,

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সবকিছু ঠিকটাক থাকলে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। প্রথম ধাপে ৩০ পরিবারের ১৫০ জন রোহিঙ্গা যথাসময়ে বান্দরবনের গুমধুম পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার থেকে পর্যায়ক্রমে দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের কথা রয়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের প্রতিদিন ১৫০ জন করে ১৫ দিনে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৫০ রোহিঙ্গা মিয়ানমার যাবে।
বুধবার (১৪ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সবকিছুর প্রস্তুতি শেষ। বৃহস্পতিবারই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। ৩০ পরিবারের ১৫০ রোহিঙ্গা মিয়ানমার যাবে। দুপুরের দিকে এ কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন,‘আমরা রোহিঙ্গাদের ঘুমধুমের ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে যাব। সেখান থেকে মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলবে।’
এদিকে টেকনাফস্থ কেরুনতলী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে বুধবার সকালে ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যাবাসনের জন্য অত্র কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে কোন রোহিঙ্গাকে এখানে নিয়ে আসা হয়নি। নয়াপাড়া শরণাথী ক্যাম্প ইনচার্জ আব্দুল হান্নান কেরুনতলী প্রত্যাবাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বুধবার দুপুরে।
এবিষয়ে টেকনাফ নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুল হান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে কয়েকজন রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে পেলে মিয়ানমারে ফিরতে চাই। তাদের অধিকারের মধ্যে রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, নাগরিকত্ব প্রদান, হত্যা ও ধর্ষনের বিচার, নিজেদের ভিটে-জমি ফিরিয়ে দেওয়া অন্যতম।
নয়াপাড়াস্থ শালবনে (ক্যাম্প নং- ২৬) এর ডি নাইন ব্লকের রোহিঙ্গা রশিদ আহমদের পুত্র মৌলভী মোঃ আয়ুব জানান, “আমরা বাংলাদেশ সরকারকে বিশ্বাস করি, আমরা রোহিঙ্গা, আমরা বাঙ্গালী নয়” সুষ্টু পরিবেশ থাকলে এবং রোহিঙ্গা ও নাগরিকক্ত প্রদান করলে স্বেচ্ছায় ফিরে যাব।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ এবং মায়ানমার একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে উভয় দেশ ঐকমত্যে পৌঁছে স্মারকটিতে স্বাক্ষর করেছিল। সেই স্মারকের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ামারের কাছে ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পাঠায়। যাচাই-বাছাই শেষে মিয়ানমার ওই তালিকা থেকে ৫ হাজার ৫শ জনকে প্রত্যাবাসনের ছাড়পত্র দেয়। সেই ছাড়পত্রের মধ্য থেকে ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে চায় বাংলাদেশ।

মতামত...