,

আদালতে খালেদা, বাদানুবাদে আইনজীবীরা


খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদের মধ্যে কারাগারে স্থাপিত আদালতে চলল নাইকো দুর্নীতির মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি।

Related Stories

মঙ্গলবার পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে বসেন বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান।

ওই কারাগারে থাকা একমাত্র বন্দি ৭৩ বছর বয়সী খালেদা দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে হুইল চেয়ারে করে আসেন এজলাসে।

কারা কর্তৃপক্ষ আসামিকে হাজির করার দুই মিনিট পর এজলাসে উঠে মামলার কার্যক্রম শুরু করেন বিচারক শেখ হাফিজ; যে মামলাটির অভিযোগ গঠন ১১ বছরেও হয়নি।

শুনানির শুরুতেই দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, “খালেদা জিয়া ছাড়া সকল আসামির চার্জ শুনানি শেষ হয়েছে। গত তারিখে তারা চার্জ শুনানি করতে সময় নিয়েছেন। তারা শুরু করলে আমরা মামলাটির কার্যক্রম শেষ করতে পারব।”

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার তখন জব্দ করা আলামতের কপি না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে শুনানি পেছানোর আবেদন করেন।

তিনি বলেন, “খালেদা জিয়াকে এ মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যেভাবেই সম্পৃক্ত করা হোক তার কাগজ আমাদের দাখিল করা হয়নি। আপনি আদেশ দেওয়ার পরও কপি পাওয়া যায়নি। কাগজ ছাড়া প্রস্তুতি নিতে পারছি না।”

তখন কাজল বলেন, “চার্জ শুনানি করতে আলামত লাগে? আর যেসব পেপার ছিল তা দিয়ে দিয়েছি। খালেদা জিয়া ছাড়া সবাই শুনানি শেষ করেছেন। চার্জ শুনানি হোক, চার্জ গঠন হওয়ার পর তারা ওই কাগজ পাবেন। তার আগেই তারা কাগজ চাচ্ছেন। তাছাড়া আগেও তারা চার্জ শুনানি করেছেন। এখন তারা মামলা বিলম্বিত করার চেষ্টা করছেন।”

বিচারক তখন মাসুদ তালুকদারকে বলেন, “চার বছর ধরে চার্জ শুনানি চলছে। এতদিনেও আপনারা আবেদন করেননি কেন? আর যে আবেদন দিয়েছেন তা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।”

মাসুদ তালুকদার বলেন, “মামলা তৈরিতে গোঁজামিল আছে। সেজন্য আমাদের কাগজপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে না।”

বিচারক তখন খালেদার আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, তারা অভিযোগ গঠনের শুনানি করবেন কি না?

মাসুদ তালুকদার বলেন, “কাগজ পেলে আমরা শুনানি করব।”

এরপর খালেদার আরেক আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, “এটা একটা গ্রাউন্ডলেস মামলা। কাগজগুলো পেলে আমরা তা দেখাব।”

তখন কাজল বলেন, “এটা গ্রাউন্ডলেস মামলা না। অন্যরা শুনানি করেছে। তারা শুনানি করতে চাচ্ছেন না। মামলাটি ১২ বছরের। মামলা বিলম্বিত করার জন্য তারা শুনানি করছেন না।”

দুই পক্ষের আইনজীবীদের বাদানুবাদের এক পর্যায়ে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

শুনানি শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিএনপির আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, তার হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন দেননি কেন?

তিনি বলেন, “আমি খুব অসুস্থ। তারপরও আমাকে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে।”

বন্দি খালেদা জিয়াকে হাসপাতালেও হুইল চেয়ারে দেখা গিয়েছিল (ফাইল ছবি)

বন্দি খালেদা জিয়াকে হাসপাতালেও হুইল চেয়ারে দেখা গিয়েছিল (ফাইল ছবি)

শুনানি চলাকালে খালেদা জিয়াকে বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা গেছে।

বেলা ১টা ২৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বিএনপি তাদের বন্দি নেতার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা বিএসএমএমইউতে নিতে চাইলেও খালেদা রাজি হননি।

বিএনপি বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদার চিকিৎসা করাতে চাইলেও তাতে সম্মত নয় সরকার।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের পর গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা। এর মধ্যে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায়ও তার বিরুদ্ধে দণ্ডের রায় হয়।

খালেদার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতিসহ কয়েকটি মামলার বিচার কারাগারে আদালতে বসিয়ে চলছে।

নাইকো দুর্নীতির মামলাটি দায়ের করা হয় ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলমের তেজগাঁও থানায় করা এই মামলায় ২০০৮ সালের ৫ মে ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের সহকারী পরিচালক এসএম সাহেদুর রহমান।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে করা এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

জার্মানিতে চিকিৎসাধীন মওদুদ আহমদের পক্ষে মঙ্গলবার সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে।

গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে লক্ষ্মীপুরের কারাগার থেকে আদালত হাজির করা হয়। তিনি আবেদন করেন, তাকে যেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার, নারায়ণগঞ্জ অথবা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

এ বিষয়ে বিচারক পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

মতামত...