,

টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ত্রি-মুখী লড়াইয়ের আভাস : ভাইস চেয়ারম্যান পদে জাবেদ ইকবাল চৌধুরী এগিয়ে

আমান উল্লাহ কবির, টেকনাফ ::

আসন্ন টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে টেকনাফে বইছে ভোটের হাওয়া। নির্ঘুম রাত কাটছে প্রার্থীসহ অনুসারীদের। নির্বাচনকে ঘিরে এবার টেকনাফ উপজেলায় নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণ ভোটারের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। একটি পৌরসভা ও ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত টেকনাফ উপজেলা পরিষদ। যার পরিচিতি পর্যটন ও সীমান্ত জনপদ হিসেবে। এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৮ জন। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ১৫১ জন মহিলা ভোটার রয়েছে।
আগামী ২৪ মার্চ টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রচার প্রচারণায় তিনজন চেয়ারম্যান, ৮ জন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ও ৩ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে থাকলেও বড় অপর দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভোটের মাঠে নেই। তাই বিএনপির কোন প্রার্থীও নেই। আওয়ামীলীগ নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্ধী হয়ে গোটা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। ফলে শহরের পাশাপাশি ভোটের রেশ আছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপদেও। তাতে এবার বেশ উৎসুক নতুন তরুণ ভোটাররা। তাদের আলোচনায় যেমন উঠে আসছে কেমন প্রার্থী চায়, তেমনি আছে যোগ্যতা ও পছন্দেরও।
নির্বাচনে নৌকার প্রতীক নিয়ে সাবেক সাংসদ ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী মনোনয়ন পেয়েছেন। নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে দুইজন। তারা হচ্ছে আনারস প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি জাফর আহমদ ও মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলম।
এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদ উম্মুক্ত থাকায় বেশ কয়েকজন প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। এরমধ্যে টেকনাফ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধুরী পালকি প্রতীক, মাইক প্রতীক নিয়ে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মাওঃ রফিক উদ্দিন, চশমা প্রতীক নিয়ে মাওঃ নুরুল হক, টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সরওয়ার আলম, টিয়া পাখি প্রতীক নিয়ে নজরুল ইসলাল, বই প্রতীক নিয়ে ফরিদ আলম, উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে দেলোয়ার হোসেন, তালা প্রতীক নিয়ে মাওঃ ফেরদৌস এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান তাহেরা আক্তার মিলি পদ্মফুল প্রতীক, ফুটবল প্রতীক নিয়ে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিছ বাহার ইউসুফ ও কলসী প্রতীক নিয়ে সমজিদা বেগম প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।
গোটা উপজেলা সরেজমিন ঘুরে সাধারন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করায় ভোটারদের উপস্থিতি কমতে পারে। যদি বিএনপি সমর্থক ভোটার কেন্দ্রমুখী হলে চেয়ারম্যান পদে হাড্ডাহাড্ডি ও ত্রি-মুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামীলীগের ভোটার তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছেন। বিশেষ করে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা কর্মীরা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলমের পক্ষে প্রচারণা করছেন। তেমনি আওয়ামীলীগে দ্বিধাবিভক্তি হয়ে একটি অংশ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর নৌকা প্রতীকের পক্ষে এবং অপর অংশ বর্তমান চেয়ারম্যান জাফর আহমদের আনারস প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন।
তবে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি প্রচারনা ও বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে সাধারন ভোটারদের আকৃষ্ট করছেন। তেমনি ভাবে আনারস প্রতীকের পক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি জহির হোসেন এমএসহ ওয়ার্ডের অনেক সভাপতি/সাধারন সম্পাদক প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার রয়েছে বিরাট ভোট ব্যাংক। এরমধ্যে টেকনাফ সদর, পৌরসভা ও বাহারছড়া ইউনিয়ন। এখানে ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৫৮ হাজার ৫’শ ৪৫ ভোটার। অপরদিকে নৌকা প্রতীকেরও ভোট ব্যাংক রয়েছে। এরমধ্যে হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন। এখানে ভোটার সংখ্যা ৫৬ হাজার ৮’শ ৯৫ ভোটার। এছাড়া সাবরাং, সদরের কিছু অংশ নিয়ে নুরুল আলমের ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে সাধারন ভোটারদের অভিমত। এরমধ্যে সাবরাংয়ের ৩০ হাজার ৩’শ ৬৬ ভোট রয়েছে। তবে সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের প্রচুর তরুণ ভোটার নুরুল আলমের পক্ষে রয়েছেন। ফলে চেয়ারম্যান পদে ত্রি-মুখী ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছেন ভোটাররা। কেউ ধারনা করতে পারছেননা কে হচ্ছেন টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
এদিকে ভাইচ চেয়ারম্যান পদে এবারের পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টেকনাফ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সাংবাদিক জাবেদ ইকবাল চৌধুরী। তিনি পালকি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি গোটা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যেখানে যাচ্ছেন তরুন ভোটারসহ মুরব্বীদের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পাচ্ছেন। তিনি দীর্ঘ ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশপাশি তিনি সাংবাদিকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। প্রচুর অর্থ বৈভব না থাকলে রয়েছে সাধারন মানুষের ভালবাসা। তাই সকলের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন সাংবাদিক জাবেদ ইকবাল চৌধুরী। তিনি সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের আমানত কোনদিন খেয়ানত হতে দেবো না। নির্বাচিত হলে আপনাদের এই আমানতকে যথাযথ মূল্যায় করব। শিক্ষা, মাদকমুক্ত টেকনাফ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তাঘাট উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখব।
হ্নীলার জাদীমুরার মোঃ জোহার নামে এক ভোটার বলেন, জাবেদ ইকবাল চৌধুরী একজন এমএ পাশ শিক্ষিত ও সচেতন ব্যক্তি। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি উপজেলার আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ান। তাই সাধারন মানুষের চাওয়া পাওয়াসহ সুখ দুঃখের বিষয়টি নির্নয় করতে পারবেন।
তাছাড়া সাধারন ভোটারদের মতে, অনেক প্রার্থী ভোটের সময় দেখা গেলেও ভোট শেষ হওয়ার পর স্বপ্নেও দেখা মেলে না। প্রশাসনের সাথে কথা বলতে ভয় পায়। কিন্তু এই জাবেদ ইকবাল চৌধুরী কে সময়ে অসময়ে সব সময় দেখা যায়। তার সাথে কথা বলতে কারো কাছে ধর্ণার প্রয়োজন হয়না। তিনি একজন সাধারণ মানুষ। তিনি নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে পারবেন। তিনি একজন শিক্ষিত এমএ পাস ব্যাক্তি। তার কোনো লোভ নেই। বিগত ১০/১২ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও তার কোন অট্টালিকা, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স নেই। তিনি একজন নির্লোভ মানুষ। জনগণের কাতারে থাকতে তিনি ভালোবাসেন। তাই ভোটাররা এবার পালকি মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা পরিষদের দেখতে চাই। সাধারণ ভোটাররা অধীর আগ্রহে আছেন আগামী ২৪ মার্চ তাকে পালকি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য।
অপরদিকে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এগিয়ে রয়েছেন। তার সাথে সাবেক মহিলা ভাইচ চেয়ারম্যান মিছবাহার ইউসুফের তুমুল প্রতিদ্বন্ধীতা হবে এমন অভিমত সাধারন ভোটারদের।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রমতে, টেকনাফ সদরে ২০ হাজার ৫’শ ২১ জন, বাহারছড়ায় ১৮ হাজার ৫২৫ জন, সেন্টমার্টিনে ৩ হাজার ১০৯ জন, পৌরসভায় ১৯ হাজার ৪৯৮ জন, সাবরাংয়ে ৩০ হাজার ৩৬৬ জন, হ্নীলা ২৫ হাজার ২৫১ জন ও হোয়াইক্যংয়ে ২৮৫৩৫ জন ভোটার রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*