,

ইয়াবা কারবারী ইউপি সদস্যের আঁকুতি ‘জীবন ভিক্ষা দিন, মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দেব’

আমান উল্লাহ কবির, টেকনাফ ::
মুখে হাসি, চেহারায় খুশির আমেজ। টগবগিয়ে মঞ্চে উঠলেন ইয়াবা কারবারিরা। তাদের রজনীগন্ধায় ফুলেল শুভেচ্ছা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহা পরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। একদিকে হাজার হাজার মানুষের করতালি। অপরদিকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন ১০২ ইয়াবা কারবারি। সীমান্ত নগরী টেকনাফে দেশের প্রথমবারের মত মাদককারবারিদের আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে এই দৃশ্য সবার নজর কেড়েছে। উপস্থিত কয়েকজন দর্শক জানান, ইয়াবা কারবারিদের মধ্যে কোন ধরনের অনুশোচনা নেই, তারা ইয়াবা ছাড়তে নই, মনে হচ্ছে প্রাণ বাঁচানোর জন্য নিজেদের সমর্পন করেছেন। আত্মসমর্পনকারিদের মধ্যে গোটি কয়েক শীর্ষ ইয়াবা কারবারি থাকলেও বাকীরা চুনোপুটি বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। তবে মঞ্চের মধ্যে সবার নজর কেড়েছে টেকনাফ সদরের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য এনামুল হক। তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত ভাবে কিছু বলতে চাচ্ছিনা, আমি সেই এনাম, ২০১৬ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমার সংসার তছনছ করে ফেলেছে একটি মহল। আমাকে বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে। যাহা সত্য নই, এব্যাপারে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে কয়েকটি আবেদন করেছিলাম’। ইনশআল্লাহ আমি ঘোষনা দিচ্ছি, টেকনাফকে আমরা মাদকমুক্ত করব’। টেকনাফ আমাদের সীমান্ত এলাকা, এই সীমান্তে জম্ম নেওয়াটাই আমাদের পাপ হয়ে গেছে’। সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে এনাম বলেন, আমাকে বিভিন্ন ভাবে পত্রিকার হেডলাইন করা হয়েছে, যেখানে আমার রাজ প্রাসাদ বাড়ী, ব্যাংক ব্যালেন্স, কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। আপনারা জাতির বিবেক, কলম সৈনিক। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে একজন মানুষ সুন্দর জীবন গড়তে পারে। নিরপরাধ মানুষকে অপরাধী বানাতেও পারে। আমি সীমান্ত এলাকার একজন কৃতি ফুটবলার ছিলাম। আমি কি একজন ইয়াবা গডফাদার নাকি একজন সাধারন এনাম। পরিশেষে তিনি সরকারের কাছে আঁকুতি জানিয়ে বলেন, জীবনে অনেক অন্যায় করেছি, আর করবনা, আমাদের প্রথমবার একটি জীবন ভিক্ষা দিন, মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দেব’।
শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মাদক কারবারিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা উপলক্ষে আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে এসব কথাগুলো তার প্রতিক্রিয়া বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও প্রধান আলোচক ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর। উক্ত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০২ জন ইয়াবাকারবারি আত্মসমর্পণ করেছেন। এর মধ্যে ২৯ জন ইয়াবা গডফাদারও রয়েছেন। আত্মসমর্পণকালে তারা ৩ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ও ৩০টি দেশীয় পিস্তল জমা দিয়েছেন। আত্মসমর্পণের পর দুটি মামলা দেখিয়ে তাদেরকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নুরুল বশর জানান, আমরা টেকনাফবাসী মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে চাই। টেকনাফের মানুষ এই কলঙ্ক নিয়ে মরতে চাইনা। তবে এই মাদকের জন্য যারা মুল হর্তাকর্তা ও মুল ব্যক্তি প্রথমে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হউক। আত্মসমর্পনের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় এনে সোপর্দ করা উচিত ছিল। চুনোপুটিদের আইনের আওতায় আনা হলেও গডফাদাররা বাইরে থাকায় টেকনাফবাসী হতাশ। এই আত্মসমর্পনের মাধ্যমে টেকনাফকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত করব। এই অনুষ্ঠানের পর থেকে সফলতা বুঝতে পারব। আমরা টেকনাফবাসী মাদকের কবল থেকে মুক্ত হতে পারব কি পারবনা।

মতামত...