,

টেকনাফে দু’দিনে ৫ লাশ উদ্ধার

আমান উল্লাহ কবির :: 

টেকনাফে পৃৃৃথক ঘটনাায় দুই দিনে এক স্কুল ছাত্র, দুই টমটম চালক ও দুুই মাদক কারবারির লাশ  উদ্ধার করা হয়েছে।

পর পর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় টেকনাফে সাধারন মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা যায়, ২ নভেম্বর জূমাবার সকাল ৭ টারদিকে উপজেলার টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড কচুবনিয়ার জনৈক জিন্নাত আলীর বাড়ির পাশের কালভার্টের  নীচে একটি লাশ দেখতে পায়৷ স্থানীয়রা এসে লাশটি  ছিদ্দিক আহমদের পুত্র জিয়াউর রহমান (২০) বলে সনাক্ত করে ৷

তার মুখ ও বুকে আঘাতের  চিহ্ন রয়েছে৷

নিহত টমটম চালকের পরিবার সুত্র জানায়,গত বুধবার সকালের দিকে ডাক্তারের নিকট যাওয়ার কথা বলে বের হয়েই নিখোঁজ হয়ে যায়৷

এদিকে ১ নভেম্বর টেকনাফে সাবরাং উপকূলীয় বেড়িবাঁধ হতে অপর এক টমটম চালক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ওইদিন সকালে  উপজেলার সাবরাং হারিয়াখালীতে পরিত্যক্ত লাশের খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার এসআই মোঃ ইব্রাহীমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ হারিয়াখালী বেড়িবাঁধে গিয়ে এক যুবকের পরিত্যক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে।

মৃতদেহের শরীরে আঘাতের  চিহ্ন রয়েছে । নিহত যুবক সাবরাং কচুবনিয়ার মৃত জালাল আহমদ বৈদ্যের পুত্র মোঃ হেলাল (১৮) বলে জানা গেছে। সে একজন টমটম চালক ছিল।

অপরদিকে একইদিন বৃহস্পতিবার সন্ধা ৬টার দিকে হারিয়া খালী এলাকায় যে স্থানে টমটম চালক হেলালের লাশ পাওয়া গিয়েছিল তার একটু দুরেই স্কুল ছাত্র ও তার খালতো ভাই মিজানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মিজান সাবরাং কুয়ানছড়ি পাড়া এলাকার মিয়া হোসেনের পুত্র ও চকরিয়া কোরক বিদ্যাপিটের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র। নিখোঁজ মিজানের পিতা সাবরাং কোয়ানছড়ি পাড়া এলাকার মিয়া হোসেন জানান, নিহত হেলাল ও মিজান খালাত ভাই। মিজান চকরিয়া কোরক বিদ্যাপিটের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র। সে দশ-বারোদিন পূর্বে বাড়িতে এসে টেকনাফে বোনের বাড়িতে ছিল। সেখান থেকে দুইদিন আগে কচুবনিয়া এলাকায় খালার বাড়িতে যায়। সর্বশেষ বুধবার রাতে খালাত ভাই হেলাল ও মিজান দুইজনকে একসাথে দেখেছে গ্রামের লোকজন। সকালে হেলালের মৃতদেহ হারিয়াখালী সৈকত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

মিজানের পিতা আরো জানান, মাসখানেক আগে স্থানীয় গনির পুত্র রফিকের স্ত্রী হেলালের সাথে পালিয়ে যায়। পরে রফিকের পরিবারের চাপে তাকে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এঘটনায় হেলালকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল রফিক ও তার ভাইয়েরা। তারই জের ধরে হত্যাকান্ডের এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। হয়তো মিজান সাথে থাকায় তাকেও মেরে ফেলেছে ঘাতকরা।

এছাড়াও শুক্রবার ভোর রাতে টেকনাফে ইয়াবাকারবারীদের সাথে বন্ধুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানায়। পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালালে এক পর্যায়ে মাদককারবারীরা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থল হতে সাদ্দাম হোসেন নামে দুই মাদক কারবারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ২ নভেম্বর ভোররাতে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকা খুরের মুখে দুই দল মাদক কারবারীদের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের খবর পেয়ে পুলিশের বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌছলে মাদক চোরাকারবারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে মাদক চোরাকারবারীরা পিছু হটে। এসময় টেকনাফ
মডেল থানা পুলিশের এসআই আমির হোছন (২৯), কনস্টেবল আব্দু শুক্কুর (২১), মোহাম্মদ সিকান্দর আলী (২৪) ও মেহেদী হাসান (২১) নামে ৪পুলিশ আহত হয়। ঘটনাস্থল তল্লাশী করে দুইটি গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ ৩টি দেশীয় অস্ত্র, ২০ রাউন্ড বুলেট ও ২০ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। মৃতদেহ ২টি উদ্ধারের পর একজন হ্নীলা পূর্ব সিকদার পাড়ার মৃত তোফাইল আহমদের পুত্র সাদ্দাম হোসেন (৩৫) ও অপরজন সাবরাং পূর্ব সিকদার পাড়ার সোলতান আহমদের পুত্র সাদ্দাম হোসেন (৩০) বলে সনাক্ত করে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,
ঘটানস্থল থেকে ২টি গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ, ৩টি দেশীয় অস্ত্র, ২০ রাউন্ড বুলেট ও ২০হাজার উদ্ধার করা হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে৷

মতামত...