,

টেকনাফে বন্দুক যুদ্ধে শাহপরীর দ্বীপের ইব্রাহীম নিহত

শামসু উদ্দিন,টেকনাফ:

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি মোহাম্মদ ইব্রাহিম পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

সে শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রি পাড়া এলাকার নুরুল আমিন ওরফে বল্লার ছেলে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ দিকে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ঝাউবন এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটেছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৩টি এলজি, ১১ রাউন্ড কার্টুজ ৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, থানা পুলিশের এসআই দিপক বিশ্বাস, কনেস্টবল লিটু ও সাকিল।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,

১৭ই মে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টার সময় এসআই দীপক বিশ্বাস সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ বহু মামলার পলাতক আসামী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রানালয় সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা ভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী মোঃ ইব্রাহিম (৩২)কে শাহপরীরদ্বীপ কোনার পাড়া হতে গ্রেফতার করেন।

পরবতীতে ধৃত আসামীকে কে থানায় ব্যাপক জিজ্ঞেসাবাদে জানায় যে, গত কয়েক দিন পূর্বে মিয়ানমার হতে আনা ইয়াবার একটি বড় চালান বেচাবিক্রির পর আরো কিছু ইয়াবা শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম পাড়া ফিশিং বোর্ট ঘাটের উত্তর পার্শ্বে ঝাউ বাগান সংলগ্ন বেড়ী বাঁধের পশ্চিম পার্শ্বে বালুর চরে মজুদ রয়েছে।

উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পাইয়া তাহার সহযোগী অস্ত্রধারী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে ঘটনাস্থলে এসআই/দীপক বিশ্বাস, কং/৯৫০২ মোঃ শাকিল, কং/৯৮৬৩ মোঃ লিটু আহত হয়।

এসময় পুলিশ নিজেদের জীবন ও সরকারী সম্পত্তি রক্ষার্থে পুলিশ ৩৮ রাউন্ড পাল্টা গুলি বর্ষন করে।

এক পর্যায়ে আটককৃত মোঃ ইব্রাহিম (৩২) গুলিবিদ্ধ হয়। গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করতে করতে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশী করে আসামীদের বিক্ষিপ্ত ভাবে ফেলে যাওয়া ৩ (তিন) টি এলজি, ১১ (এগার) রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, ১৩ (তের) রাউন্ড কার্তুজের খোসা এবং ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ঘটনাস্থলে জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে গুরুতর আহত গুলিবিদ্ধ মোঃ ইব্রাহিম (৩২) কে পৌনে ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরন করলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক সহ ৫টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

নিহত ইয়াবা কারবারির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে । এ ব্যাপারে আইনী প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম শাহপরীরদ্বীপ সাংগঠনিক ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।


মতামত...