,

ফণী আতংকে সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসী, নেই পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র

এম,জুবাইর হোছাইন, সেন্টমার্টিন থেকে ::

নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের পট ভুমি প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের মধ্য ফণীর আতংক বিরাজ করেছে। সরকারী ভাবে মাএ ২টি সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের বুকে সেন্টমার্টিন সাইক্লোন সেন্টারে পর্যাপ্ত লোকের স্হান না থাকায় দ্বীপের লোকজন বিভিন্ন দুর্যোগে নিজ বাড়িতে আবাসিক হোটেলে আশ্রয় নেন।

জানা যায় টেকনাফ হইতে ৪৮ কিলোমিটার দুরে সেন্টমার্টিন।মুল ভূ খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার। প্রায় ১০ হাজার লোকের বসতি। বিভিন্ন গ্রাম ও ৯ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ। দ্বীপবাসীর শিক্ষা ব্যাবস্হা উন্নয়ন, প্রাথমিক শিক্ষা পাঠদান নিমিত্তে যে কোন দূর্যোগে আশ্রয় পাওয়ার জন্য ১৯৯৩ সালে পশ্চিম পাড়ায় সৌদী অনুদানে ফ্যাসিলিটিস কর্তৃক নির্মিত এবং পরবর্তি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কর্তৃক নির্মিত সেন্টমার্টিন আশ্রয় কেন্দ্রের পাশে দুই তলা বিশিষ্ট সাইক্লোন সেন্টার। সেখানে নিচতলা খোলা এবং ২য় তলায় সীমিত সংখ্যক লোকের জন্য ব্যাবহারের উপযোগী।সেহেতু দ্বীপবাসী দূর্যোগের সময় সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। অতীতে দুর্যোগের সময় সরকারী অফিস ও বিভিন্ন হোটেল দ্বীপের বাসিন্দার জন্য আশ্রয় স্হল। ভবিষ্যতে ও দুর্যোগের সময় একমাএ ভরসা আবাসিক হোটেল ও সরকারী অফিসালয়।
সেন্টমার্টিনে বিভিন্ন বোট ইতিমধ্যে নিরাপদ স্হানের জন্য টেকনাফ ঘাটে অবস্হান করেছেন।

সেন্টমার্টিন ডেইল পাড়ার বাসিন্দা মাওলানা উছমান গনি জানান আমার আসল বাড়িতে জোয়ার ভাটা।আমাদের গ্রাম ১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালে সাগরের বুকে বিলীন।প্রতিনিয়ত দূর্যোগকালে পর্যাপ্ত পরিমান সাইক্লোন সেন্টার না থাকায় বাড়িতে বা পরিচিত হোটেলে আশ্রয় গ্রহন করি।

সেন্টমার্টিন ঘুর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসুচির ইউনিয়ন টিম লিডার ছৈয়দ আলম জানান ফণীর আক্রমন থেক রেহাই পাওয়ার জন্য ১ তারিখ থেকে মাইকিং দিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য সি পি পির ৫ টি টিম ৫ নারী সহ৭৫ জন পুরুষ পুরো দ্বীপে কাজ করে যাচ্ছে।

সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক এম,এ রহিম জিহাদী জানান উপযুক্ত আবাসিক হোটেল গুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা সেবা দিতে বদ্ধ পরিকর।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিযদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ জানান সেন্টমার্টিনে সরকারী ২ টি সাইক্লোন ছাড়া ও নৌবাহিনি ফরওয়ার্ড বেইজ,সেন্টমার্টিন কোস্ট গার্ডের বাংলো,সেন্টমার্টিন ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল,জেলা পরিযদের ডাক বাংলো,সেন্টমার্টিনে অবস্হিত আবাসিক হোটেলে প্রায়৪হাজার লোক আশ্রয় নিতে পারবেন। সেন্টমার্টিনে অবস্হিত আবাসিক হোটেলের মালিকদেরকে হোটেল খুলে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।সর্বদা ফণীর পর্যবেক্ষণে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিযদ।

সরেজমিনে দেখা যায় বিদ্যামান ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্টিত সাইক্লোন সেন্টারে ৩য় তলায় সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাড়ীর সদস্যগন ব্যাবহার করেন।অন্যটি জরাজীর্ন অবস্হা বিরাজ করেছে। সৃষ্ট ফণীর আঘাত থেকে রক্ষা পেতে সেন্টমার্টিনে বিভিন্ন বোট নিরাপদ স্হানে সংরক্কনে রেখেছেন। এবং কিছু বোট টেকনাফের খায়ুক খালী ঘাটে নোঙ্গরে আছেন বলে জানা গেছে।

দ্বীপের শেষ গ্রামের নাম দক্ষিণ পাড়া।গ্রামের বাসিন্দাদের কাছাকাছি কোন সাইক্লোন সেন্টার না থাকায় প্রতিনিয়ত তাদের মধ্যে ফণীর আতংক বিরাজ করেছে।

দূর্যোগ কবলিত এলাকা হওয়ায় দ্রুত পর্যাপ্ত পরিমান দক্ষিণ পাড়া,গলাচিপা, (নজরুল পাড়া). পুর্ব পাড়া, ডেইল পাড়া সহ তদন্তের মাধ্যমে সু নির্দিষ্ট স্হানে আরো সাইক্লোন সেন্টার নির্মানে আবেদন জানাচ্ছেন দ্বীপ বাসী।এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪ নং সতর্ক সংকেত বহাল আছেন। দ্বীপে স্বাভাবিক অবস্হা বিরাজমান।

মতামত...