,

খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে আনা হচ্ছে না

যুগান্তর :

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেজন্য তাকে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে আনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিএসএমএমইউর পরিচালক আব্দুল্লাহ আল হারুন।

রোববার দুপুরে বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকের সামনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন যে, আজকে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ-তে আনা হচ্ছে না। আমরা খালেদা জিয়াকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলাম, মেডিক্যাল বোর্ড প্রস্তুত ছিল, কেবিনও প্রস্তুত ছিল।

এর কিছুক্ষণ আগে রোববার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে যাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

এরও আগে সকালে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে আনা হবে জানিয়েছিলেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন।তিনি বলেন, আমাদের সব রকম প্রস্তুতি আছে।

সকাল থেকেই হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৬২১ ও ৬২২ নম্বর কেবিনটি সাফ-সুতরো করে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড নিয়ে কেবিন ব্লক ঘুরে দেখেন হাসপাতালের পরিচালক। হাসপাতাল ঘিরে নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

কিন্তু ‍দুপুরে বিএসএমএমইউ পরিচালক সংবাদ সম্মেলনে জানান, খালেদা জিয়াকে হাসপাতালতে আনা হচ্ছে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আসবেন বলে আমাদেরকে কারা কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তার জন্য একটি কেবিন ও মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা প্রস্তুত ছিল। কিছুক্ষণ আগে কারা কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হল তিনি আজ আসছেন না।

বিএসএমএমইউ পরিচালকের বক্তব্যের পর বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের আহ্বায়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। হুইল চেয়ারে বসার যে পাদানি থাকে, সেখানেও ঠিক মতো বসতে পারেন না। তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসক এফএম সিদ্দিকী কারাগারে গিয়েছিলেন। সেখানে স্পষ্ট করে বলেছেন, বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়ার যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আছে, তাদের অধীনে চিকিৎসা নিতে। তাকে বিএসএমইউতেই আনতে হবে এমন তো কথা নেই।’

ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার আরও বলেন, ‘এদেশে অনেকেই আছেন যারা প্যারোলে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, এখনও যাচ্ছেন।’

খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য প্যারোলের আবেদন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি প্যারোলে মুক্তি নিতে যাবেন কিনা সেটা তার ব্যাপার। তিনি তো দেশেই চিকিৎসা পাচ্ছেন না, প্যারোলে মুক্তি তো পরের কথা।’

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়ে আসছে, জেল কোড অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছে।

আজ রোববার প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তিনি সোজা হয়ে বসতে পারছেন না। এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, দ্বিতীয় দফা চিকিৎসা শেষে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়ার পর তিন মাসের বেশি সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কোনো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এর দুদিন আগে আদালতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তখন খালেদা জিয়া তাকে জানিয়েছিলেন, তার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিতে গত মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির সিনিয়র নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

এর আগে গত বছরের ২২ এপ্রিল ও ৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

তিনবারই তারা বেগম জিয়াকে রাজধানীর একটি অভিজাত হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছিলেন।

বিএনপি শুরু থেকেই খালেদা জিয়াকে রাজধানীর একটি অত্যাধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি করে আসছে। তবে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী, খালেদা জিয়াকে গত বছরের ৭ অক্টোবর বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়।

প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে ফের তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়। তখন বিএনপি অভিযোগ করেছিল, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়েই হাসপাতালে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

মতামত...