,

বস্তাভর্তি ব্যালট, কুয়েত মৈত্রী হলে ৩ ঘণ্টা পর ভোট শুরু


  • আলো নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম 

bdnews24

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বস্তাভর্তি ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট শুরু হয়েছে তিন ঘণ্টা দেরিতে।

এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, বেলা ১১টা ১০ মিনিটে কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরু করেছেন তারা, চলবে বিকাল পাঁচটা ১০ মিনিট পর্যন্ত।

এদিকে ভোটে অনিয়মের ঘটনায় হলের ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষকে সরিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি ‘তথ্যানুসন্ধান কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে একসঙ্গে ভোট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তায় ভরা ভোটের চিহ্ন দেওয়া ব্যালট পেপার পাওয়া গেলে সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ।   

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ সেখানে গেলে হলের গেইটে তাদের ঘিরে ধরে ভোট বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে হলে পুলিশ ঢোকার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের বাধায় তারা ফিরে যায়।

হল সংসদ নির্বাচনের বিপুল পরিমাণ ব্যালট দেখিয়ে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, আগের রাতেই এসব ব্যালটে ‘ক্রস চিহ্ন’ দিয়ে ভোটের চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে। যেসব নামে ভোটের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে সেগুলো ছাত্রলীগের হল প্যানেলের প্রার্থীদের।

কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের ভিপি পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুন্নাহার পলি অভিযোগ করেন, হলের মিলনায়তনের পাশে রিডিং রুমে বসে ব্যালটে ভোটের চিহ্ন দেওয়া হচ্ছিল।

“ভেতর থেকে দরজায় ছিটকিনি দিয়ে ভেতরে বসে এগুলো করছিল। ওই রুমে বসে সিল মারছিল। আমরা সাড়ে ৭টার দিকে ম্যামকে বলেছিলাম ‘ম্যাম আমরা দেখব ব্যালট বাক্স খালি কিনা। তিনি কিছুতেই দেখাবেন না। উনি বলেন, প্রক্টর স্যার এসে দেখাবেন।

“প্রক্টর স্যার এসে বললেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সব দেখাব। এটা বলে তিনি ওই রুমে নিয়ে গিয়ে ছিটকিনি দিয়ে দিয়েছেন। আমরা দরজা ধাক্কাচ্ছি, কিছুতেই খোলে না। যখন দরজা খুললো, আমরা ভেতরে গিয়ে দেখি বস্তাভর্তি ব্যালট পেপার।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল মিলিয়ে ভোটার রয়েছেন মোট ৪৩ হাজার ২৫৫ জন। এর মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটার ১৯৬৯ জন।

ডাকসুর জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফুর রহমান অভিযোগ করেন, উদ্ধার হওয়া সবগুলো ব্যালটে ‘একই প্যানেলের’ প্রার্থীর নামে ভোটের চিহ্ন দেওয়া।

“এগুলো আগের রাতেই মেরে রাখা হয়েছে। আমরা ভোটগ্রহণ স্থগিতের দাবি জানাচ্ছি।”

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ অনিয়মে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

পরে বেলা ১০টার দিকে প্রক্টর গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের জানান, কুয়েত মৈত্রী হলের ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. শবনম জাহানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তার বদলে ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীনকে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় উপ-উপাচার্য  (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি ‘তথ্যানুসন্ধান কমিটি’ করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে শান্ত করেন এবং নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

মতামত...