,

১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে জেলায় জেলায় স্মারকলিপি দিল ইসলামী আন্দোলন

ডেস্ক নিউজ: :

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫ অক্টোবরের মহাসমাবেশে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার জেলা জেলায় সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে।

দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে এ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়।

১০ দফার মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয়া, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন এবং নির্বাচনের দিন সশস্ত্রবাহিনীর হাতে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান, নির্বাচনে সকল দলের জন্যে সমান সুযোগ তৈরর লক্ষ্যে রেডিও, টিভিসহ সকল সরকারী বেসরকারী গণমাধ্যমে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে এবং রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের হয়রানী বন্ধ, দুর্নীতিবাজদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় সংহতি ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির (চ.জ) নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে গ্রেপ্তারকৃত সকল ছাত্রদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহারসহ গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রণীত বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করার দাবি।

সারাদেশে স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার আবারো ৫ জানুয়ারি মত নির্বাচনের চেষ্টা করছে। নির্বাচনের নামে তামাশা করার সুযোগ সরকারকে দেয়া হবে না। তাই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিল পাশ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন অযোগ্য ও দলীয় আজ্ঞাবহ তাও প্রমাণিত হয়েছে। এই কমিশনের পদত্যাগ এবং নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নিবন্ধিত সকল দলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি।

শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত যেসব জেলা সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর বি-বাড়ীয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বরিশাল, ঝালকাঠী, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ভোলা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, মেহেরপুর, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, রংপুর, বগুড়া, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, মাগুরা, নড়াইল।

ঢাকা জেলার স্মারকলিপি : মিছিলের অনুমতি না দেয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা জেলা শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূমের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মুহাম্মদ ফেরদৌস খানের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বেলা ১টায় স্মারকলিপি প্রদান এ প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের ঢাকা জেলা সহ-সভাপতি আলহাজ্ব হাফেজ জয়নুল আবেদীন, জয়েন্ট সেক্রেটারী অধ্যাপক ডা. কামরুজ্জামান, মাওলানা সালেহ আহমদ, মাওলানা ইলিয়াছ, শ্রমিকনেতা শামীম খান, হাফেজ জহিরুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

কক্সবাজার জেলা ::

অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আহুত ১০ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে রবিবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
দাবী সমূহ হলো-
১. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে।
২. সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে।
৩. বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।
৪. তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পূর্ব পর্যন্ত সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং নির্বাচনের দিন সশস্ত্রবাহিনীর হাতে বিচারিক ক্ষমতা দিতে হবে।
৫. নির্বাচনে সকল দলের জন্যে সমান সুযোগ তৈরী করতে হবে। রেডিও, টিভিসহ সকল সরকারী বেসরকারী গণমাধ্যমে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে এবং রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের হয়রানী বন্ধ করতে হবে।
৬. দুর্নীতিবাজদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।
৭. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।
৮. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় সংহতি ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির (পি.আর) নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।
৯. কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে গ্রেপ্তারকৃত সকল ছাত্রদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
১০. গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রণীত বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে।
জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনটির কক্সবাজার জেলা সিনিয়র সহসভাপতি মাওঃ আবুল হাশেম, সেক্রেটারি কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ শোয়াইব, জেলা শিক্ষক ফোরাম সভাপতি ও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব ডাঃ মোহাম্মদ আমিন, শ্রমিক আন্দোলন সভাপতি আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান, যুব আন্দোলন সভাপতি মোঃ মুস্তাফিজুল হক, ইসলামী আন্দোলনের পৌর সভাপতি জননেতা মাও জাহেদুর রহমান, কামাল উদ্দিন, সাজ্জাদ হোসেন শাওন, আনোয়ার হোসেন, ছাত্র আন্দোলন সহ-সভাপতি মুহাম্মদ কাউসার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ কলিম প্রমুখ।

কর্মসূচি : ১৬ অক্টোবর প্রেসিডেন্টের বরাবর স্মারকলিপি পেশ। ওইদিন সকাল ১০টায় বাইতুল মোকাররম উত্তর গেটে জমায়েতশেষে স্মারকলিপি পেশের উদ্দেশ্যে মিছিল রওয়ানা।

মতামত...