,

দেড় শতাধিক ইয়াবা কারবারীদের আত্মসমর্পন

*টেকনাফ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল*

আমান উল্লাহ কবির, টেকনাফ :::
১৬ ফেব্রুয়ারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত টেকনাফের দেড় শতাধিক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন। টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সকাল ১০ টায় এ আনুষ্ঠানিকতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানকে ঘিরে মঞ্চ তৈরী, মাইকিংসহ মাদক বিরুধী বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে ইয়াবার প্রবেশদ্বার খ্যাত টেকনাফেই অবশেষে দেড় শতাধিক ইয়াবা কারবারির মধ্য দিয়ে আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানের খবর প্রচার হওয়ায় সীমান্ত নগরী টেকনাফের মানুষের মাঝে কৌতুহল ও নানা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। আলোচনা চলছে সর্বত্র শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল করিমসহ আরো কয়েক ব্যাক্তিকে ঘিরে। তারা শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পন করবে কি না তা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে চলছে নানান বিশ্লেষণ। এরই মধ্যে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল করিম পুলিশ হেফাজতে চলে গেছে এমন খবর চাউর হয়ে গেছে। এছাড়া সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইয়াবা সম্পৃক্ত একটি চক্র তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে এবং সরকারের আত্মসমর্পন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারায় রয়েছে বলে দাবী করেন।
এছাড়াও মাদক ইয়াবায় অর্জিত টাকা, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে কিনা তা নিয়েও সাধারণ মহলের মধ্যে চলছে আলোচনা।
এদিকে অনেক জনপ্রতিনিধি ও রাঘববোয়াল ইয়াবা কারবারিরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পনের জন্য পুলিশ সেফহোমে চলে গেলেও তালিকায় শীর্ষে থাকা কয়েকজন এখনো গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। তারাও সুযোগ বুঝে আত্মসমর্পন করবেন বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। স্বেচ্ছায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহী এসব ইয়াবা কারবারিদের ডাকে সাড়া দিয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এইসব ইয়াবা কারবারীরা আত্মসমর্পণ করবে। দীর্ঘদিন এ ব্যবসা থেকে অর্জন করা অর্থের লোভ ত্যাগ করে দেড় শতাধিক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি ইয়াবার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে নামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ইতিমধ্যে এই অভিযানে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি’র সাথে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ইয়াবা পাচারকারীদের মৃত্যুর হারও বাড়তে থাকে। এতে মৃত্যু শংকায় অনেক ইয়াবা পাচারকারী স্বপ্রণোদিত হয়েই আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। বিদেশ থেকেও ফিরে এসেছে অনেকেই।
চলমান মাদক বিরোধী অভিযানেও ধরা পড়ছে মাদকের ছোটবড় চালান। এসময় ক্রসফায়ারে মাদক চোরাকারবারি নিহতের ঘটনাও ঘটছে। প্রাণ বাঁচাতে টেকনাফের ইয়াবা কারবারিদের একটি অংশ ‘আত্মসমর্পণ’ করতে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে গিয়েছে। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণের নির্ধারিত দিন পর্যন্ত এই তালিকা আরো লম্বা হতে পারে। তবে এত কিছুর পরও থেমে নেই ইয়াবা চোরাচালান। বিশাল সীমান্ত এলাকায় অভিযান এবং আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে এই ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অনেকে। প্রতিদিন নতুন নতুন নাম যোগ হচ্ছে এই ব্যবসায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবকটি সংস্থার সমন্বয়ে অভিযানের মাধ্যমে ইয়াবা কারবারিদের রুখতে হবে, এমনটাই দাবী করেছেন সচেতন মহল।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়াটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনলে তিনিও এতে সম্মতি দেন। এরপরই জেলা পুলিশ এ নিয়ে কাজ শুরু করে। ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধান অতিথি থাকবেন। এ ছাড়া সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ অনেকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার জানান, ১৬ ফেব্রুয়া টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাদক কারবারীদের আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠান সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন তিনি।
বন্দুক যুদ্ধে মারা যায় টেকনাফেরই ২৫ জন
গত বছরের ৪ মে থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর প্রায় প্রতিদিনই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এ সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শুধু কক্সবাজারেই ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে টেকনাফে নিহতের সংখ্যা ৩৯ জন। তাদের মধ্যে ২৫ জন টেকনাফের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সর্বশেষ করা ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় ১ হাজার ১৫১ জনের নাম রয়েছে। এরমধ্যে ৭৩ জন প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারি রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকা ওই হালনাগাদ তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ ৩৪ জন সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি এবং বদির ভাই, বোন, ভাগ্নেসহ ২৬ জন আত্মীয়ের নাম রয়েছে। আরেক সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর স্বজনের নামও রয়েছে। রয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের স্বজনদের নামও। তবে উল্লেখিত জনপ্রতিনিধিরা বার বার তাদের স্বজনরা ইয়াবা কারবারে জড়িত নয় বলে দাবী করে আসছে। আত্মসমর্পণ করতে চান ‘ক্রসফায়ারে নিহত’ অনেকের স্বজনও।

মতামত...