,

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মংডুতে : দেখছেন রোহিঙ্গা গ্রাম ও সীমান্তের ট্রানজিট ক্যাম্প

ডেস্ক নিউজ ::

অবশেষে রাখাইনে পৌছেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক জয়েন্ট  ওয়ার্কিং গ্রুপের কয়েক জন সদস্য। হেলিকপ্টারে করে দুপুরের তারা সিত্তুয়ে থেকে মংডুর উদ্দেশ্যে রওনা করেন। এই মুহুর্তে সিত্তুয়েতে অবস্থানরত মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমার দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন মানবজমিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারের স্থান সংকুলানের কারণে তিনিসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সফর সঙ্গী অনেকে সিত্তুয়েতে অবস্থান করছেন। তবে মন্ত্রী, সচিব ছাড়াও বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ৫জন সদস্য মংডুতে গেছেন। তার সঙ্গ দিয়েছেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পূণর্বাসনমন্ত্রী। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের প্রস্তুতি সরজমিনে দেখবেন। তাদের সীমান্তের ট্রানজিট ক্যাম্প, প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের প্রি-ফেবরিকেটেড ভিলেজ এবং রোহিঙ্গা অধ্যুষিথ একটি রোহিঙ্গা গ্রামে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিকালে মংডু ফিরছেন এবং স্থানীয় সময় রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৭টা) নাগাদ নেপিডতে ফেরার কথা রয়েছেন। রাজধানী ফিরেই বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ ব্রিফিং বা বিজ্ঞপ্তি প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সফরকারী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক দোলোয়ার হোসেন। উল্লেখ্য, গতকাল নেপিডয় বাংলাদেশ-মিয়ানমার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হটলাইনে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য আলোচনা হবে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের ফেরাতে যে ফরম তৈরি করা হয়েছে তা পূরণ করতে হবে তাদের নিজেদেরই। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অফিস থেকে এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়েছে, বাংলদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আর মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অফিসের মন্ত্রী চাও তিন সোয়ে। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হটলাইনে হটলাইনে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য আলোচনা হবে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়- বৈঠকে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে যে ফরম তৈরি করা হয়েছে, তা আলোচনায় উঠে আসে। তবে এ ফরম রোহিঙ্গাদের নিজেদেরই পূরণ করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত  হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ৯ আগস্ট থেকে মিয়ানমার রয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের আবাসন সুবিধা, চলাফেরা, জীবনযাত্রাসহ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতিও দেখাই প্রতিনিধি দলের সফরে মূখ্য উদ্দেশ্য।

মতামত...