,

আফ্রিকান আর মুসলিমরা বিশ্বকাপ জিতিয়েছে, তাদের ন্যায়বিচার দিন

স্পোর্টস ডেস্ক::

জন্মসূত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরী করা ফরাসী দল বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে বর্ণবৈষম্য ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে ইন্টারনেটে। রোববার ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর পর পর ইসলাম ভীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় মার্কিন লেখক খালেদ বেইদউন বহুজাতিক এই দলের জন্য ‘সুবিচার’ দাবী করে একটি টুইট করেন। টুইটে লেখা ছিল, “বিশ্বকাপ জেতায় ফ্রান্স দলকে অভিনন্দন। ফ্রান্সের ৮০ ভাগ খেলোয়াড় আফ্রিকান, বর্ণবৈষম্য ও বিদেশী ভীতি বর্জন করুন।” আপনার দলের ৫০ ভাগ খেলোয়াড় মুসলিম, ইসলামভীতি ত্যাগ করুন। আফ্রিকান আর মুসলিমরা আপনাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতিয়েছে, এবার তাদের ন্যায়বিচার দিন। তার এই পোস্টটি ১ লক্ষ ৬৩ হাজার বার রিটুইট করা হয়েছে এবং রোববার পোস্ট হওয়ার পর থেকে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার লাইক পেয়েছে।

এবারের ফরাসী দলকে বিশ্বকাপের অন্যতম বহু-সাংস্কৃতিক দল বলা হচ্ছে। ফ্রান্স দলের ২৩ জন খেলোয়াড়ের ১৫ জনই আফ্রিকান বংশদ্ভূত, যাদের অধিকাংশই বিভিন্ন ফরাসী উপনিবেশ থেকে এসেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এমন মন্তব্যও করেছেন যে খেলোয়াড়রা আফ্রিকান বংশদ্ভূত হলেও বাস্তবে প্রত্যেকেই ফরাসী। খেলাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য উপস্থাপন করায় বেইদউন’এর সমালোচনাও করেন অনেকে।

অনেকে ধারণা করছেন এই টুইটের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। সাম্প্রতিক শরণার্থী সঙ্কট আর কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার কারণে ফ্রান্সে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষের সহাবস্থান বিঘ্নিত হয়েছে। এনিয়ে দ্বিতীয়বার ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতলো। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের আগে ফ্রান্সের কট্টর রক্ষণশীল নেতা জাঁ ম্যারি লে’পেঁ আলজেরিয়ান বংশদ্ভূত জিনেদিন জিদান সহ দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের সমালোচনা করেন। তিনি দাবী করেন ঐ দলের খেলোয়াড়দের অনেকেই ‘বিদেশী এবং ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত গায় না।’ তবে এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কট্টর রক্ষণশীল নেতাদের এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। আরেকজন টুইটারে আশা প্রকাশ করেন যে ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ে ফ্রান্সের এই বর্ণবিদ্বেষী মনোভাব পরিবর্তন হবে।

সূত্র : বিবিসি

 

মতামত...