,

সরকারি হলো টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় : প্রজ্ঞাপনজারী

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :

একজন নাগরিকের যে’কয়িটি মৌলিক নাগরিক অধিকার রয়েছে, তার মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। শিক্ষার উন্নয়ন ব্যাতীত অন্যান্য উন্নয়ন বৃথা। টেকনাফ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য উপজেলার চেয়ে এটি পশ্চাৎপদ। তৎমধ্যে নারী শিক্ষা একেবারেই অবহেলিত। এ জনপদকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসতে ১৯৮৫ সালে তৎকালীন ইউএনও মোঃ হাসান, সহকারী কমিশনার বজলুর রশিদ, প্রকৌশলী আব্দুল বারীর নিরলস প্রচেষ্টায় টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন সংলগ্ন এলাকায় ১৯৮৬ সালে টেকনাফ এজাহার বালিকা বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। মাত্র ৩৫জন শিক্ষার্থী নিয়ে এর যাত্রা শুরু করে। এর প্রতিষ্ঠাতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক মরহুম এজাহার মিয়া কোম্পানী। অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। প্রতি বছর সাফল্যের সাথে এ প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় সবাইকে বিমোহিত করেছে। নারী শিক্ষা বিস্তারে এ প্রতিষ্ঠানের বেশ অবদান রয়েছে। নারী শিক্ষিত হওয়ায় শিক্ষার হার ক্রমশঃ বৃর্দ্ধি পাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় উচ্চ শিক্ষা অর্জনে স্থাপিত হয়েছে টেকনাফ ডিগ্রি কলেজ। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫০জন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারী করণে জোরালো দাবী উঠলেও স্থানীয় কিছু কায়েমী স্বার্থবাদী ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়নে এর বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে। অতীতে সরকার আসে সরকার যায়, এ প্রতিষ্ঠানটি নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও সরকারী করণের গ্যাডাকলের মধ্যে পড়ে। অবশেষে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে শিক্ষার উন্নয়নে প্রতি উপজেলায় একটি কলেজ ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারী করণের উদ্যোগ নেয়। তারই ফলোশ্রুতিতে ধারাবাহিকভাবে সরকারের শেষ মুহুর্তে ১৫ নভেম্বর টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি সরকারী করণের প্রজ্ঞাপনজারী করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা মন্ত্রনালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ (সরকারী মাধ্যমিক ৩) (রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে) উপসচিব লুৎফুর নাহার এর স্বাক্ষরিত (নং-৩৭.০০.০০০.০৭১.১৫.০০৩.১৮-১৪৪০) ১৫ নভেম্বর ২০১৮ইং হতে ১৬টি বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারী করণের প্রজ্ঞাপনজারী করে। তার মধ্যে ৮ নাম্বারে টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি রয়েছে। বিষয়টি জ্ঞাতার্থে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে অনুলিপি প্রদান পূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ সরকারের আমলে সরকারি করণে টেকনাফের সর্বস্থরের মানুষ স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছে। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক, শিক্ষিকা ও অন্যান্য কর্মচারী বৃন্দ জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ মহৎ উদ্যোগ এবং সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদীর নিরলস প্রচেষ্টা, পৌর মেয়র হাজী মোঃ ইসলাম ও পরিচালনা পর্ষদকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান। ১৯ই নভেম্বর বাদে জুমা টেকনাফ উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ষ্টেশন মসজিদ, টেকনাফ জামিয়া মাদ্রাসা বড় মসজিদ ও মন্দিরে পৃথকভাবে দোয়া মাহফিল ও আর্শিবাদ কামনা করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাংসদ আব্দুর রহমান বদি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এজাহার মিয়া কোম্পানীর প্রতি দোয়া এবং দেশের উন্নয়নের অগ্রগতি ও শান্তি কামনা করে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

মতামত...