,

ফের গুলিবিদ্ধ লাশ, এবার আপন দুই ভাই

ডেস্ক নিউজ :

নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল থেকে শুক্রবার ভোরে ৩ জনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হল।

এবার যশোরের শার্শা উপজেলার সামটা গ্রামের ফারুক হোসেন (৫০) ও আজিজুল হক (৪৫) নামের আপন দুই ভাই ‘ক্রসফায়ার’ এর  শিকার হয়েছেন। মরদেহ দুটি আজ রোববার সকালে যশোরের শার্শার সামটা গ্রামের মেহগনিতলা ও কেশবপুরে উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। মরদেহ দুটি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছিল।

যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে মরদেহ দুটি শনাক্ত করেন তাদের অপর ভাই সাইদুল ইসলাম।

নিহতদের আরেক ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে আজিজুল ও তার বড় ভাই ফারুক একসঙ্গে বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। রাত দশটা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় তারা খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন জানায়, পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোষাকধারীরা দুই ভাইকে সামটা বাজারের কাছ থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রো বাসে করে তুলে নিয়ে গেছে। এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুই ভাইয়ের খোঁজে অন্য দুই ভাই সাইদুল ও শহিদুল শার্শা থানায় যান। কিন্তু শার্শা থানা পুলিশ এই ধরনের কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান।

পরে বাঁগআচড়া পুলিশ ক্যাম্প ও বেনাপোল পোর্ট থানায়ও খোঁজ খবর নেওয়া হয়।

কিন্তু দুই ভাইয়ের কোন খবর না পেয়ে নির্ঘুম রাত কাটে পরিবারের সদস্যদের।  আজ  রোববার সকালে গ্রামের পাশের একটি মাঠে প্রথমে আজিজুলের এবং পরে  কেশবপর উপজেলার চিংড়ী বাজার সংলগ্ন ধর্মপুর গ্রামের মাঠ থেকে ফারুকের লাশ উদ্ধার দেখায় পুলিশ। স্বজনদের দাবি পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে দুই ভাইকে গুলি করে হত্যার পর লাশ দটি প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরবর্তী দুই এলাকায় ফেলে রেখে পরে উদ্ধার নাটক সাজাচ্ছে। তারা এই হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেন।

তবে পরিবারে এই দাবি ভিত্তিহীন বলে দাবি করে পুলিশ জানিয়েছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মাদক সংক্রান্ত বিরোধে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হতে পারে।

শার্শার বাগআঁচড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রহিম হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, আজিজুল একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সম্ভবত মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে তিনি মারা যেতে পারেন। নিহত আজিজুলের বিরুদ্ধে শার্শা থানা ও বেনাপোল পোর্ট থানায় মাদক সংক্রান্ত ৭-৮টি মামলা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নিহতের আরেক ভাই সাইদুল দাবি করেন, তার ভাই আজিজুল মাটি বিক্রির ব্যবসা করতেন। অনেক আগে বোমা বিস্ফোরণে তার দুটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অপরদিকে, একইদিন সকালে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাড়রদাঁড়ি-চিংড়া সড়কের ধর্মপুর এলাকা থেকে ফারুক হোসেন নামে অপর এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের গলায় একটা দাগ রয়েছে। এটি গুলির দাগ কি না সেটা ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না।

ঘটনাস্থলে থাকা কেশবপুর থানার এসআই ওহিদুজ্জামান জানান, ধর্মপুর থেকে উদ্ধার লাশটির পরিচয় স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ কেউই নিশ্চিত করতে না পারলেও পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিহতদের ভাই সাইদুল লাশটি শনাক্ত করেন।

মতামত...