,

খলীফায়ে ফক্বীহুল মিল্লাত, দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস, আল্লামা মুফতি জামিল আহমদের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন


মুফতি কিফায়তুল্লাহ শফিক ::
বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দ এর সিনিয়র মুহাদ্দিস ফক্বীহুল মিল্লাত আল্লামা মুফতি আবদুর রহমান সাহেব (রহ.) এর অন্যতম খলীফা, আশরাফুল হিদায়াসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের কালজয়ী লেখক পীরে কামিল আলল্লামা মুফতি জামিল আহমদ সাকরোটী (রহ.) গতকাল বিকাল সোয়া ৫টায় ইন্তিকাল করেন এবং আজ ১ লা এপ্রিল মরহুমের জানযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আজ সোমবার সকাল ৯ টার সময় দারুল উলূম দেওবন্দ এর মুনসরী প্রাঙ্গনে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়, তার জানাযায় ইমামতি করেন দারুল উলূমের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস সদরে জমিয়্যত আল্লামা কারী সৈয়্যদ উছমান মানসুর পূরী দামত বারকাতুহুম। দারুল উলূম দেওবন্দ সংলগ্ন মাকবারায়ে কাসেমী তথা কাসেমী গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
দারুল উলূম দেওবন্দ, ওয়াক্বফ দেওবন্দ, দারুল উলূম শেখ যাকারিয়াসহ প্রতিবেশী প্রায় সকল দ্বীনি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক সহ মরহুমের নিজ জন্মভূমি সাকরোটবাসী ও দেশ ব্যাপী অগণিত ভক্ত-অনুরক্ত মুসলমান শরীক হয়েছেন তার জানাযায়।
দারুল উলূম সূত্রে জানা গেছে, মরহুম মুফতি জমিল আহমদ সাহেব (রহ.) দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার রোগে ভোগছিলেন। ভারতের বিখ্যাত হাসপাতাল সমূহে তার চিকিৎসা অব্যাহত ছিল। সব শেষে দিল্লির জিটিবি হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় প্রায় ৭০ বছর বয়সে গতকাল ৩১ শে মার্চ ৫টার সময় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দারুল উলূম সূত্রে আরো জানা গেছে, তিনি ১৯৪৬ সালে ভারতের বরিদওয়ার জেলার সাকরোট এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। জামিয়া কাশেফুল উলূম চাটমল পুর, মুজাহেরুল ঊলূম সাহারানপুর ও দারুল উলূম দেওবন্দে দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করে ১৯৭০ সালে দাওরা-ই হাদীস শরীফ সমাপ্ত করেন।
মরহুম মুফতি সাহেব (রহ) একজন অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র মনের মানুষ ছিলেন, বড়দের প্রতি সম্মান ছোটদের প্রতি স্নেহ তার জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। তার ছাত্রগণ তার প্রতি সীমাহীন অনুরাগী ছিল। তার ক্লাস সমূহ ছাত্রদের মধ্যে বড় আকর্ষণীয় ছিল। প্রায় অর্ধশত যাবৎ তিনি কুরআন সুন্নাহ’র শিক্ষা প্রদানে নিয়োজিত ছিলেন। জামিয়া কাশেফুল উলূম চাটমহল পুর, দারুল উলূম ওয়াক্বফ দেওবন্দ ও দারুল উলূম দেওবন্দে তিনি শিক্ষকতা করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি নিয়মিত ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি নিজেকে লেখা-লেখিতেও আত্মনিয়োগ করেন।
ফলে আজ আশরাফুল হিদায়া, আজমালুল হাওয়াশী, ফয়জে সুবহানী, তাকমীলুল আমানী, কূতুল আখয়ার প্রভৃতি কিতাব সর্ব মহলে পরিচিত ও সমাদৃত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও তিন ছেলে যথাক্রমে-হাফেজ খলীল, মাওলানা আবদুল্লাহ ও হাফেজ আবদুর রহমান সহ অসংখ্য ছাত্র ও ভক্ত-অনুরক্ত রেখে গেছেন।
তার ইন্তিকালে দারুল উলূম দেওবন্দ এর মুহতামিম শায়খুল ইসলাম আল্লামা আবুল কাসেম নোমানী, দারুল উলূম ওয়াক্বফ দেওবন্দ এর মুহতামিম আল্লামা মুহাম্মদ সুফয়ান কাসেমী , জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ এর চেয়ারম্যান আল্লামা আরশাদ মাদানী, সেক্রেটারী আল্লামা মাহমূদ মাদানী, দারুল উলূম যাকারিয়ার মুহতামিম আল্লামা মুফতি শরীফ খান কাসেমী, জামিয়া মোজাহেরুল উলূমের আল্লামা সৈয়্যদ শাহেদ হাসানী, আল্লামা হাকীম আবদুল্লাহ গায়ছী, আল্লামা নদীম আল ওয়াজেদী, আল্লামা হাসান হাশেমী , আল্লামা নাসীম প্রমুখ গভীর শোক প্রকাশ করে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

জানাযার একাংশ

মতামত...