,

টেকনাফ পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ড উপ-নির্বাচন “নিহত একরামের স্ত্রীকে প্রার্থী চাই ভোটাররা

 গিয়াস উদ্দিন ভুলু,টেকনাফ ::

আগামী ৩ অক্টোবর বুধবার অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে টেকনাফ পৌরসভার বহুল আলোচিত ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পদে উপ-নিবার্চন। কারন গত ২৬মে ২০১৮ অত্র ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হক মাদক পাচারে অভিযুক্ত হয়ে আইনশৃংখলা বাহীনির কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। অত্র ওয়ার্ডটি জনপ্রতিনিধি শুন্য হওয়ায় গত ১লা সেপ্টেম্বর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং অফিসার মোহাম্মদ বশির আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক গন-বিজ্ঞপ্তি থেকে উক্ত ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন অনুষ্টিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর রবিবার মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ। ১০ সেপ্টেম্বর সোমবার মনোনয়ন পত্র বাছাই ও ১৭ সেপ্টেম্বর সোমবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়,আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫ টা পর্যন্ত,প্রতিদিন সকাল ৯ টা হতে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র কক্সবাজার নিবার্চন অফিসে রিটার্নিং অফিসার ও টেকনাফ নিবার্চণ অফিসে সহকারী রিটার্নিং অফিসার হতে সংগ্রহ করা যাবে। উল্লেখ্য গত ২৬ মে রাতে টেকনাফ পৌর সভার তিন বারের নিবার্চিত কাউন্সিলার ও সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে কথিত এক বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হয়। এরপর তার মৃত্যুজনিত কারনে এ পদে উপ-নিবার্চনের তফসিল ঘোষনা করে নিবার্চন কমিশন। এদিকে নিবাচর্নী তফসিল ঘোষনার সাথে সাথে অত্র ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও আবার নড়েচড়ে উঠেছেন। তথ্য সুত্রে জানা যায়, নিহত কাউন্সিলর একরামুল হকের ছোট ভাই এহেতেশামুল হক বাহাদুর এ পদে কাউন্সিলর হওয়ার জন্য লড়বেন। তার প্রতিদন্ধি প্রার্থী হিসাবে মাঠে রয়েছেন অত্র ওয়ার্ড বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রতিদন্ধি প্রার্থী হচ্ছে পঞ্জাবী প্রতীকের সাবেক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী গত বারের প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী মৌলানা আশরাফ আলী। তার পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার ঘোষনা দিয়েছেন অত্র ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদ হোসেন মুন্না। উপ-নির্বাচনে ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মৌলানা আশরাফ আলী বলেন,আমি গতবার অত্র ওয়ার্ডে প্রতিদন্ধি প্রার্থী হয়ে নির্বাচ করেছি। পরাজিত হলেও ২৬৫টি ভোট পেয়েছি। আর কাউন্সিলর একরামুল হক ৪২১ ভোট পেয়ে জয় লাভ করে। তিনি আরো বলেন কাউন্সিলর একরামুল হক যখন মারা গেছে এতে ওনার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। সেই দিকটা বিবেচনা করে ওনার স্ত্রী যদিবনির্বাচন করে আমি প্রার্থী হবো না। এখন শুনতেছি নিহত কাউন্সিলর ছোট ভাই বাহাদুর নির্বাচন করবে। এতে আমিও অত্র এলাকার জনসাধারনের বিপুল সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করার ঘোষনা দিয়েছি। একই ওয়ার্ডের আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী টেকনাফ পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও অত্র ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদ হোসেন মুন্নার বলেন, গত নির্বাচনেও আমি প্রার্থী হয়েছিলাম কিন্তু বন্ধুবর একরামুল হক প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় মুরুব্বীদের কথা রাখতে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছিলাম। তারপর বন্ধু একরামের শুন্যস্থান পুরন করার জন্য যদি তার স্ত্রী প্রার্থী হত তাহলে আমি নির্বাচনে অংশ নিতাম না। তিনি আরো বলেন আমি সরকার দলীয় নেতা সামনে আসছে আগামী জাতীয় নির্বাচন তাই অত্র এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করার জন্য এই উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দিয়েছি। এদিকে টেকনাফ পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ড জনসাধারন ও স্থানীয় সু-শীল সমাজের ব্যাক্তিরা অভিমত প্রকাশ করে বলেন নিহত কাউন্সিলর একরাম নিহত হওয়ার পর তার দুটি মেয়ে ও স্ত্রী খুব অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে, মেয়েরা নিহত বাবার স্মৃতি বুকে কেঁদে কেঁদে দিন কাটাচ্ছে। তাই আমাদের দাবী নিহত কাউন্সিলর একরামুল হকের শুন্যস্থান পুরন করার জন্য তার স্ত্রীকে প্রার্থী করলে আশাকরি উক্ত ওয়ার্ডে বিনা-প্রতিদ্বন্ধিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হবে একরামুল হকের সহধর্মিনী। নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়, ৩ অক্টোবর উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহন করার জন্য ৪ সেপ্টেম্বর একটি মনোয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নিহত কাউন্সিলর ছোট ভাই এহেতেশামুল হক বাহাদুর।####

মতামত...