,

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সারাদেশের ন্যায় দলীয় প্রতীকে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩য়ধাপে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু হচ্ছে। এইবারের নির্বাচন কঠোর নিরাপত্তা, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। এইবারের ভোটারেরা নিজের ভোট নিজে দিয়ে পছন্দের যোগ্য ব্যক্তিকে জননেতা হিসেবে নির্বাচিত করবেন। ফলাফল ঘোষণার পর পরই জানা যাবে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ের হাসি কারা কারা হাসছে।

২৪ মার্চ সকাল ৮টা হতে দেশের ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩য় ধাপের নির্বাচন অন্যান্য স্থানের ন্যায় টেকনাফ উপজেলায় শুরু হচ্ছে। উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নের ৫৫টি ভোট কেন্দ্রের ৩শ ৬৮টি কক্ষে ১লাখ ৪৫ হাজার ৮শ ৮জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ৬শ ৫৭ জন ও নারী ভোটার ৭৩ হাজার ১শ ৫১জন। ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ৫৫জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ৩শ ১৫জন ও পোলিং অফিসার ৬শ ৩০ জন । ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন যাবতীয় প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

এই ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল হাসান বলেন, কঠোর নিরাপত্তা, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের জন্য সার্বক্ষণিক ৩টি ভ্রাম্যমান আদালত, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩টি টিম, ৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ৬প্লাটুন বিজিবি ও পর্যাপ্ত পরিমাণ অনসার সদস্য ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। ভোটারেরা কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করার আহবান জানান তিনি।

এই নির্বাচন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি, সাবেক সাংসদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী এবং অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলমের প্রেস্ট্রিজ রক্ষার ইস্যু হয়ে দাড়িয়েছে। হেভিওয়েট ৩ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দিতা আঞ্চলিকতার মর্যাদা রক্ষার লড়াই রূপ নিয়েছে। সার্বিক প্রচারনায় নৌকা প্রতীক এগিয়ে থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি ছুঁড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নকারী চক্র বিশেষ মিশন এবং টাকার খেলায় পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে তৎপর রয়েছে।

গতকাল থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে নানা অপপ্রচারের কারণে নির্বাচনী উত্তাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস প্রার্থীদের কথা ক্রমশ চাপা পড়ছে বলে মনে হলেও ভোট গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীরা অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার পরই জানা যাবে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ের শেষ হাসি কারা কারা হাসছে।
এদিকে মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট খ্যাত টেকনাফে মাদক দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির প্রেক্ষিতে মাদক সংশ্লিষ্টদের বয়কটের দাবী উঠছে। সচেতন মহলের ধারণা এই উপজেলা নির্বাচনেই জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।
অপরদিকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে কতিপয় প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকেরা গোলযোগ সৃষ্টি করে ভোট গ্রহণ ব্যাহত করার অপচেষ্টায় রয়েছে। এই জাতীয় কর্মকান্ড অব্যাহত থাকলে প্রশাসনের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

মতামত...