,

পাসপোর্ট করতে এসে দালালসহ রোহিঙ্গা নারী আটক

আলো নিউজ ২৪ ডেস্ক:

বান্দরবানে ভুয়া পাসপোর্ট করার সময় দুই দালালসহ এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে বান্দরবান আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া রোহিঙ্গা নারীর নাম সায়েকা। তিনি উখিয়া পালংখালী ক্যাম্পের হামিদুল্লাহর মেয়ে। আটক দুই দালাল হলেন- নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের জামছড়ি এলাকার বাসিন্দা জকরিয়া ও আবদুল মালেক।

জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা জকরিয়া পালংখালী ক্যাম্পের শরণার্থী সায়েকাকে টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য নাইক্ষ্যংছড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দা ছৈয়দ হোসেনকে টাকা দিয়ে সায়েকাকে তার মেয়ে রেজিয়া বেগম পরিচয় দেওয়ার জন্য রাজি করান। পরে রেজিয়ার কাগজপত্র দিয়ে সায়েকার ছবি বসিয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) আবদুল মালেকের মাধ্যমে পাসপোর্ট করার যাবতীয় কাগজপত্র সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তছলিম ইকবালের কাছ থেকে সত্যায়িত করে নেন।

পরে দালালসহ কাগজপত্র বান্দরবান আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে গিয়ে তাদের কথাবার্তা শুনে অফিসের লোকদের সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দালাল জকরিয়া ও আবদুল মালেকসহ রোহিঙ্গা নারী সায়েকাকে আটক করে নিয়ে যায়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জকরিয়া জানান, তার ছেলে মালয়েশিয়ায় থাকেন। ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য সায়েকাকে ক্যাম্প থেকে নিয়ে এসে বিদেশ পাঠানোর জন্য পাসপোর্ট করতে নিয়ে আসেন তিনি।

সায়েকার বাবা পরিচয়দানকারী ছৈয়দ হোসেন, তার স্ত্রী এলম খাতুন ও মেয়ে রেজিয়া আক্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তছলিম ইকবাল বলেন, ‘আমার এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ হোসেনের পাসপোর্ট ফরম সত্যায়ন করেছি। সে আমার পরিচিত। তাই আমি ভাল করে যাচাই করিনি। সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। প্রয়োজনে আমিও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে আমার আরও ভাল করে যাচাই করা দরকার ছিল। এটা আমার জন্য একটা শিক্ষা। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর হবে না।’

এ বিষয়ে বান্দরবান পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, ‘আটককৃত সায়েকা পালংখালী ক্যাম্পের শরণার্থী। তার কাছে রোহিঙ্গা কার্ডও রয়েছে। তার সঙ্গে দুজন দালালকে আটক করা হয়েছে। যাদের মেয়ে সেজে সে পাসপোর্ট করতে এসেছিল সে পরিবারকেও আমরা আমাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির কয়েকজন জনপ্রতিনিধিসহ একটি দালালচক্রের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে ভোটার ও পাসপোর্ট করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের বাবা-মা সাজিয়ে কাগজপত্র বৈধ করে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করে দেন দালালচক্র।

মতামত...