,

সিয়াম সাধনায় আল্লাহকে পাওয়া যায়

আলো নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম ::

বছর ঘুরে অফুরন্ত রহমত নিয়ে ফিরে এসেছে মাগফিরাতের মাস রমজান। হে আল্লাহ! আপনার দরবারে অগণিত শোকরিয়া- আমাদের রমজানের নেয়ামত দিয়ে ধন্য করেছেন বলে। আমাদের কোরআনের সম্পদ দান করেছেন। শুকুর আলহামদুলিল্লাহ।

প্রিয় পাঠক, অলসতা ও গাফিলতিতে ডুবে থাকলে নিশ্চয়ই আপনি রমজানের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়বেন। তাই প্রথমেই আপনাকে সতর্ক করতে চাই রাসূল (সা.)-এর সেই বাণী শুনিয়ে। তিনি বলেছেন, ‘জাহান্নাম তার জন্য অবধারিত, যে রমজান পেয়েও নিজেকে শুধরে নিতে পারেনি।’ হ্যাঁ, সায়েম ভাই, রমজান এসেছে আমাদের শুধরে সুন্দর মানুষ বানাতে। খাঁটি মোমিন হিসেবে আল্লাহর বন্ধুর খাতায় নাম লিখিয়ে নিতে।

আমরা যদি ঠিকভাবে সিয়ামব্রত পালন করতে পারি, আশা করি এক মাসের সাধনা শেষে আমাদের কালো জীবনেও আলোর ফুল ফুটবে। বন্দেগির খুশবু ছড়াবে গান্দেগি ভরা জীবনে। সেই সুরই ফুটে উঠেছে কোরআনের এ আয়াতে- ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুসসিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কাবলিকুম লা আল্লাকুম তাত্তাকুন। ওহে! তোমরা যারা নিজেদের বিশ্বাসী মনে করো, তোমাদের জন্য সিয়ামব্রত আবশ্যক করে দেয়া হয়েছে। তোমাদের আগে যারা মোমিন ছিল, তাদের ওপরও আমি সিয়ামব্রত ফরজ করেছি। আশা করা যায়, সিয়ামব্রত তোমাদের ভেতর জগতকে তাকওয়ার জন্য প্রস্তুত করে দেবে’ (সূরা বাকারাহ : ১৮৩)।

সিয়াম আসে আমার আপনার অন্তর জগৎ প্রস্তুত করতে। যেন সেখানে খোদাভীতি জায়গা করে নিতে পারে। বান্দার মনে যদি একবার খোদার প্রেম বসে যায়, তবেই সে সফল জীবনের চাবিকাঠি হাতে পাবে। দুনিয়া-আখেরাতে সব জায়গায় সে হয়ে উঠবে প্রেমিক মানুষ। প্রেমিক বান্দাই আলোকিত মানুষ, মুত্তাকি মানুষ।

মুত্তাকি হওয়ার জন্য, আলোকিত মানুষ হওয়ার জন্য আত্মায় তাকওয়ার বীজ রোপণ করতে হয়। প্রথম রোজার সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে আমরা আত্মায় তাকওয়ার বীজ বুনেছি। পুরো মাস খোদার প্রেমে ডুবে থেকে এ তাকওয়া বীজের পরিচর্যা করব এক মনে এবং রমজান চলে গেলে তখনও খুব যতেœর সঙ্গে এ তাকওয়া-চারার পরিচর্যা চালিয়ে যাব। এভাবেই আস্তে আস্তে আমরা সফল জীবন, মুত্তাকি জীবনের সন্ধান পাব। সন্ধান পাব ‘ইয়া আইয়্যাতুহান্নাফসুল মুতমাইন্না’র।

রমজানের শুরুতে আল্লাহপাক সায়েমকে ডেকেছেন ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু’ বলে। হে প্রেমিক, তুমি যদি পুরোজীবন সিয়ামব্রত তথা তাকওয়া চর্চায় নিজেকে ডুবিয়ে রাখো, তাহলে একদিন খোদা তোমাকে ডাক দেবেন ‘ইয়া আইয়্যাতুহান্নাফসুল মুতমাইন্না’ বলে। এই যে, ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু’ থেকে ‘ইয়া আইয়্যাতুহান্নাফসুল মুতমাইন্না’ বলে ডাক পাওয়ার সাধনা- এটাই আসলে মোমিনের সিয়ামব্রত পালনের সাধনা।

হায়! সিয়াম আসে সিয়াম যায়, ক’জনই আমরা মোমিন থেকে মুত্তাকি, নফসে আম্মারা থেকে নফসে মুতমাইন্নাওয়ালা প্রেমিক মানুষ হওয়ার সাধনা করি? ক’জনইবা আত্মায় তাকওয়ার বীজ বপন করে জীবনব্যাপী পরিচর্যার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হতে পারি? হে প্রিয় পাঠক, আজ আপনার আত্মায় যে তাকওয়া বীজ বুনেছি, তা যেন অযতেœ-অবহেলায়, আগাছার আক্রমণে নষ্ট হয়ে না যায়। তাহলে সত্যিই আমার আপনার চেয়ে বড় হতভাগা আর কেউই হবে না।

বলছিলাম, তাকওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার মাস রমজান নিয়ে কথা। অনেকেই মনে করেন, রোজা রাখলেই মানুষ মুত্তাকি হয়ে যাবে। আসলে তা নয়। রোজা মানুষকে মুত্তাকি হওয়ার জন্য প্রস্তুত করে মাত্র। রোজা হল তাকওয়ার ট্রেনিং। যে যত ভালো ট্রেনিং নেবে, সে তত বেশি মুত্তাকি ও প্রেমিক হওয়ার সুযোগ পাবে। আনুষ্ঠানিক রোজা তো মাত্র এক মাস, কিন্তু মোমিন থেকে প্রেমিক মুত্তাকি হওয়ার সাধনা বারো মাস। এক জীবন এ সাধনা করেই আমাদের পৌঁছতে হবে ‘প্রশান্ত আত্মার প্রশান্তিময় জান্নাতে’। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সিয়ামকে কবুল করুন। আপনি আমাদের দয়া করুন।

লেখক :  হাফেজ আহমাদ উল্লাহ

সাংবাদিক ও শিশুসাহিত্যিক।

সূত্র : যুগান্তর

মতামত...