়। পরের দুই নির্বাচনে লাঙ্গল ছিল জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। প্রয়াত মন্ত্রী সরদার আমজাদ হোসেন দল ছাড়ার পর রাজশাহীতে জাপায় আর উল্লেখযোগ্য কেউ নেই। গত সিটি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েও

প্রত্যাহার করে নেয় জাপা। সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটে ছিলেন জেলা সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন। রাজশাহী-৬ আসনে তার ভরাডুবি হয়। সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনেও প্রার্থী দিতে পারেনি জাপা।

আবুল হোসেন বলেন, সারাদেশে জাপার যা অবস্থা, রাজশাহীতেও তাই। সব উপজেলায় কমিটি আছে। ভোট কারচুপিকে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভরাডুবির কারণ বলে দাবি করেন তিনি।

সুত্র- সমকাল

মতামত...