,

আদালত স্থানান্তর: খালেদার রিটের শুনানি মঙ্গলবার

আলো নিউজ ২৪ডেস্ক:

নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচারে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত স্থানান্তরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা রিটে পক্ষভুক্ত হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত দুই নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাস।

দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সোমবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আদালত কমিশনকে পক্ষভুক্ত করার নির্দেশ দেয়।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মওদুদ আহামদ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও কায়সার কামাল। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশিদ আলম খান; আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আইনজীবী খুরশিদ আলম খান পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই রিট মামলা মঙ্গলবার শুনানির জন্য কার্যতালিকার শীর্ষে থাকবে বলে আদালত জানিয়েছে।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য বিশেষ আদালত পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগার থেকে সরিয়ে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার সরকারি আদেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে এই রিট আবেদন হয়েছে।

আদালত স্থানান্তরে জারি করা সরকারের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা রোববার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।

খালেদার অন্যতম আইনজীবী কায়সার কামাল রোবববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ বহির্ভূত পদক্ষেপ হওয়ায় এবং প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৯ এর (১) ও (২) উপধারাবিরোধী হওয়ায় নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিচারে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ জজ আদালত-৯ কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই নম্বর ভবনে স্থানান্তরে গত ১২ মে জারি করা গেজেটকে কেন অবৈধ এবং বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- এই মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।”

পাশাপাশি রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার বলেছিলেন, “খালেদা জিয়া একজন পাবলিক ফিগার। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো ট্রায়াল পাবলিকলি হওয়া উচিৎ। কেরানীগঞ্জের কারাগারের একটি রুমে কখনও পাবলিক ট্রায়াল হতে পারে না। তাছাড়া আইনে আছে, মামলাটার বিচার মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে হতে হবে। কিন্তু কেরানীগঞ্জের কারাগার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে।

“আমরা মনে করি, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগ বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ন্যায়বিচার করবেন এবং আদালত স্থানান্তরের যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, সেটির কার্যকারিতা স্থগিত চেয়েছি, আশা করি আদালত স্থগিতাদেশ দেবেন।”

আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে গত ১২ মে জারি করা গেজেটটি বাতিল করতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে গত মঙ্গলবার আইন সচিবকে উকিল নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সেই নোটিসে বলা হয়েছিল, এর মধ্যে গেজেটটি প্রত্যাহার বা বাতিল না করলে করলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এক বছর আগে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পরিত্যক্ত কারাগারে রেখে অন্য কয়েকটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিচার চলছিল। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গত ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা শেষ হলে খালেদা জিয়াকে আর পুরনো কারাগারে নেওয়া হবে না, তাকে স্থানান্তর করা হবে কেরানীগঞ্জে তিন বছর আগে চালু হওয়া নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে।

মতামত...